স্কুল জীবন শেষ না করেও গেম তৈরী করে ৪০০ কোটি ডলারের মালিক

তাঁর জন্ম একটি টেক্সটাইল কারখানা লাগোয়া বস্তিতে। স্কুলজীবনও শেষ করতে পারেননি। কিন্তু তিনিই এখন একজন কোটিপতি উদ্যোক্তা। তাঁর নাম ব্যাং জুন-হাইয়ুক। তাঁর গেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নেটমার্বেল গেমস করপোরেশন গত সাত বছরের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় আইপিও সংগ্রহ করেছে। বর্তমানে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪০০ কোটি ডলার।

ব্লুমবার্গের খবরে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার মূল প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় বড় পদে রয়েছেন বিভিন্ন ব্যবসায়ী পরিবারের সদস্যরা। এখানে বংশানুক্রমিক রাজত্ব চলে। কিন্তু ব্যাং জুনের কাহিনি একেবারেই আলাদা। তিনি ২০০০ সালে প্রথম কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাঁর প্রতিষ্ঠান নেটমার্বেল কাজ করে মোবাইল গেম নিয়ে।

গুগল প্লে স্টোরে এই কোম্পানির তৈরি মোবাইল গেমের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। বিশেষ করে লিনিয়েজ ২ রেভল্যুশন ও মার্বেল ফিউচার ফাইট নামের গেম দুটি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়।নেটমার্বেলের ২৪ দশমিক ৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে ব্যাংয়ের দখলে। কিছুদিন আগে আইপিও থেকে তিনি আয় করেছেন প্রায় ২৯০ কোটি ডলার।

পড়াশোনা বেশি দূর না হওয়ায় এখনো ইংরেজিতে খুব একটা দক্ষ নন এই কোটিপতি। তবে গেম–সংক্রান্ত বিভিন্ন সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন হরহামেশা। গত বছরের জুনে লস অ্যাঞ্জেলেসে ইথ্রি গেমিং এক্সপোতে গেম দুনিয়ার হর্তাকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি। বিশ্বখ্যাত ব্যবসা সাময়িকী ফোর্বস ব্যাং জুনকে এশিয়া অঞ্চলের উদীয়মান উদ্যোক্তা হিসেবে অভিহিত করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলো ব্যাং জুনকে তুলনা করে স্টিভ জবসের সঙ্গে। অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতার জীবনের সঙ্গে কিছুটা মিলও আছে ব্যাংয়ের। স্টিভের মতোই নিজের প্রতিষ্ঠান ছেড়ে একবার চলে গিয়েছিলেন তিনি। স্টিভ অ্যাপল ছাড়লেও প্রযুক্তি খাত ছাড়েননি। কিন্তু গেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ছেড়ে ব্যাং নিয়েছিলেন কফিশপের ব্যবসা!

এরপর আবার ফিরে আসেন নেটমার্বেলে। আর বনে যান কোটিপতি উদ্যোক্তা। ব্লুমবার্গ ইন্টেলিজেন্সের বিশ্লেষক অ্যানথিয়া লাই বলেন, ‘বাজার সম্পর্কে নিজের ভালো ধারণা ও নেতৃত্ব গুণেই কোম্পানিকে বর্তমান অবস্থায় নিয়ে এসেছে ব্যাং। বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে প্রয়োজন মতো অংশীদারত্বও তৈরি করেছেন তিনি।’

মাত্র আটজন কর্মী নিয়ে নেটমার্বেল শুরু করা এই ব্যবসায়ী নিজের গরিব থাকার দিনগুলো নিয়ে বলতে পছন্দ করেন না। পছন্দ করেন না গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতেও। তিনি শুধু নিজের কাজটাই করে যেতে যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: