পরিবারের সদস্য, বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়দের নিয়ে ঈদের ছুটি কাটাতে মানুষ ভিড় করছেন পদ্মা সেতু এলাকায়। শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে পদ্মা সেতু ও এর আশপাশের বিভিন্ন স্থান, অবকাঠামো ঘুরে দেখছেন দর্শনার্থীরা। সেই সঙ্গে নৌকায় করে ঘুরছেন। ঈদের চতুর্থ দিনে আজ বৃহস্পতিবার নির্মল বাতাসে পদ্মা নদীর নৈসর্গিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছেন তাঁরা।
হাজারো দর্শনার্থীদের উপস্থিতির কারণে জাজিরার নাওডোবা ও শিবচরের কাঁঠালবাড়ি পর্যন্ত নদীর তীরজুড়ে বসেছে মেলা। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা নানা কিছুর পসরা নিয়ে বসেছেন।
ফরিদপুরের নগরকান্দা এলাকা থেকে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের নিয়ে পদ্মা সেতু এলাকায় পিকনিকে এসেছেন সুলতান হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিবারের অধিকাংশ মানুষ ব্যবসায়ী। ব্যস্ততার কারণে পরিবার ও আত্মীয়দের সঙ্গে আনন্দ উদ্যাপন করতে পারি না। তাই এ বছর ঈদের ছুটিতে সবাই মিলে পদ্মা সেতু এলাকায় পারিবারিক মিলন মেলা উদ্যাপন করেছি। সবার সঙ্গে আনন্দ-আড্ডায় হইচই করে একটি সুন্দর দিন কাটিয়েছি।’
শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা ও মুন্সিগঞ্জের মাওয়া এলাকার ওপর দিয়ে পদ্মা সেতু নির্মিত হয়েছে। ২০২২ সালের জুন মাসে পদ্মা সেতু উদ্বোধন করা হয়। এর পর এই সেতু হয়ে ওঠে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে ঢাকাসহ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগের মাইলফলক। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিনিয়ত মানুষ আসছেন পদ্মা সেতু ও এর আশপাশ এলাকায়।
সিলেটে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন সাকিব আহম্মেদ। তিনি কখনো দেশের দক্ষিণাঞ্চলে আসেননি। এবার ঈদের পর স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে ঘুরতে এসেছেন পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে। সাকিব আহম্মেদ বলেন, ‘পদ্মা সেতুর অনেক আলোচনা শুনেছি। উদ্বোধনের পর থেকেই আগ্রহ ছিল সেতু দেখতে আসব। কিন্তু সময় ও পরিস্থিতির কারণে আসতে পারিনি। ভালো লেগেছে। তবে পর্যটক আকৃষ্ট করার মতো কোনো ব্যবস্থা নেই। এখানে পর্যটনবান্ধব পরিবেশ প্রয়োজন।’
নরসিংদীর বেলায়েত হোসেন ও রুমানা আফরিন দম্পতি শিক্ষকতা করেন। দুই সন্তান নিয়ে তাঁরা কুয়াকাটা যাচ্ছেন। পথে যাত্রাবিরতি দিয়ে পদ্মা সেতু এলাকা ঘুরে দেখছেন। বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘আমাদের অনেক দিনের ইচ্ছে ছিল পদ্মা সেতু দেখব। সেই ইচ্ছে পূরণ করার জন্য এ বছর ঈদের ছুটিতে কুয়াকাটা ভ্রমণ রেখেছি। সেই সঙ্গে একটি দিন পদ্মা সেতু এলাকায় কাটিয়ে গেলাম।’
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মালিগ্রাম এলাকার মিরাজ হোসেন পদ্মা সেতু এলাকায় ঘুরে ঘুরে শিশুদের খেলনা ও সাজসজ্জার মালামাল বিক্রি করেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সেতু চালু হওয়ার পর থেকেই এখানে মানুষ আসেন ঘুরতে। তবে ঈদের কারণে মানুষের চাপ অনেকগুণ বেড়েছে।
জাজিরার নাওডোবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন বলেন, যাঁরা পদ্মা সেতু এলাকায় আসেন, তাঁরা নিরাপত্তার কারণে সেতুর আশপাশে, টোলপ্লাজা ও এক্সপ্রেসওয়েতে দাঁড়াতে পারেন না। তাই সবাই ছুটে আসেন সেতুর নিচে নদীর তীর রক্ষা বাঁধের ওপর। ঈদের ছুটির কারণে লোকসমাগম হয় অনেক বেশি। স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি তাঁরাও এলাকার মানুষ নিয়ে শৃঙ্খলা ঠিক রাখার জন্য কাজ করছেন।