বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও নেপাল থেকে আসা অভিবাসীরা এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন৷ বিক্ষোভকারীরা ‘আমরা সবাই বৈধ’, ‘‘সবার জন্য বৈধতা’সহ নানা ধরনের স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করেন৷
তাদের দাবি, সব অভিবাসীদের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করা উচিত৷ রেসিডেন্স পারমিট পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুততর করা সময়ের দাবি৷
এই বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করেছে ‘ইমিগ্র্যান্ট সলিডারিটি অ্যাসোসিয়েশন’ নামের একটি অভিবাসন সংস্থা৷
সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট তিমোতেও মাসেদো স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘পর্তুগালে বসবাসরত অভিবাসীদের কাছ থেকে আমরা প্রতিনিয়ত অভিযোগ পাচ্ছি৷ বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে আগত অভিবাসীরা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার ভুক্তভোগী৷’’
তিনি জানান, দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেও অনেকে তাদের আবেদনের অগ্রগতি জানতে পারছেন না৷ সরকারি দপ্তরগুলোর কাছ থেকে কোনো উত্তর না পাওয়ায় হতাশ অনেক অভিবাসী৷
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে পর্তুগালের অভিবাসন সংস্থা আইমা নিয়মিতকরণ আবেদন জমা দিতে অভিবাসীদের জন্য একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে৷ এর মাধ্যমে কাজের আওতায় বৈধ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন অনিয়মিত অভিবাসীরা৷
অভিবাসীরা বলছেন, এই প্ল্যাটফর্ম চালু হলেও বাস্তবে আবেদন প্রক্রিয়া অনেক জটিল এবং ধীরগতির৷ এখনও অনেক আবেদনকারীর কোনো তথ্য প্লাটফর্মটিতে আপডেট হয়নি৷
ইন্টিগ্রেশন ও মাইগ্রেশন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে পর্তুগালে অভিবাসীদের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে৷ দেশটিতে এখন প্রায় ১০ লাখ অভিবাসী বসবাস করেন, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ৷
দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের একটি বড় অংশ কৃষি, নির্মাণ ও রেস্টুরেন্ট খাতে কাজ করেন৷ তাদের মধ্যে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও পাকিস্তানের নাগরিকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য৷
পর্তুগাল ইউরোপের এমন একটি দেশ, যেখানে হাজার হাজার অভিবাসী বৈধতা পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন৷ সরকারের নানা উদ্যোগের পরেও এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অভিবাসী ও অধিকারকর্মীরা৷
শেঙ্গেন নিউজ