ইউক্রেনের সাথে যুদ্ধসহ নানা কারণে ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ রাশিয়ার সাথে সরাসরি ফ্লাইট নিষিদ্ধ করেছে। অন্যদিকে, ফ্রি ভিসার সুযোগ থাকার জেরে জাপান ভ্রমণের সুযোগটি লুফে নিচ্ছেন রুশ পর্যটকরা। নতুন ছুটির গন্তব্য হিসেবে ইউরোপের অন্যান্য দেশ ঘুরার চেয়ে এশিয়ার দেশগুলো প্রাধান্য দিচ্ছে রাশিয়ার ভ্রমণ প্রেমীরা। বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মস্কোর ঠাণ্ডা বসন্তের আবহাওয়ায় শত শত মানুষ গরম কোট আর উলের টুপি পরে সাজ্জিত হয়ে সুশৃঙ্খল লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। তবে, তারা কোনো সেলিব্রিটি বা বিশেষ প্রদর্শনী দেখতে লাইনে দাঁড়ায়নি। তাদের লক্ষ্য হলো জাপানের ভিসা সংগ্রহ করা।
বসন্তে চেরি ব্লসম থেকে শুরু করে তুষারাবৃত পাহাড়; জাপানে প্রকৃতির বিভিন্ন ধরনের বৈচিত্র্য দেখতে দেশটির ভিসা সংগ্রহ করতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন রুশ নাগরিকরা।
রুশ পর্যটকদের এই ঢল জাপানের পর্যটন শিল্পকে প্রাণবন্ত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে টোকিও, কিয়োটো এবং হোক্কাইডোর মতো শহরগুলোতে দেখা যাবে রাশিয়ান পর্যটকদের। হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং ট্যুর অপারেটরদের মতো স্থানীয় ব্যবসাগুলো রুশ পর্যটকদের বাড়তি খরচ থেকে লাভবান হবে বলে জানিয়েছেন জাপানিজ ট্যুর কর্মকর্তারা।
এই প্রবণতা রুশ পর্যটকদের ভ্রমণ অভ্যাসে একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যারা ঐতিহ্যগতভাবে ইউরোপকে প্রাধান্য দিতেন। ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব ভ্রমণের বিকল্পগুলোকে প্রভাবিত করতে থাকলে, জাপানের আকর্ষণ একটি আতিথেয়তাপূর্ণ এবং সংস্কৃতিসমৃদ্ধ গন্তব্য হিসেবে আরও বাড়বে বলে মনে করছেন ভ্রমণ বিশ্লেষকরা।
রুশ পর্যটকরা যেভাবে জাপানের দিকে ঝুঁকছেন, তাতে দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই পরিবর্তন শুধু জাপানের পর্যটন শিল্পকে লাভবান করবে না; বরং রাশিয়া ও জাপানের জনগণের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও বোঝাপড়াও বাড়াবে।