রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন
Uncategorized

সৌদি আরব

  • আপডেট সময় রবিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২১

সৌদি আরবের সরকারী নাম “কিংডম অফ সৌদি আরব”। মধ্যপ্রাচ্য তথা পশ্চিম এশিয়ার সবচেয়ে বড় দেশ সৌদি আরব। আর এশিয়া মহাদেশের পঞ্চম বৃহত্তম দেশ। দেশটির উত্তরে জর্দান ও ইরাক, পূর্বে পারস্য উপসাগরের কূল ঘেঁষে রয়েছে কুয়েত, বাহরাইন, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং দক্ষিণ-পূর্বে ওমান ও দক্ষিণে ইয়েমেন অবস্থিত। পশ্চিমে অবস্থিত লোহিত সাগর, যার ওপারে রয়েছে উত্তর আফ্রিকার দেশ মিসর ও সুদান। সৌদি আরব একমাত্র দেশ যার পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরের উপকূল রয়েছে।

পৃথিবীর ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে সৌদি আরব সব সময়েই একটি কাঙ্খিত গন্তব্য। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর পবিত্র জন্মভুমি, ইসলাম ধর্মের উৎপত্তিস্থল, পবিত্র কুরান শরিফ নাজিল সহ এরকম আরও অনেক কারন রয়েছে যেজন্য মুসলমানদের কাছে সৌদি আরব একটি প্রিয় নাম। এছাড়া পবিত্র মক্কা শরিফ, মদিনা শরিফ এবং পবিত্রও হজ ও উমরাহের মত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারগুলি তো আছেই।

শুধু ধর্মীয় দিক থেকেই নয়, বরং অর্থনৈতিক ভাবেও সৌদি আরব অনেক প্রভাবশালী একটি দেশ। কাজের জন্য হিন্দু, খ্রিস্টান ও মুসলিম সহ নানা ধর্ম ও বর্ণের লোক পাড়ি জমায় এখানে। ভাল পরিবেশ, কর মুক্ত বেতন ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা থাকার কারণে উপমহাদেশ সহ এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা এবং অন্যান্য অঞ্চলের কর্মজীবী মানুষের কাছে সৌদি আরব একটি কাঙ্খিত গন্তব্য।

তাহলে বন্ধুরা চলুন, সৌদি আরব সম্পর্কে আরো কিছু জানা-অজানা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে নেওয়া যাক।

১। আরব ভূখণ্ডে সোয়া লাখ বছর আগে মানববসতি স্থাপিত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। আর আধুনিক মানুষের বসবাস তাও প্রায় ৭৫ হাজার বছর আগে থেকে। তবে আধুনিক সৌদি রাষ্ট্রের জন্ম ১৯৩২ সালে। আবদুল আজিজ ইবনে সৌদি দীর্ঘ যুদ্ধের পর পিতৃপুরুষের হারানো ভূখণ্ড উদ্ধার করেন। ১৯৩২ সালে হেজাজ, নজদ, আল হাসা ও আসির অঞ্চল নিয়ে সৌদি আরব রাষ্ট্রের ঘোষণা দেন আবদুল আজিজ। নিজেই হন নতুন রাজ্যর বাদশাহ। বিস্তীর্ণ ও বিক্ষিপ্ত একটি অঞ্চলকে একত্র করে একই ছাতার নিচে নিয়ে আসার পেছনে আবদুল আজিজের দূরদর্শিতা ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

২। সৌদি আরবে রাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা চালু আছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আবদুল আজিজ ইবনে সৌদের বংশধররা পর্যায়ক্রমে দেশ শাসন করছেন। রাষ্ট্র, সরকার ও সশস্ত্রবাহিনীর সর্বোচ্চ নেতা বাদশাহ। এ ছাড়া সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতেও রাজপরিবারের সদস্য যেমন বাদশাহর ছেলে, ভাই, ভাতিজারা দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী উত্তরাধিকার হিসেবে একজন ক্রাউন প্রিন্স মনোনীত করা হয়।

৩। শাসনব্যবস্থার দিক থেকে সৌদি আরবে ইসলামিক রাষ্ট্রব্যবস্থা চালু। সব আইনের প্রধান উত্‍স কুরআন ও রাসূলের হাদিস। যেকোনো আইন প্রণয়ন হয় এর আলোকেই। কুরআনই দেশটির সংবিধান।

৪। ২১ লাখ ৪৯ হাজার ৬৯০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দেশটিতে প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ মানুষের বসবাস। আয়তনের দিক দিয়ে এটি বিশ্বের ১২ তম বৃহত্তম দেশ।

৫। দেশটির সরকারী ভাষা আরবি। তবে আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ডে ইংরেজি ব্যবহার করা হয়।

৬। ইসলাম হলো সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় ধর্ম এবং এর আইনে অনুসারে দেশটির সকল নাগরিককের মুসলমান হওয়া বাধ্যতামূলক।

৭। রিয়াদ সৌদি আরবের রাজধানী। এবং এটি সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় শহর। এটি নজদ অঞ্চলের আল-রিয়াদ প্রদেশের অংশ এবং আরব উপদ্বীপের মধ্যভাগের মালভূমি অঞ্চলে অবস্থিত। শহরের ৩৫ কি.মি. উত্তরে অবস্থিত বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রিয়াদ শহরের একমাত্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।

৭। বিভিন্ন অপরাধে সৌদি আরবে প্রচুর মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। গড়ে এ সংখ্যা প্রায় প্রতি দুই দিনে একজন করে। এ বছর এখন পর্যন্ত ১৫১ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

৮। সৌদি আরবে কোনো নদী নেই। নদীবিহীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশ এটি।

৯। সৌদি আরবের ৬০ শতাংশ শ্রমিকই বিদেশী। সৌদি আরবের যাবতীয় নির্মাণকাজেই বিদেশিদের অবদান রয়েছে।

১০। সৌদি আরবে তরুণ জনসংখ্যার হার বেশি। ৪৭ শতাংশ জনসংখ্যার বয়স ২৪ বছরের কম। অন্যদিকে ৬০ বছরের উর্ধ্বে জনসংখ্যা মাত্র পাঁচ শতাংশ।

১১। সৌদি আরব সামরিক বাহিনীর পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করে। এটি আফগানিস্তানের মোট জিডিপির চার গুণ বেশি।

১২। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বিশাল একটি উটের বাজার রয়েছে। রিয়াদে প্রতিদিন প্রায় একশ উট বিক্রি হয়।

১৩। বিশ্বে একমাত্র সৌদি আরবেই নারীরা গাড়ি চালাতে পারে না।

১৪। দেশটিতে নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান খুবই উন্নত। নাগরিক সুযোগ-সুবিধার সব কিছুই সরকারিভাবে সরবরাহ করা হয়। মরুভূমির দেশ হওয়ার কারণে পানির স্বল্পতা রয়েছে দেশটিতে। প্রতিটি বাড়িতে পানি পৌঁছে দেয়া হয় সরকারি ব্যবস্থাপনায়।

১৫। দেশটিতে সব শিক্ষাব্যবস্থা বিনা মূল্যের। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার খুব গুরুত্ব দেয়া হয় আরবে। পুরুষদের মধ্যে ৯০ ও নারীদের মধ্যে ৮১ শতাংশ শিক্ষিত।

১৬। মত প্রকাশের স্বাধীনতা দেশটিতে নেই বললেই চলে। সংবাদমাধ্যম ও পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো সবই সরাসরি সরকার নিয়ন্ত্রিত। রাজপরিবারের সমালোচনাকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা হিসেবে দেখা হয়।

১৭। সৌদি আরবের অর্থনীতি মূলত তেলনির্ভর। দেশটির জাতীয় বাজেটের ৭৫ শতাংশ এবং রফতানি আয়ের ৯০ শতাংশ আসে তেল থেকে। সমগ্র বিশ্বের ভূগর্ভের অভ্যন্তরে খনিজ তেলের যে মজুদ রয়েছে তার পাঁচ ভাগের এক ভাগই সৌদি আরবে, পরিমাণে যা ২৬ হাজার কোটি ব্যারেল। তেল ছাড়াও দেশটির রয়েছে গ্যাস ও স্বল্পপরিসরের স্বর্ণখনি।

১৮। সৌদি আরবের সরকারী মুদ্রা সৌদি রিয়াল। ১ সৌদি রিয়াল সমান বাংলাদেশী ২২.৫৪ টাকা এবং ১৮.৮০ ভারতীয় রুপি।

১৯। দেশটির মোট জিডিপি প্রায় ৭৬২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এবং মাথাপিছু আয় প্রায় ২৩ হাজার ৫৬৬ মার্কিন ডলার।

২০। সৌদি আরবের ডায়ালিং কোড হচ্ছে +৯৬৬।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

ভ্রমন সম্পর্কিত সকল নিউজ এবং সব ধরনের তথ্য সবার আগে পেতে, আমাদের সাথে থাকুন এবং আমাদেরকে ফলো করে রাখুন।

© All rights reserved © 2020 cholojaai.net
Theme Customized By ThemesBazar.Com