1. [email protected] : চলো যাই : cholojaai.net
চাকরির সন্ধানে নতুন ইমিগ্রান্টরা
শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ০১:৩৮ অপরাহ্ন

চাকরির সন্ধানে নতুন ইমিগ্রান্টরা

  • আপডেট সময় শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৫

কানাডায় নতুন অভিবাসীদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখনো চাকরি পাওয়া। সাম্প্রতিক জরিপ ও সরকারি প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক দক্ষ অভিবাসী দেশটিতে প্রবেশ করলেও তারা শ্রমবাজারে স্থিতিশীল হতে দীর্ঘ সময় নিচ্ছেন।

ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা–এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রায় ৪৯৫,০০০ নতুন অভিবাসী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে কানাডায় এসেছেন। এর মধ্যে প্রায় ৬২ শতাংশই অর্থনৈতিক ক্যাটাগরির অধীনে অর্থাৎ উচ্চশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ পেশাজীবী। তবুও তারা প্রত্যাশামতো দ্রুত কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে পারছেন না।

স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার সাম্প্রতিক জরিপ বলছে, নতুন অভিবাসীদের বেকারত্বের হার এখনও প্রায় ১২ শতাংশ, যেখানে দেশীয় নাগরিকদের ক্ষেত্রে তা মাত্র ৫.৮ শতাংশ। বিশেষ করে আগমনের প্রথম পাঁচ বছরের মধ্যে অনেকেই বেকার থাকেন বা তাদের যোগ্যতার চেয়ে কম আয়ের কাজে নিযুক্ত হন।

আরেকটি বড় সমস্যার নাম “বিদেশি যোগ্যতার স্বীকৃতি।” তথ্য অনুযায়ী, নতুন অভিবাসীদের প্রায় ৩৭ শতাংশ নিজেদের দেশ থেকে অর্জিত পেশাগত ডিগ্রি বা সার্টিফিকেটের স্বীকৃতি পান না। ফলে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক কিংবা আইনজীবী হয়েও অনেকে বাধ্য হয়ে খুচরা দোকান, গুদাম, পরিবহন বা খাদ্য সরবরাহ খাতে কাজ নেন। টরন্টোতে গত বছরই প্রায় ১৮,০০০ নতুন অভিবাসী অস্থায়ী বা খণ্ডকালীন চাকরিতে যোগ দেন, যাদের অন্তত ৪০ শতাংশই বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রিধারী।

অন্যদিকে কানাডার শ্রমবাজারে এখনো প্রায় ৮ লাখ শূন্যপদ রয়েছে বিশেষত স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি, নির্মাণ ও দক্ষ কারিগরি খাতে। অথচ ভাষাগত দুর্বলতা, লাইসেন্সিং জটিলতা এবং “কানাডিয়ান অভিজ্ঞতা”র অভাব নতুন অভিবাসীদের সেখানে প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করছে।

আয়ের ক্ষেত্রেও বৈষম্য স্পষ্ট। নতুন অভিবাসীরা কানাডায় প্রথম বছর গড়ে বছরে প্রায় ৩২ হাজার ডলার আয় করেন, যেখানে দেশীয় কর্মীদের গড় আয় প্রায় ৫৬ হাজার ডলার। তবে ইতিবাচক দিক হলো, দশ বছরের মধ্যে এই ব্যবধান অনেকটাই কমে আসে তখন অভিবাসীদের গড় আয় দাঁড়ায় বছরে প্রায় ৫০ হাজার ডলার।

সরকার ইতোমধ্যেই পরিস্থিতি সামলাতে নানা কর্মসূচি চালু করেছে। ফরেন ক্রেডেনশিয়াল রিকগনিশন প্রোগ্রাম, ভাষা প্রশিক্ষণ, এবং ব্রিজিং প্রোগ্রাম নতুন অভিবাসীদের দক্ষতার স্বীকৃতি ও শ্রমবাজারে অন্তর্ভুক্তির পথ সুগম করার চেষ্টা করছে। তবুও অভিবাসীরা মনে করেন, চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে “কানাডিয়ান অভিজ্ঞতা” শর্তটি সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কানাডার ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্য নতুন অভিবাসীদের সফল অন্তর্ভুক্তি অপরিহার্য। অনুমান করা হচ্ছে, আগামী ২০ বছরে দেশের শ্রমশক্তির ৮০ শতাংশই অভিবাসীদের দ্বারা পূরণ হবে। তাই অভিবাসীদের যথাযথ সুযোগ করে দেওয়া না হলে কানাডার অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

ভ্রমন সম্পর্কিত সকল নিউজ এবং সব ধরনের তথ্য সবার আগে পেতে, আমাদের সাথে থাকুন এবং আমাদেরকে ফলো করে রাখুন।

© All rights reserved © 2020 cholojaai.net
Developed By ThemesBazar.Com