লালমনিরহাট ও রংপুরের মধ্যবর্তী মহিপুর তিস্তায় ঈদুল ফিতরের আনন্দ উপভোগ করতে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। প্রতিবছরের মতো এবারও বিশাল সংখ্যক দর্শনার্থী এখানে সমাগম ঘটিয়েছে। যেন তিল ধারণের জায়গা নেই।
উৎসবের আনন্দে পুরো তিস্তা এলাকা নাটকীয়ভাবে মেতে উঠেছে। দর্শনার্থীরা স্পিডবোট এবং পালতোলা নৌকায় উঠতে অপেক্ষা করছেন। ফলে মহিপুর তিস্তা যেন মিনি কক্সবাজারে পরিণত হয়েছে।
সোমবার (৩১ মার্চ) ঈদের দিন বিকালে সরেজমিনে তিস্তাপাড়ে দেখা যায়, দূরদূরান্ত থেকে আসা লোকজনের উপচেপড়া ভিড়। মোটরসাইকেল, অটোরিকশা এবং মাইক্রোবাসে করে দর্শনার্থীরা এখানে আসছেন এবং আনন্দ-উল্লাসে মেতে উঠেছেন। ফলে মহিপুর তিস্তায় যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
তিস্তায় স্পিডবোট ও পালতোলা নৌকায় দর্শনার্থীরা দ্রুত গতিতে এ পাশ থেকে ওপাশে ছুটে চলছেন। মাত্র ৫০ টাকায় তারা তিস্তায় ভাসছেন। বড় বড় ঢেউ এসে তিস্তার পাড়ে ধাক্কা দিচ্ছে, যার ফলে তারা জলরাশির আনন্দে উন্মাদিত হচ্ছেন। এইসময় দর্শনার্থীরা তাদের প্রিয় মুহূর্তগুলো স্মৃতি হিসেবে ধরে রাখতে ফটোগ্রাফি করছেন।
তিস্তায় ঘুরতে আসা দর্শনার্থী সাবরিনা ইয়াসমিন বলেন, “প্রতি বছর ঈদে এবং নানা উৎসবে আমরা পরিবার নিয়ে মহিপুর তিস্তা এলাকায় আসি। এখানে এসে আমরা অনেক মজা করেছি, যা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।”
আরেক দর্শনার্থী আমিনু রহমান বলেন, “ঢাকার শহরের গণ্ডির মধ্যে আটকে থাকি, তাই ঈদে সন্তানদের নিয়ে মহিপুর তিস্তায় এসেছি। এতে বাচ্চারা অনেক আনন্দ পাচ্ছে।”
রংপুর থেকে আসা শোবন ও মিলা বলেন, “নদীর বুকে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া আশির দশকের পালতোলা নৌকাগুলো দেখতে বেশ ভালো লাগছে। এগুলো আমাদের মতো অন্যদেরও নজর আকৃষ্ট করছে, এবং আমরা ক্যামেরায় কিছু মুহূর্ত বন্দী করতে পেরেছি।”
স্থানীয়রা জানান, মহিপুর তিস্তায় বিনোদনের স্থানের অভাবে, প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ এখানে এসে ঈদের আনন্দ উপভোগ করে। যদি সরকারের সহযোগিতায় মহিপুর তিস্তার পাড়কে উন্নতভাবে সাজানো হয়, তাহলে এখান থেকে ব্যাপক রাজস্ব আসবে, যা নদী ভাঙন কবলিত মহিপুরের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়তা করবে।