প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি পার্বত্য জেলা বান্দরবান। তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে শান্তি প্রিয় জেলা হিসেবেই খ্যাত এ বান্দরবান। দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ তাজিংডং, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কেউক্রাডংসহ অসংখ্য পাহাড়, ঝিরি-ঝরনা ও খুম রয়েছে বান্দরবানেই। চিম্বুক, নীলগিরিতে অনায়াসে মেঘের ছোঁয়া পাওয়া যায় ।
তবে পাহাড়ে কিছু সশস্ত্র সন্ত্রাসী কার্যক্রমের কারণে বিগত কয়েক বছর ধরে এই জেলা ছিল অশান্ত। বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় ধীরে ধীরে পর্যটদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে দেবতাখুমসহ অন্য পর্যটনকেন্দ্রগুলো। আর ঈদুল ফিতর উপলক্ষে লম্বা ছুটির কারণে দেশি-বিদেশি পর্যটকের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠেছে বান্দরবান।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এবারে ঈদ উপলক্ষে বিশ রমজান থেকেই বান্দরবানের হোটেল-মোটেলের ৮০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়েছে। এর আগে গেল বছরের হঠাৎ করে রুমা ও থানচিতে ব্যাংক ডাকাতি, অস্ত্র লুট, ম্যানেজার অপহরণের ঘটনায় অস্থির হয়ে পড়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভুমি বান্দরবান। শুরু হয় যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান আর এই খবর দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়লে একের পর এক শুরু হয় বুকিং বাতিল। পর্যটক না আসার কারণে এই মৌসুমে পর্যটনসংশ্লিষ্টদের গুনতে হয়েছে কোটি কোটি টাকার লোকসান।
পর্যটকদের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠেছে বান্দরবানবর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় ধীরে ধীরে পর্যটদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে দেবতাখুমসহ পর্যটনকেন্দ্রগুলো। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বান্দরবানে নেমেছে পর্যটকের ঢল। এদিকে, ঈদের ছুটিতে হোটেল-মোটেলে রয়েছে অগ্রিম বুকিং। আর এ কারণে আগের লোকসানের অনেকটাই পুষিয়ে দিতে পারবেন বলে আশা করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক ফেরদৌসী রহমান বলেন, ‘বান্দরবান আমি আগে একবার এসেছি। তখনই মনে করেছি আবার এখানে আসবো, তাই আবার এসেছি। মেঘলা, নীলাচল ঘুরেছি। অনেক অপরূপ এ বান্দরবান।’
হোটেল ম্যানেজার বাপ্পি বলেন, ‘গত বছর ঈদের সময় কুকিচিনের উৎপাতের কারণে বান্দরবানের হোটেল ব্যবসায়ীসহ পর্যটন খাতে অনেক ক্ষতি হয়েছে। তবে এবার সেই ক্ষতি অনেকটা পুষিয়ে উঠবে।’
আরণ্যক নামে স্থানীয় একটি হোটেলের মালিক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা সব সময় পর্যটকদের কথা ভাবি। আর তাই বিশেষ ছাড়ের পাশাপাশি তারা যেন হোটেলে নিরাপদে এবং স্বাচ্ছন্দ্যে রাতযাপন করতে পারেন সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে। আশা করছি, পর্যটকরা ভালোভাবে রাতযাপন করতে পারবেন।’
বান্দরবান জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি বলেন, ‘বান্দরবানের বিভিন্ন পয়েন্টে নিরাপত্তার জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশ রয়েছে। তাই এ শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। মালিক সমিতির লোকজন যেন বাড়তি ভাড়া আদায় করতে না পারে সেজন্য মোবাইল টিম কাজ করছে। এ ছাড়া বিদেশি পর্যটকদের জন্য যে ওয়েবসাইট রয়েছে সেটিও সক্রিয় রয়েছে। পর্যটকদের আর্কষণ করতে পর্যটনসংশ্লিষ্টরা বিশেষ প্যাকেজ চালু করেছেন। এ ছাড়াও বান্দরবানের বন্ধ থাকা তিনটি উপজেলার মধ্যে একটি ঈদ পর্যটনকে কেন্দ্র করেই খুলে দেওয়া হয়েছে। সর্বোপরি এবারের ঈদ পর্যটকরা অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে কাটাতে পারবেন বলেও তিনি আশাবাদী।’