মাথার ওপর ছিল না কোনো বড় ছায়া। দিল্লী থেকে মুম্বাই এসে তাই লড়াই ছিল অজস্র। উষালগ্নের ওই জীবনের বেশিরভাগজুড়েই শুধু হতাশা-অপমান। সেই কষ্টই মনের ভেতর রোপণ করে দেয় বড় বড় সংকল্প।পদে পদে ধাক্কা খেতে খেতে দুঃখের সাগরেডুবে থাকা লিকলিকে তরুণ আরব সাগরের তীরে মেরিন ড্রাইভে বসে প্রতিজ্ঞা করে নেন-একদিন এই শহরটা আমার হবে।
শুধু কি শহর? পুরো দেশটাতো বটেই, পৃথিবীর বড় একটা অংশও হয়েছে তাঁর। সেই নামটা কোটি মানুষের হৃদয়ের রাজা বলিউড বাদশা-শাহরুখ খান! পৃথিবীর বহু মানুষের অনুপ্রেরণার উৎপত্তিস্থল বলিউড কিং আজ জীবনের ৫৯ তম দিবস উদযাপন করবেন!
যেভাবে শূন্য থেকে গড়ে উঠল শাহরুখ-ইমরাত
২ নভেম্বর ১৯৬৫-দিল্লীর এক নিম্ম মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম।শাহরুখের বাবা তাজ মুহাম্মদ খান পাকিস্তানের পেশোয়ারের মানুষ।মা ভারতের হায়দারাবাদের।দাদি আবার কাশ্মীরের।
১৯৮১ সালের ১৮ অক্টোবর-হারান বাবাকে! বয়স তখন সবে ১৫।
১৯৮৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর-গৌরির সঙ্গে প্রথম আলাপ।শুরু হলো প্রেমপর্ব।
১৯৮৭-আশির দশকের শেষভাগে-শুরু হলো বলিউডযাত্রা। পেছনে ছিল না কোনো ‘গডফাদার’! ফলে লড়াই ছিল নিত্যসঙ্গী।
১৯৮৮-দূরদর্শনের পর্দায় ক্যাপ্টেন অভিমন্যু রূপে হাজির— শাহরুখ খান, প্রথম ধারাবাহিক, ফৌজিতে।ওই ফৌজি থেকেই হলো বাদশাহর ভালোবাসা কেড়ে নেওয়ার শুরু।
১৯৯১ সালের ২৫ অক্টোবর-গৌরিকে বিয়ে করেন শাহরুখ। এর ছয় মাস আগে হারান মাকে। মায়ের মৃত্যুশোক ভুলতে এক বছরের জন্য দিল্লী থেকে মুম্বাই যান শাহরুখ। কিন্তু ফেরা হলো না আর।
১৯৯২-মুক্তি পেল প্রথম ছবি দিওয়ানা। বাইক আরোহী শাহরুখ গান গাইতে গাইতে সেই যে বড় পর্দায় ঢুকলেন, আর যেন বের হতে পারলেন না।
১৯৯৪-নিজের ছবির টিকিট বিক্রি করেন নিজেই।
১৯৯৫-এল দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে জায়েঙ্গে।দেশ ছাড়িয়ে সারা পৃথিবীর বিনোদনপ্রিয় মানুষের নয়নমণি হয়েউঠা শুরু বাদশাহর।
পরের বছরগুলোতে শাহরুখ জনপ্রিয়তম তারকার আসনটি
অধিকার করে রইলেন, তিনি ভালোবাসার বরপুত্র।
২০০৯-দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্বকাপ দেখতে যান শাহরুখ। দ্রুত সেই সিদ্ধান্ত হয়। তাই ভারতের দক্ষিণ আফ্রিকা দূতাবাস তাঁর জন্য রাত নয়টায় অফিস খোলে, দেয় ভিসা।
২০১০-অভিনয়ে নিজের ছক ভাঙেন-মাই নেম ইজ খান উপহার দিয়ে।
২০২১-তিনটি ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেট দলের মালিক
২০২৩-এশিয়ার সবচেয়ে ধনী অভিনেতা। শুধু বলিউডে নয়, আয়ে শাহরুখ পাল্লা দেন হলিউডের সঙ্গেও। টম ক্রুজ়, জর্জ ক্লুনি, রবার্ট ডি নিরোর মতো হলিউড তারকাদেরচেয়ে তাঁর আয় বেশি। সেই আয়ের একাংশ যায়-দানে।
ক্যারিয়ারে ৫০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক পুরষ্কার-জয়ী একমাত্র বলিউড
অভিনেতা। যার লাখো-কোটি ভক্ত পুরো-পৃথিবীজুড়ে।
এক জীবনে এত এত অর্জনের পরও একটা দুঃখ সবসময়
তাড়িয়ে বেড়ায় শাহরুখকে।
ডেভিড লেটারম্যানের টক শো-তে শাহরুখ জানিয়েছিলেন, মা-বাবার সঙ্গে যথেষ্ট সময় না কাটানোর আফসোস রয়ে গিয়েছে তাঁর মনে,নিজের সন্তানদের সঙ্গে তাই যতটা বেশি সম্ভব সময় কাটান তিনি।
অবশ্য,আকস্মিকভাবে মা-বাবার চলে যাওয়ায় জীবনে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছিল, সেটি তো অভিনয়ের মাধ্যমে পূরণ করে নিয়েছেন শাহরুখ। তবুও রয়ে যায় বেদনা।
শাহরুখ খানের জীবনদর্শনটা এমন, ‘প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে নিজেকে মনে মনে বলবেন আমিই এক নম্বর! আর একটা কথা-রুপো আপনি জিততে পারেন না। যদি জেতেন, মন খারাপ করে ভাববেন সোনাটা হারিয়ে এসেছেন!’
শাহরুখ, কাঁটাতারের এপার থেকে আপনাকে জন্মদিনের একরাশ শুভেচ্ছা। আপনার পুড়তে পুড়তে খাটি সোনা হওয়া জীবনের ওই লড়াই-সংগ্রাম থেকেই তো পাই বড় হওয়ার অনুপ্রেরণা…
Like this:
Like Loading...