1. [email protected] : চলো যাই : cholojaai.net
কী পাওয়া যেত বিশ্বের প্রাচীন ৫ বাজারে
শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫, ০২:০২ অপরাহ্ন

কী পাওয়া যেত বিশ্বের প্রাচীন ৫ বাজারে

  • আপডেট সময় শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫

বিশ্বের প্রাচীন বাজারগুলো যে শুধু কেনাকাটার জায়গা, তা কিন্তু নয়। এগুলো একেকটি ইতিহাসের সাক্ষী। শতাব্দী ধরে এই বাজারগুলো বাণিজ্য, সামাজিক যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক মিলনের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করেছে। এগুলোর প্রতিটি গলি ও দোকানে লুকিয়ে আছে মানুষের জীবন, ইতিহাসের গল্প এবং ঐতিহ্য। আজও এই বাজারগুলো স্থানীয় কারুশিল্প, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও প্রাণবন্ত জীবনযাত্রার জন্য পর্যটকদের আকর্ষণ করে।

খান এল-খালিলি, কায়রো, মিসর

১৩৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত খান এল-খালিলি একটি ঐতিহাসিক কেন্দ্র। এটি নির্মাণ করেছিলেন সুলতান বারকুক। শুরু থেকেই এটি মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বণিকদের জন্য অন্যতম প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে। এখানকার সরু গলি ও রাস্তাগুলো মধ্যযুগীয় আরব স্থাপত্যের অনন্য দৃষ্টান্ত। বাজারটি হাতে তৈরি গয়না, পিতলের জিনিসপত্র, সুগন্ধি, মসলা ও ঐতিহ্যবাহী মিসরীয় সুভ্যেনিরের জন্য বিখ্যাত। এখানকার ঐতিহাসিক কফিহাউসগুলো স্থানীয় ও পর্যটকদের প্রতিদিনের মিলনস্থল। এখানে বসে অ্যারাবিক কফি পান করতে করতে আপনি পুরোনো কায়রোর ব্যস্ত জীবনের স্পন্দন অনুভব করতে পারবেন।

গ্র্যান্ড বাজার, ইস্তাম্বুল, তুরস্ক

১৪৫৫ সালে প্রতিষ্ঠিত গ্র্যান্ড বাজার বিশ্বের পুরোনো ও বড় বাজারগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে সিল্ক রোডের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করেছে। ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার বণিকেরা এখানে একত্র হয়ে বিভিন্ন পণ্য লেনদেন করত। এই বিশাল বাজারে প্রায় ৬১টি রাস্তা, ৪ হাজারের বেশি দোকান এবং ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৪ লাখ ক্রেতা ও পর্যটক প্রতিদিন ভিড় জমাত! বাজারের অভ্যন্তরটি বেশ গোলকধাঁধার মতো। এখানে প্রতিটি গলি নির্দিষ্ট পণ্যের জন্য পরিচিত। এখানে কারিগরেরা তাদের হাতের তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি করত, যা তুরস্কের সমৃদ্ধ শিল্প ও সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে। ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রাণবন্ত পরিবেশর এই বাজারকে শুধু একটি বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে নয়, বরং ইস্তাম্বুলের সাংস্কৃতিক জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

চাঁদনি চক, দিল্লি, ভারত

১৬৫০ সালে মোগল সম্রাট শাহজাহানের প্রিয় কন্যা জাহানারা বেগমের নকশা করা চাঁদনি চক বাজারটি শুধু দিল্লির নয়, পৃথিবীর অন্যতম পুরোনো ও ব্যস্ততম বাজার। এ বাজারের কেন্দ্রে একটি পুল ছিল, যা রাতে চাঁদের আলোয় ঝলমল করত বলে এর নাম চাঁদনি চক রাখা হয়েছিল। পুলটি এখন না থাকলেও বাজারের ঐতিহ্য আজও রয়ে গেছে। এখানে ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় শাড়ি-লেহেঙ্গা থেকে শুরু করে গয়না, মসলা ও ইলেকট্রনিকস সবকিছু পাওয়া যায়। চাঁদনি চক সুস্বাদু স্ট্রিট ফুডের জন্যও বিখ্যাত। এখানকার পরোটা, জিলাপি, চাট ও কাবাব পর্যটক এবং স্থানীয়দের জন্য বেশ আকর্ষণীয়। বাজারটি শুধু বাণিজ্যকেন্দ্রই নয়, এটি ভারতের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বোরো মার্কেট, লন্ডন, যুক্তরাজ্য

লন্ডনের সাউথওয়ার্কে অবস্থিত বোরো মার্কেট একটি প্রাচীন খাবারের বাজার। এটি তার দীর্ঘ ইতিহাসে বিভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। এর লিখিত ইতিহাস শুরু হয় এগারো শতকে। শুরু থেকেই এটি একটি পাইকারি খাবারের বাজার হিসেবে পরিচিতি পায়। আধুনিক যুগে এটি বিখ্যাত খাদ্য গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। এখানে যুক্তরাজ্যের সেরা ও তাজা খাবার পাওয়া যায়। এখানে তাজা ফল ও সবজি থেকে শুরু করে চিজ, বেকারি পণ্য, মাংস ও আন্তর্জাতিক খাবার পাওয়া যায়। বাজারের পরিবেশটি খুবই প্রাণবন্ত এবং এখানে খাবারের সুগন্ধ সব সময়েই ছড়িয়ে থাকে।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

পাইক প্লেস মার্কেট, সিয়াটল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

১৯০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত পাইক প্লেস মার্কেট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে পুরোনো ও এখনো সচল বাজার। এটি মধ্যস্বত্বভোগীদের হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্থানীয় কৃষকদের ক্রেতাদের কাছে পণ্য বিক্রি করার সুযোগ দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই বাজার বিখ্যাত ‘উড়ন্ত মাছ’-এর জন্য। এখানে বিক্রেতারা মাছ বিক্রি করার সময় একে অপরের দিকে মাছ ছুড়ে ক্রেতাদের আনন্দ দেন। এখানে তাজা মাছ, ফল ও সবজি, ফুল, হস্তশিল্প ও নানা ধরনের খাবারের দোকান রয়েছে।

প্রাচীন এই বাজারগুলো শুধু পণ্য কেনাবেচার স্থান নয়, এগুলো প্রতিটি শহরের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও একই সঙ্গে জীবনের গল্প। এগুলো এক একটি জীবন্ত জাদুঘর, যেখানে অতীত ও বর্তমানের মেলবন্ধন ঘটে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

ভ্রমন সম্পর্কিত সকল নিউজ এবং সব ধরনের তথ্য সবার আগে পেতে, আমাদের সাথে থাকুন এবং আমাদেরকে ফলো করে রাখুন।

© All rights reserved © 2020 cholojaai.net
Developed By ThemesBazar.Com