জানা যায়, ভারত, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলোতে এখন আর মেডিক্যাল ভিসার জন্য সরকারি মেডিক্যাল বোর্ড বা স্থানীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সুপারিশ প্রয়োজন হয় না। ফলে রোগীরাও বৈধ পথে বৈদেশিক মুদ্রা নিতে আগ্রহী হয় না। সে কারণে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে হুন্ডি ও অন্যান্য অনানুষ্ঠানিক উপায়ে বৈদেশিক মুদ্রা দেশের বাইরে নেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের অপ্রাতিষ্ঠানিক লেনদেনের প্রবণতাও বাড়ছে। এ ছাড়া অনেকেই ভ্রমণ কোটায় বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে চিকিৎসায় খরচ করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যেহেতু বিদেশে চিকিৎসার ভিসা পেতে এই দুটি শর্ত পূরণের প্রয়োজন হচ্ছে না, তাই নীতিমালায় এগুলো রাখার যৌক্তিকতা আছে কি না, সেটি নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।’
অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও বেসরকারি মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চিকিৎসা বাবদ বিদেশে ডলার নিতে কিছু প্রক্রিয়া আছে। নীতিমালায়ই এ বিষয়ে বলা আছে। প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করলে ব্যাংকগুলো অবশ্যই ডলার ছাড় করতে চাইবে না। সরকারি মেডিক্যাল বোর্ড বা স্থানীয় চিকিৎসকের সুপারিশ পাওয়াও একটা জটিল বিষয়। তাই এগুলো উঠিয়ে দেওয়াই ভালো। এতে মানুষ বৈধ পথে ডলার নিতে আগ্রহী হবে।’
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিদেশে চিকিৎসার সুপারিশসংবলিত প্রত্যয়নপত্র পাওয়া জটিল একটা বিষয়। এ ধরনের সুপারিশ স্থানীয় চিকিৎসকরা করতে চান না। কারণ কাকে সুপারিশ করবেন, সেটা একটা বিষয়। আবার যাকে সুপারিশ করা হলো, তার অধীনে যদি ভুল চিকিৎসায় রোগীর প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, তবে তার দায় সুপারিশকারীর ঘাড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর পরিবর্তে তাঁরা একটি স্টেটমেন্ট লিখে দেন, এই রোগীর এই সমস্যা আছে, যা দিয়ে আসলে বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়করণের শর্ত পূরণ হচ্ছে না। আবার সরকারি মেডিক্যাল বোর্ডের সুপারিশ পাওয়াও কষ্টসাধ্য।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশে যদি সুচিকিৎসা থাকত, চিকিৎসাসেবার মান উন্নত হতো তাহলে মানুষ কিন্তু বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য যেত না। এতে বৈদেশিক মুদ্রারও বহির্গমন হতো না। অন্যদিকে চিকিৎসার ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়করণে জটিল শর্তও কাম্য নয়। মেডিক্যাল বোর্ড বা স্থানীয় চিকিৎসকের সুপারিশ জটিল বিষয়। এগুলো সচরাচর ডাক্তাররা করতে চান না। তাই এগুলো উঠিয়ে দেওয়াই ভালো। এতে অবৈধ পথে বৈদেশিক মুদ্রার বহির্গমন রোধ করাও সম্ভব হবে।’