যুক্তরাষ্ট্রে অনেকেই আছেন, যারা অবৈধভাবে এ দেশে প্রবেশ করেছেন। তাদের কোনো স্ট্যাটাস নেই, নথিপত্রহীন ও বেআইনিভাবে বসবাস করছেন। এখানে কেউ কেউ এসেছেন অবৈধ পথে, আবার কেউ এখানে আসার পর স্ট্যাটাস হারিয়ে ফেলেছেন। নথিপত্রহীনদের অনেকে স্ট্যাটাস পাওয়ার আবেদন করেছিলেন, কিন্তু ডিনাই হয়েছে। মোশন টু রিওপেন করেও কোনো ফল আসেনি অথবা এখানে পরিবারের সবাই বৈধ হলেও একজন অবৈধ। কোনো উপায়ে তার স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্ট করার আইনি উপায় নেই। ফলে তিনি আর কখনো বৈধ হতে পারবেন না। এমন ব্যক্তিরা স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যেতে পারেন অথবা যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে অন্য কোনো দেশে যেতে পারেন। আবার অনেকের ডিপোর্টেশন অর্ডার হয়েছে, তারা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। আইসের হাতে ধরা পড়লে তাদেরকে দেশে ফেরত পাঠানো হবে। এমন ব্যক্তিরা এখন পালিয়ে না থেকে আর ভয়ে ভয়ে না থেকে স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যেতে পারেন। যারা নিজ উদ্যোগে দেশে ফিরে যেতে চান, তারা অনেক সহজেই দেশে ফিরতে পারবেন। যারা স্বেচ্ছায় এই দেশ ছেড়ে চলে যাবেন, তাদের সবার তথ্য থাকবে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ও সিপিবির কাছে।
সূত্র জানায়, যারা একবার আইসের হাতে ধরা পড়ে ডিপোর্ট হয়ে এ দেশ থেকে বিতাড়িত হবেন, তারা আর কখনো এ দেশে ফিরতে পারবেন না। তবে কেউ যদি স্বেচ্ছায় ফিরে যান, তাহলে নিজ দেশে গিয়ে নতুন করে আসার আবার সব প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন। অথবা অন্য কোনো দেশে গিয়েও তা করতে পারবেন। যারা স্বেচ্ছায় ফিরে যাবেন, তারা যদি কোনো ধরনের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হন, যুক্তরাষ্ট্রের সাজাভুক্ত আসামি না হন, গুড মোরাল ক্যারেক্টার থাকে, তাহলে আবার তারা যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসতে পারবেন। সে জন্য যেসব শর্ত পূরণ করতে হবে, সেগুলো পূরণ করার যোগ্য হলে তারা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে আসতে চাইলে বৈধ পথে ভিসা নিয়ে আসার চেষ্টা করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে তারা ফিরে আসার সুযোগ পেলে পেতেও পারেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট একজন অ্যাটর্নি বলেন, যদি কেউ একবার আইসের হাতে ধরা পড়েন, তাহলে সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হবে। তখন তিনি এ দেশে ফিরতে চাইলেও আর কখনো ফিরতে পারবেন না। তাই ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত আসার সুযোগ হাতছাড়া করতে না চাইলে নথিপত্রহীনদের উচিত স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফেরত যাওয়া। তাদের ফিরে যাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট অ্যাপও তৈরি করা হয়েছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে নিজে নিজে নিবন্ধন করতে পারেন এবং দেশে ফেরার উদ্যোগ নিতে পারেন।
চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুতে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি থেকে স্বনির্বাসন রিপোর্টিং বৈশিষ্ট্যসহ সিপিবি হোম অ্যাপ চালু করেছে। সংস্থাটির সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম ঘোষণা করেছেন, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) দেশে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশিদের জন্য স্বনির্বাসন প্রতিবেদন বৈশিষ্ট্যসহ সিপিবি হোম অ্যাপ চালু করছে। বিদেশিদের সিপিবি হোম মোবাইল ফোন অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে তাদের প্রস্থানের ইচ্ছা জমা দেওয়া উচিত, যেমনটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তা অনুসরণ করে।
এই স্বনির্বাসন কার্যকারিতা অবৈধ বিদেশিদের ‘বাইরে থাকুন এবং এখনই চলে যান’ উৎসাহিত করার জন্য ২০০ মিলিয়ন ডলারের একটি বৃহত্তর দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক বিজ্ঞাপন প্রচারণার অংশ। এর আগের সব সিপিবি ওয়ান অ্যাপ্লিকেশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিপিবি হোম অ্যাপে আপডেট হবে। নতুন অ্যাপটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন স্টোরে রয়েছে। সেখান থেকে ডাউনলোড করতে হবে। এ জন্য কোনো অর্থ দিতে হবে না।
ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম আরও বলেছেন, বাইডেন প্রশাসন সিবিপি ওয়ান অ্যাপ ব্যবহার করে ১০ লাখেরও বেশি বিদেশিকে অবৈধভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ করে দিয়েছে। সিবিপি হোম অ্যাপ চালু করার মাধ্যমে আমরা আমাদের অভিবাসন-ব্যবস্থায় অখণ্ডতা পুনরুদ্ধার করছি। সিবিপি হোম অ্যাপটি বিদেশিদের এখনই চলে যাওয়ার এবং স্বনির্বাসনের বিকল্প উপায় দিচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে তাদের আইনত ফিরে আসার এবং আমেরিকান স্বপ্নপূরণের সুযোগ থাকে। যদি তারা তা না করে, আমরা তাদের খুঁজে বের করব, আমরা তাদের নির্বাসন দেব এবং তারা আর কখনো ফিরে আসতে পারবে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাদের সামনে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকার আর কোনো অপশন নেই, তাদের উচিত নিরাপদে স্বেচ্ছায় নিজ দেশে চলে যাওয়া। নিজ দেশে গিয়ে একটি স্বাধীন জীবন পেতে পারেন। যাদের পরিবার দেশে রয়েছে, তাদের কাছে ফিরতে পারবেন। ভালো থাকতে পারবেন। চাইলে কেউ এ দেশে আবার ফেরার চেষ্টা করতে পারবেন। ভিসা পেলে বৈধভাবে আসবেন অথবা তার জন্য তার পরিবারের কোনো সদস্য আবেদন করলেও আসার সুযোগ তৈরি হতে পারে। কিন্তু আইসের হাতে ধরা পড়লে সব সুযোগই বন্ধ হয়ে যাবে।