মঙ্গলবার, ০১ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন

নাগরিকত্ব অর্জন কঠিন হচ্ছে সুইডেনে

  • আপডেট সময় বুধবার, ২৬ মার্চ, ২০২৫

নাগরিকত্ব পাওয়ার শর্ত কঠোর করতে যাচ্ছে সুইডেন৷ নাগরিকত্ব ইস্যুতে ‘অসংখ্য প্রশ্নবিদ্ধ’ সিদ্ধান্তের জের ধরে এমন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে দেশটির সরকার৷

২০ মার্চ সংবাদমাধ্যম ইউরোউইকলি জানিয়েছে, অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে ঢেলে সাজাতেই এমন কঠোর পরিকল্পনা নিয়েছে ইউরোপীয় দেশটি৷

নাগরিকত্ব আইনকে কঠোর করার ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে আছে:

  • দেশটিতে বসবাসের ন্যূনতম মেয়াদ পাঁচ বছর বাড়িয়ে আট বছর করা৷
  • সুইডিশ ভাষা জানা এবং ভাষা দক্ষতার প্রমাণে পরীক্ষায় অংশ নেয়া৷
  • সুইডিশ সংস্কৃতিকে ভালোভাবে জানা এবং তার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়া৷
  • ন্যূনতম মাসিক আবাসন খরচ ছয় হাজার ১৮৬ সুইডিশ ক্রোনা বা ৫৬২ ইউরো করা, যা বাংলাদেশি টাকায় ৭০ হাজার টাকার বেশি৷
  • মাসিক আয় সীমা বাড়িয়ে ২০ হাজার সুইডিশ ক্রোনা বা এক হাজার ৮১৫ ইউরো করা, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় দুই লাখ ৪০ টাকার সমপরিমাণ৷
  • একটি ‘সৎ এবং দায়িত্বশীল জীবনধারা’ নিশ্চিত করা

দেশটির বর্তমান আইন অনুযায়ী নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা ব্যক্তিকে অবশ্যই ‘সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের’ অধিকারী হতে হবে৷ এর অর্থ হলো: কোনো অপরাধ না করা, অনাদায়ী ঋণ পরিশোধ করা এবং দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ওই ব্যক্তিকে যেন সম্ভাব্য হুমকি হিসাবে দেখা না হয়৷

নাগরিকত্ব ইস্যুতে ‘অসংখ্য প্রশ্নবিদ্ধ’ সিদ্ধান্তের আলোকে সরকারি তদন্তের পর এমন প্রস্তাবগুলো উঠে এসেছে৷ এখন, প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে নাগরিকত্ব আইন কঠোর করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সুইডিশ সরকার৷

কঠোর হচ্ছে অভিবাসন নীতিও

আশ্রয়প্রক্রিয়া কঠোর করতেও নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে সুইডেন৷ এগুলোর মধ্যে আছে, আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য অস্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেয়ার সংখ্যা কমিয়ে আনা, পারিবারিক পুনর্মিলনের সুযোগ কঠোর করে সীমিত করা এবং ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের ভিসায় আসা অভিবাসীদের আয় সীমা বাড়ানো৷

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে সুইডেনে আশ্রয় পাওয়া মানুষের সংখ্যা ছিল গত ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম৷ শুধু তাই নয়, গত বছর সুইডেনে আশ্রয় চেয়ে করা আবেদনের সংখ্যাও ছিল ১০ হাজারের কম৷ আর সংখ্যাটি গত তিন দশকের হিসাবে সর্বনিম্ন৷

এছাড়া, সুইডিশ সরকার এমন একটি আইন করার কথা ভাবছে, যার মাধ্যমে একজন আশ্রয়প্রার্থীর আবেদন প্রত্যাখ্যান হওয়ার পর তাকে অবশ্যই সুইডেন ছেড়ে যেতে হবে৷ যদি ছেড়ে না যান, তাহলে ওই আশ্রয়প্রার্থী পুনরায় আর দেশটিতে আশ্রয় চেয়ে আবেদন করতে পারবেন না৷ সুইডেনে একজন আশ্রয়প্রার্থীর আবেদন প্রত্যাখ্যান হলেও তিনি পালিয়ে বা আড়ালে থেকে চার বছর পর আবার আশ্রয় আবেদন করতে পারতেন৷ সেই সুযোগটি বন্ধ করতেই এই আইনটি প্রণয়নের কথা ভাবা হচ্ছে৷

এই আইনটি পাস হলে, প্রত্যাখ্যাত একজন আশ্রয়প্রার্থীকে প্রমাণ দিতে হবে যে তার প্রথম আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যানের পর তিনি সুইডেন ছেড়ে গেছেন৷

অভিবাসীদের সুইডেন ছেড়ে যেতে উৎসাহ যোগাতে ৩৩ হাজার ইউরো পর্যন্ত নগদ প্রণোদনা দেয়ার ঘোষণাও দিয়েছে দেশটির সরকার৷

এ বছরের শুরুতে সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী উল্ফ ক্রিস্টারসন অনিয়মিত অভিবাসীদের জন্য ‘রিটার্ন হাব’ তৈরির প্রতিও সমর্থন দিয়েছেন৷ এর অর্থ হলো, ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার অধিকার নেই এমন অভিবাসীদের, বিশেষত প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের ওই রিটার্ন হাবে পাঠানো এবং নিরাপদ দেশের তালিকা অনুযায়ী আশ্রয়প্রার্থীদের সেখান থেকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হবে৷

অভিবাসীদের সমাজে অন্তর্ভুক্তি

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান বিষয়ক সংস্থা ইউরোস্ট্যাট-এর অভিবাসন এবং অভিবাসী জনসংখ্যা পরিসংখ্যানের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সুইডেনে ১৬ লাখেরও বেশি বেশি তৃতীয় দেশের নাগরিক ছিলেন, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৬ শতাংশ৷ তাদের মধ্যে সিরিয়া, ইরাক, ইরান, সোমালিয়া এবং আফগানিস্তানের নাগরিকদের সংখ্যা বেশি৷

থিঙ্ক ট্যাঙ্ক জিওপলিটিক্যাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসেস (জিআইএস) এর ২০২৪ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, অভিবাসীদের সমাজে অন্তর্ভুক্তিকরণে সুইডিশ নীতির দুর্বলতার কারণে অভিবাসীদের মধ্যে বেকারত্ব বেড়েছে৷ এতে আরো বলা হয়েছে, অভিবাসী শিশুরা এমন স্কুলে যায় যেখানে ‘‘অন্য কোনো শিশু, এমনকি শিক্ষকেরাও সুইডিশ ভাষায় দক্ষ নন৷’’

জিআইএস বলছে, সুইডেনের অভিবাসন ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দেশটির ‘উন্মুক্ত অভিবাসন নীতি’ এবং নতুনদের সমাজে অন্তর্ভুক্ত করার কৌশলের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে৷

ইউরোপীয় কমিশনের তথ্য থেকে দেখা গেছে, ১৪টি ইইউ সদস্য রাষ্ট্রের শরণার্থী অন্তর্ভুক্তিকরণ নীতি পরিমাপকারী ন্যাশনাল ইন্টিগ্রেশন এভায়েলুয়েশন মেকলানিজম (এনআইইএম) এর তালিকায় সুইডেন শীর্ষে রয়েছে৷ দেশটির স্কোর ১০০-তে ৭২ দশমিক ৫৷ ইউরোপীয় কমিশন বলছে, সুইডেন শরণার্থীদের সমাজে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার চেয়ে সহজ পথ বেছে নিয়েছে৷

ইনফো মাইগ্রেন্টস

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

ভ্রমন সম্পর্কিত সকল নিউজ এবং সব ধরনের তথ্য সবার আগে পেতে, আমাদের সাথে থাকুন এবং আমাদেরকে ফলো করে রাখুন।

© All rights reserved © 2020 cholojaai.net
Theme Customized By ThemesBazar.Com