বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে তারা আলাদা প্রস্তুতি নিয়েছে। নতুন করে বিভিন্ন রাইড, গেম ও প্যাকেজ যুক্ত করেছে। আবার হোটেল-রিসোর্টগুলোও বিভিন্ন মূল্য ছাড়সহ ঈদ স্পেশাল প্যাকেজ সুবিধা দিচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, করোনার সময় থেকে তাঁদের ব্যবসা একপ্রকার মন্দা যাচ্ছে। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা দুর্বল হওয়া, মূল্যস্ফীতি প্রভৃতি কারণে গ্রাহকদের চাহিদাও কম ছিল। তবে এবার পরিস্থিতি অনেকটাই ভিন্ন। গ্রাহকদের থেকে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি তাঁদের।
বিনোদনকেন্দ্রের নানা প্যাকেজ
ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে অনেকেই বিনোদনকেন্দ্রে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। বিশেষ করে পরিবারের ছোটদের বিশেষ চাহিদা থাকে এ বিষয়ে। রাজধানীর অভ্যন্তরে ও আশপাশের এলাকায় এ রকম বেশ কিছু বিনোদনকেন্দ্র রয়েছে।
ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়ায় অবস্থিত ফ্যান্টাসি কিংডম ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন অফার দিচ্ছে। ফ্যান্টাসি কিংডম ঈদে তিনটি নতুন রাইড নিয়ে এসেছে। এর মধ্যে সবার জন্য রয়েছে ড্রপ অ্যান্ড টুইস্ট রাইড, টপ স্পিন রাইড ও ভিআর ৩৬০ রাইড। এ ছাড়া ছোটদের জন্যও নতুন রাইড রয়েছে।
ফ্যান্টাসি কিংডমের এক কর্মকর্তা জানান, তাঁরা গ্রাহকদের জন্য তিনটি প্যাকেজে বিনোদনের সব সুবিধা রেখেছেন। প্রতিটি প্যাকেজের মূল্য সর্বনিম্ন ১ হাজার ২৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত। এর মধ্যে বিভিন্ন রাইডে চড়া, ওয়াটার কিংডমে যাওয়া, পার্কটির প্রবেশ ফি ও দুপুরের খাবারের টাকা সংযুক্ত রয়েছে। ফ্যান্টাসি কিংডমে ২৬টি রাইড রয়েছে। একেকটি প্যাকেজে ১২টির মতো রাইড পাওয়া যায়। গ্রাহকেরা সেখানে উপস্থিত হয়েই প্যাকেজ কিনতে পারবেন; আগে থেকেও বুকিং দিতে পারেন।
কনকর্ড এন্টারটেইনমেন্ট প্রধান বিপণন কর্মকর্তা অনুপ কুমার সরকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘করোনা ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে গত কয়েক বছর আমরা বেশ চ্যালেঞ্জিং অবস্থার মধ্য দিয়ে গিয়েছি। তবে চলতি বছরের শুরু থেকে পরিস্থিতি অনেকটাই ইতিবাচক হয়েছে। গ্রাহকদের থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি। সে ধারাবাহিকতায় এবারের ঈদে গ্রাহকদের জন্য নতুন করে তিনটি রাইড আনা হয়েছে। সব মিলিয়ে ঈদের বন্ধের মধ্যে ভালো করতে পারব বলে আমরা আশা করছি।’
ইনডোর থিম পার্ক টগি ওয়ার্ল্ডে রয়েছে ছোটদের জন্য নানা ধরনের বিনোদনের সুবিধা। রাজধানীর পান্থপথে বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সে অবস্থিত এ বিনোদনকেন্দ্রে রয়েছে শিশুসহ সব বয়সীর জন্য বিভিন্ন ধরনের খেলার ব্যবস্থা। এখানে ১৫০টির বেশি রাইড ও গেম রয়েছে। টগি ওয়ার্ল্ডে প্রবেশ ফি ১০০ টাকা। প্রবেশের পর বিভিন্ন প্যাকেজ আকারে বা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিয়ে রাইডগুলো ব্যবহারের সুযোগ পাবেন গ্রাহকেরা।
ঢাকার অদূরে সাভার উপজেলায় অবস্থিত অন্যতম বড় বিনোদনকেন্দ্র হলো নন্দন পার্ক। আশুলিয়া থানায় নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এ পার্কে ৫০০ টাকা থেকে সাড়ে ৭ হাজার টাকার মধ্যে বিভিন্ন প্যাকেজ রয়েছে। এ ছাড়া ওয়াটার ওয়ার্ল্ডসহ বিভিন্ন রাইডে আলাদা টিকিট করে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত পার্কটি খোলা থাকবে।
ঢাকার মধ্যে ইনডোর বিনোদনের আরেক জনপ্রিয় জায়গা বাবুল্যান্ড। কার সিটি, ট্রাম্পোলিন, বল পুলসহ বিভিন্ন ধরনের রাইড রয়েছে তাদের। বাবুল্যান্ডের প্লেগ্রাউন্ডে ১০ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের খেলাধুলার ব্যবস্থা রয়েছে। মাত্র ৪০০-৫০০ টাকার বিনিময়ে ২ ঘণ্টার জন্য খেলাধুলার সুযোগ পাওয়া যায়। রাজধানীর মিরপুর ২, মিরপুর ১২, ধানমন্ডির সীমান্ত সম্ভার, গ্রিন রোড, বাড্ডা, ওয়ারী, উত্তরা হাউস বিল্ডিং, লক্ষ্মীবাজার, শেওড়াপাড়া ও নারায়ণগঞ্জে বাবুল্যান্ডের শাখা রয়েছে।
এ ছাড়া ঈদের সময় বোটানিক্যাল গার্ডেনসহ রাজধানীর বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রগুলোতেও ভিড় দেখা যায়।
রিসোর্টের চাহিদাও বেশি
ঈদে বিভিন্ন পর্যটন স্থানে ঘুরতে যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে; সেই সঙ্গে চাহিদা বেড়েছে দামি রিসোর্ট বুকিংয়েও। কয়েকটি রিসোর্টের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগামী ৫ এপ্রিল পর্যন্ত তাদের বুকিং রয়েছে। ইতিমধ্যে তাদের ৭০-৮০ শতাংশ বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে তারা বিভিন্ন অফারও দিচ্ছে।
মৌলভীবাজার-শ্রীমঙ্গল রোডের নাইটেশ্বরে অবস্থিত দুসাই রিসোর্ট অ্যান্ড স্পাতে ২০ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন প্যাকেজ রয়েছে। রিসোর্টটির একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, আগামী ৪ তারিখ পর্যন্ত তাদের ৮০ শতাংশ বুকিং শেষ হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে তাঁরা সকালের নাশতা, দুপুরের ও রাতের খাবার কমপ্লিমেন্টারি সেভিংস হিসেবে দিচ্ছেন।
শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত আরেক জনপ্রিয় রিসোর্ট হচ্ছে গ্র্যান্ড সুলতান রিসোর্ট। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, তাঁদের সর্বনিম্ন ২৩ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ ১০ হাজার টাকার বিভিন্ন প্যাকেজ রয়েছে। আগামী ৪ তারিখ পর্যন্ত সব প্যাকেজ বুকিং শেষ হয়েছে। আর ঈদ উপলক্ষে তাঁরা ২৩ হাজার টাকার প্যাকেজে কমপ্লিমেন্টারি সকালের নাশতা, দুপুরের ও রাতের খাবার দিচ্ছেন।
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় অবস্থিত দ্য প্যালেস লাক্সারি রিসোর্টেরও একই অবস্থা। এই রিসোর্টে ২৪ হাজার টাকা থেকে দেড় লাখ টাকার মধ্যে বিভিন্ন প্যাকেজ রয়েছে। তবে কিছু প্যাকেজে মূল্য ছাড় রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা জানান, ঈদ উপলক্ষে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত দ্য প্যালেসের সব রুম বুক হয়ে গেছে।
দেশের ভ্রমণপ্রিয় মানুষের আরেক পছন্দের জায়গা কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। জেলার হোটেলমালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছর ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে ৯ লাখের বেশি পর্যটক ভ্রমণ করেছিলেন কক্সবাজারে। এবার আগের বছরের চেয়েও বেশি ভিড় হবে বলে প্রত্যাশা হোটেল-মোটেলের মালিকদের।
কক্সবাজার কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এবারের ঈদের ছুটির দ্বিতীয় দিন থেকে হোটেল-মোটেলগুলো বুকিং হয়েছে। ঈদের ছুটি আগামী ৫ এপ্রিল পর্যন্ত বেশির ভাগ হোটেলে শতভাগ বুকিং রয়েছে। এ সময়ে আমরা দৈনিক এক থেকে দেড় লাখ পর্যটক আশা করছি। এ ছাড়া ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত অর্ধেকের বেশি কক্ষ বুকিং থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।’