শহরের কোলাহল আর ব্যস্ততা থেকে মুক্তি পেতে ঈদের ছুটি হতে পারে এক দারুণ সুযোগ। দূরে কোথাও না গিয়েও ঢাকার আশপাশে রয়েছে বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান ঘুরে আসতে পারেন। যেখানে স্বল্প সময় ও কম খরচে ঘুরে আসা যায়। পরিবার-পরিজন বা বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো যেতে পারে একদিন।
জিন্দা পার্ক: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত জিন্দা পার্ক হতে পারে ঘুরতে যাওয়ার একটি আদর্শ জায়গা। বিশাল সবুজের মাঝে গাছপালা, লেক ও উন্মুক্ত পরিবেশ আপনাকে এনে দেবে প্রশান্তি। পার্কের ভেতরেই রয়েছে রেস্টুরেন্ট ও রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা। ঢাকার ব্যস্ততা থেকে মুক্তি পেতে কাছেই এমন জায়গা বেশ উপভোগ্য হতে পারে।
গোলাপ গ্রাম: ঢাকার পাশেই বিস্তীর্ণ গোলাপের বাগান নিয়ে গোলাপ গ্রাম যেন এক অন্যরকম স্বপ্নরাজ্য। মিরপুর বেড়িবাঁধ ধরে তুরাগ নদীর পাড়ে শিন্নিরটেক ঘাট থেকে ট্রলারে সাদুল্যাপুর ঘাটে গিয়ে এই গ্রামে পৌঁছানো যায়। শীতের সকালে কিংবা বিকেলে গোলাপের সুগন্ধে মাতোয়ারা হওয়া যায় এখানে।
জল জঙ্গলের কাব্য: গাজীপুরের পুবাইলে অবস্থিত জল জঙ্গলের কাব্য শহুরে কোলাহল থেকে বের হয়ে নিরিবিলি সময় কাটানোর জন্য দারুণ একটি স্থান। গ্রামীণ পরিবেশের সঙ্গে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার সংযোগে এটি হয়ে উঠেছে এক আকর্ষণীয় গন্তব্য। এখানে সকালের নাস্তা থেকে রাতের খাবারের ব্যবস্থাও রয়েছে।
পদ্মা রিসোর্ট: নদীর ধারে নির্জন পরিবেশে সময় কাটাতে চাইলে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে অবস্থিত পদ্মা রিসোর্ট হতে পারে আদর্শ স্থান। পদ্মার তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই রিসোর্টে কটেজে রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। আছে রিভার ক্রুজ ও খেলাধুলার সুযোগ। মাত্র দুই ঘণ্টার পথ পেরোলেই পৌঁছে যাবেন প্রকৃতির সান্নিধ্যে।
ড্রিম হলিডে পার্ক: নরসিংদীতে অবস্থিত এই থিম পার্কটি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আনন্দে সময় কাটানোর জন্য আদর্শ। এখানে ওয়াটার পার্ক, রাইড, সুইমিং পুলসহ নানা ধরনের বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। রাতে থাকার জন্য রয়েছে রিসোর্টের সুবিধা।
বালিয়াটি জমিদার বাড়ি: ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য দেখতে চাইলে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় অবস্থিত বালিয়াটি জমিদার বাড়িতে ঘুরে আসতে পারেন। সুবিশাল এই স্থাপনার প্রতিটি কোণে রয়েছে ইতিহাসের ছাপ। পুরোনো দিনের জমিদারি ঐশ্বর্যের অনুভূতি মিলবে এখানে।
যমুনা রিসোর্ট: টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জের সংযোগস্থলে যমুনা সেতুর কাছেই গড়ে ওঠা এই রিসোর্টে রয়েছে সুইমিং পুল, খেলাধুলার আয়োজন ও জিমসহ নানা সুবিধা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে বিলাসবহুল সময় কাটাতে চাইলে এটি হতে পারে ভালো একটি গন্তব্য।
নিকলী হাওর: কিশোরগঞ্জের নিকলী হাওর ঢাকার কাছেই জলরাশির মাঝে হারিয়ে যাওয়ার এক দারুণ স্থান। নৌকায় করে হাওরের বুকে ভেসে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা মনে দাগ কেটে যাবে দীর্ঘদিন। তবে সন্ধ্যার আগে ফিরে আসাই ভালো।
নকশী পল্লী: পূর্বাচলের বালু নদীর তীরে অবস্থিত নকশী পল্লী মূলত একটি রেস্টুরেন্ট হলেও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে এটি ঘুরতে যাওয়ার জায়গা হিসেবেও বেশ জনপ্রিয়। চাইলে এখানে নৌকায় চড়ার সুযোগও রয়েছে।
মহেরা জমিদার বাড়ি: টাঙ্গাইলের মহেরা জমিদার বাড়ি ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য হতে পারে চমৎকার একটি জায়গা। তিনটি বিশাল স্থাপনা, কারুকার্যময় নকশা ও পাখির খাঁচা এই বাড়িকে দিয়েছে অনন্য বৈশিষ্ট্য।
মৈনট ঘাট: দোহার উপজেলার মৈনট ঘাটকে বলা হয় ‘মিনি কক্সবাজার’। বিশাল পদ্মার ঢেউ ও তীরের বালুচর যেন সমুদ্রসৈকতের অনুভূতি দেয়। নদীর ধারে সূর্যাস্তের দৃশ্য এখানে সত্যিই মনোমুগ্ধকর। চাইলে নৌকাভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিতে পারেন, খেতে পারেন পদ্মার টাটকা ইলিশও।
ঈদের ছুটিতে ঢাকার আশপাশেই রয়েছে দারুণ কিছু জায়গা, যেখানে কম সময়ে ও স্বল্প খরচে ঘুরে আসা সম্ভব। ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি দূর করতে আর প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে বেছে নিতে পারেন পছন্দের গন্তব্য।