রক্ষণশীল রিপাবলিকানদের উদ্বেগ উৎকণ্ঠা অব্যাহত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে এখন সুবাতাস বইছে। করোনা মহামারি পরবর্তী মার্কিন অর্থনীতির ঊর্ধ্বগতি আশা জাগানিয়া বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন। মহামারির বিপর্যয় কাটিয়ে অর্থনীতির সব মূল সূচকে যুক্তরাষ্ট্র এখন এগিয়ে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত কর্মহীনতা কমে আসছে। স্টক মার্কেট ভালো করছে। দেশজুড়ে আবাসন শিল্পে চাঙা ভাব বিরাজ করছে।
গত ২৯ জুন সিএনএন-এর এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে বলেছে, অক্সফোর্ড অর্থনীতি বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ২০২১ সালে মার্কিন অর্থনীতির গড় উন্নতি ঘটবে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। ১৯৫১ সালের পর মার্কিন অর্থনীতিতে এমন প্রবৃদ্ধি ঘটেনি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে স্বাস্থ্য সতর্কতা শিথিল হয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে আবার লোকজন ভ্রমণ করা শুরু করেছে। এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যে ছুটে যাচ্ছে লোকজন। গত এক বছরের বেশি সময়ে ঘরে আটকে পড়া লোকজন গ্রীষ্মের আবহাওয়ায় এখন বেরিয়ে পড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে এখন উপচে পড়া ভিড়। যাত্রী সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে এয়ারলাইনসগুলো। ইউনাইটেড এয়ারলাইন এ সপ্তাহেই গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিমান বহর তাদের সংস্থায় যোগ করার জন্য ক্রয় আদেশও দিয়েছে।
আসছে ৪ জুলাই উইকেন্ডে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় সাড়ে চার কোটি লোক সড়ক পথে যাতায়াত করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। গাড়ি চলাচল এমনই বেড়েছে যে গ্যাস স্টেশন (পেট্রল পাম্প) সরবরাহ নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছে। পেট্রল পাম্পে জ্বালানি তেল সরবরাহ করার জন্য লরি চালক পাওয়া যাচ্ছে না।
অবশ্য রক্ষণশীলদের এখনো সমালোচনা চলছে কর্মহীনতা নিয়ে। শ্রমবাজারে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় এখনো ৭০ লাখ ৬০ হাজার কর্মসংস্থান কম রয়েছে। একদিকে ব্যবসায়ীরা তাঁদের ব্যবসা পরিচালনার জন্য কর্মী পাচ্ছেন না, অন্যদিকে কর্মহীনতা দ্রুত আগের অবস্থায়ও ফিরে যাচ্ছে না।
প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তাঁর পরিকাঠামো উন্নয়ন আইন পাস করা নিয়ে রিপাবলিকানদের সঙ্গে ক্রমাগত সমঝোতা আলোচনা করে যাচ্ছেন। তাঁর এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক কর্মসংস্থান শুরু হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অর্থনীতিতে চাঙা অবস্থানের জন্য অর্থনীতির ওপর ভোক্তার আস্থাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। সিএনএন তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, মিশিগান ইউনিভার্সিটির তথ্য বিশ্লেষণে দেখানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের মধ্যে এখন চরম আস্থা বিরাজ করছে। দেশের লোকজন যত ব্যয় করবে, অর্থ ধরে রাখবে না—ততই অর্থনীতিতে চাঞ্চল্য বাড়তে থাকবে।
মহামারি থেকে বেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের লোকজন আবার ব্যাপক কেনাকাটায় নেমে পড়েছে। লোকজন একদম স্বাভাবিক অবস্থার মতো হোটেল রেস্তোরাঁয় ভিড় করছে। পানশালা বা সমুদ্রসৈকতেও ভিড় বাড়ছে।
মিশিগান ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিশ্লেষক রিচার্ড কার্টিস বলেছেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অর্থনীতির প্রতি ভোক্তাদের আস্থার ওঠানামা লক্ষণীয় হয়ে উঠেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগে মার্কিন ভোক্তাদের অর্থনীতির প্রতি আস্থার সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ের সম্পর্ক তেমন লক্ষণীয় ছিল না।