প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে চুরির ধরনও। এক সময় চোরেরা সশরীরে উপস্থিত হয়ে চুরি করত, আর এখন আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে তৈরি হচ্ছে নিত্যনতুন প্রতারণার ফাঁদ। বর্তমান সময়ের সাইবার অপরাধীরা অত্যাধুনিক কৌশল অবলম্বন করে অনলাইনে ফাঁদ পেতে হাতিয়ে নিচ্ছে ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য, যা বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে অসংখ্য মানুষকে।
সম্প্রতি মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই) সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে, অনলাইনে বিনামূল্যে ফাইল কনভার্ট করার প্রলোভনে ব্যবহারকারীদের ব্যাংকিং তথ্য, পাসওয়ার্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে হ্যাকাররা। বিশেষ করে ভুয়া ডকুমেন্ট কনভার্টার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এসব চুরির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে।
এফবিআই জানিয়েছে, হ্যাকাররা সাধারণ ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করতে বিশ্বাসযোগ্য ওয়েবসাইটের হুবহু নকল সংস্করণ তৈরি করছে। অনেক ক্ষেত্রে শুধু ওয়েবসাইটের ঠিকানায় সামান্য পরিবর্তন এনে তা আসলের মতো করে সাজানো হয়, যা চিনতে পারা কঠিন হয়ে পড়ে। শুধু ব্যক্তিগত তথ্য নয়, বড় বড় প্রতিষ্ঠানও এসব প্রতারণার শিকার হচ্ছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া স্টেটের ডেভেনপোর্ট শহরের একটি প্রতিষ্ঠানে এমনই এক ভুয়া ফাইল কনভার্টারের মাধ্যমে তথ্য হাতিয়ে নিয়ে বড় ধরনের র্যানসমওয়্যার হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন ফাইল কনভার্টার ব্যবহারের আগে ওয়েব ঠিকানা ভালোভাবে যাচাই করা উচিত। অনেক সময় ভুয়া ওয়েবসাইটের লিংক দেখতে আসল ওয়েবসাইটের মতোই মনে হয়, তবে সেখানে কিছু অক্ষরের সূক্ষ্ম পার্থক্য থাকতে পারে।
এছাড়া সার্চ ইঞ্জিনের শীর্ষে থাকা বিজ্ঞাপন দেখে বিভ্রান্ত হওয়া উচিত নয়, কারণ অনেক প্রতারকই ভুয়া ওয়েবসাইটকে প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে। নিরাপদ থাকার জন্য পরিচিত এবং বিশ্বস্ত সফটওয়্যার বা অ্যাপ ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো উপায়, যাতে তৃতীয় পক্ষের সন্দেহজনক ওয়েবসাইটের ওপর নির্ভর করতে না হয়।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখতে সচেতনতা বাড়ানো এবং কেবলমাত্র প্রামাণিক সফটওয়্যার ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করাই প্রতারণার ফাঁদ এড়িয়ে চলার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। অতএব, প্রযুক্তির সুবিধা ভোগ করতে চাইলে অবশ্যই এর বিপজ্জনক দিকগুলো সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরি!