যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে স্বজন হারানোর যন্ত্রণা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে এক বন্দুকধারীর হামলায় কমপক্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন। গত সোমবার হাফ মুন বে এলাকায় এই বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি ক্যালিফোর্নিয়ায় দ্বিতীয় নির্বিচার গুলির ঘটনা। এ ছাড়া সোমবার আইওয়াতে পৃথক বন্দুক হামলায় দুই ছাত্র নিহত হন। এর আগে শনিবার রাতে মনটেরি পার্কে চীনা নববর্ষ উদ্‌যাপনকালে একটি নাচের ক্লাবে বন্দুক হামলায় কমপক্ষে ১১ জন নিহত হন।

এসব হামলার অনেক কিছুই অজানা রয়ে গেছে। তবে স্বজন হারানোর যন্ত্রণা ও ভয়াবহতার এই দৃশ্যগুলো যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমে বাড়ছে। সিএনএনের হিসাব অনুসারে, এ নিয়ে চলতি বছরের প্রথম তিন সপ্তাহে ৩৮টি নির্বিচার গুলির ঘটনা ঘটেছে। অবশ্য গান ভায়োলেন্স আর্কাইভের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এ সংখ্যা ৩৯।

গান ভায়োলেন্স আর্কাইভ ও সিএনএনের সংজ্ঞা অনুযায়ী, একটি ঘটনায় বন্দুকধারী ছাড়া কমপক্ষে চারজন মানুষ প্রাণ হারালে সেটি ‘ম্যাস শুটিং বা নির্বিচার গুলি’র ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়। অবশ্য ২০১২ সালের আইনে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এফবিআই) সংজ্ঞা অনুযায়ী, একটি ঘটনায় তিন বা ততোধিক ব্যক্তি নিহত হলে, সেটি ‘নির্বিচার গুলি’র পর্যায়ে পড়ে।

গান ভায়োলেন্স আর্কাইভের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৩৯টি নির্বিচার বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত ৯ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নির্বিচার গুলির ঘটনা ঘটেছে ২০২১ সালে। ওই বছর যুক্তরাষ্ট্রে ৬৯০টি নির্বিচার গুলির ঘটনা ঘটে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৪৭টি ঘটনা ঘটে গত বছর। আর ৬১০টি নির্বিচার গুলির ঘটনা ঘটেছে ২০২০ সালে।

গত বছর জেএএমএ নেটওয়ার্ক ওপেনে প্রকাশিত একটি গবেষণায় গত তিন দশকে আগ্নেয়াস্ত্রে মৃত্যুর ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করা হয়। এতে বলা হয়, ১৯৯০ সাল থেকে ১০ লাখের বেশি মানুষ আগ্নেয়াস্ত্রে প্রাণ হারিয়েছেন।

মার্কিনদের চেয়ে অন্যান্য দেশের খুব কম মানুষই এত বেশি আগ্নেয়াস্ত্র রাখেন। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক স্মল আর্মস সার্ভের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ৩৯ কোটি ৩০ লাখ ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্র আছে। সে হিসাবে প্রতি ১০০ জনের বিপরীতে ১২০টি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। অবশ্য অনিবন্ধিত ও অবৈধ অস্ত্র কেনাবেচার কারণে ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের প্রকৃত হিসাব পাওয়া কঠিন। ২০২২ সালের অক্টোবরে গ্যালাপের এক জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৪৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন বাসায় আগ্নেয়াস্ত্র রাখার কথা জানিয়েছেন।

ক্যালিফোর্নিয়া থেকে মেরিল্যান্ড পর্যন্ত বাসিন্দারা যখন নির্বিচার বন্দুক হামলার দুঃসহ স্মৃতি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ছটফট করছেন, তখন অন্যরা নিজেদের আঙিনায় একই ধরনের সহিংসতার শঙ্কা নিয়েই দিন যাপন করছেন। রোববার ফ্লোরিডায় এক অনুষ্ঠানে ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস বলেন, ‘এই কক্ষের এবং আমাদের দেশের সবাই বুঝতে পারছি, এই সহিংসতা বন্ধ করতে হবে।’

কিন্তু আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কংগ্রেস বিভক্ত। নীতিগত মতভিন্নতা ব্যাপক। আর এই বন্দুক–সংস্কৃতির শিকড়ও অনেক গভীরে। ফলে নির্বিচার গুলির ঘটনা কীভাবে বন্ধ হবে, তা দেখতে হবে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সোমবার দ্রুত দুটি বিল পাস করতে কংগ্রেসের আইনপ্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বিল দুটিতে অ্যাসাল্ট ওয়েপনস ও বেশি বুলেট ধারণক্ষমতার ম্যাগাজিন নিষিদ্ধ এবং অস্ত্র ক্রেতার বয়সসীমা ২১ বছরে উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: