মাইক্রোসফট ১০,০০০, গুগল ১২,০০০, আমাজন ১৮,০০০ ছাঁটাই’র ঘোষণা চাকরি হারানোর ভীতি ছড়িয়ে পড়ছে

ইনফ্লেশন কমছে, আমেরিকার অর্থনীতি ইতিবাচক পথে হাঁটছে, গত খৃস্টমাসে খুচরো বিক্রিও বেড়েছে- এই ধরনের আশাব্যঞ্জক কথা যখন জনগণকে ভরসার জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে, তখন গত সপ্তাহে তিনটি বিশ্ববিখ্যাত টেক কোম্পানির বিপুল সংখ্যক কর্মী ছাঁটাই’র খবরে ঘরে ঘরে নেমে এসেছে অনিশ্চয়তার হতাশা। কারণ কাজ হারালে নতুন কাজ পাওয়া এই সময় মোটেও সহজ নয়। বুধবার ব্লুমবার্গ নিউজের বরাতে খবরটি দিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট। খবরটি হলো মাইক্রোসফট কর্পোরেশন এবং আমাজন ২৮,০০০ কর্মী ছাঁটাই শুরু করেছে। এর মধ্যে ১০,০০০ মাইক্রোসফট কর্পোরেশনের আর ১৮,০০০ আমাজন ডটকমের। আর শুক্রবার সকালে নিউইয়র্ক টাইমস জানালো গুগল ছাঁটাই করবে ১২,০০০ কর্মী।

অপরদিকে শুক্রবার নিউইয়র্ক টাইমস জানায় আমাজনের সিইও জেফ বেজোস তার মালিকানাধীন ওয়াশিংটন পোস্ট অফিসে হাজির হন বৃহস্পতিবার সকালে। তিনি বিভিন্ন প্রসঙ্গে আলাপকালে আভাস দেন, ওয়াশিংটন পোস্টেরও কর্মী ছাঁটাই করা হবে। এর আগে গত ডিসেম্বরে সিসকো তাদের মোট ওয়ার্কফোর্সের ৫ শতাংশ, নভেম্বরে ডোরড্যাশ ৬ শতাংশ, রেডফিন ১৩ শতাংশ কর্মীকৈ লেঅফের ঘোষণা দেয়। চলতি মাসে আর যেসব কোম্পানি লেঅফের ঘোষণা দিয়েছে, সেগুলো হলো গোল্ডম্যান স্যাকস মোট ওয়ার্কফোর্সের ৮ শতাংশ, ডিরেক্টটিভি ৫ থেকে ৬ শতাংশ, কার্টা ১০ শতাংশ, ভিমিও ১১ শতাংশ। গতবছর নভেম্বরে ফেসবুক ১১০০০, টুইটার ৩,৭০০, স্ন্যাপচ্যাট ১,৩০০, সাউন্ডক্লাউড ২০ শতাংশ, নেটফ্লিক্স ২ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করেছে। গত বছর টেক কোম্পানিতে মোট ছাঁটাই হয়েছে ১০৭,০০০ কর্মী।

উল্লেখ্য এইসব টেক কোম্পানিতে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী ইমিগ্রান্ট কাজ করেন। মাইক্রোসফট কর্পোরেশন, আমাজন, গুগল, গোল্ডম্যান স্যাকস ইত্যাদি পৃথিবীর সবচেয়ে সম্মানীয় প্রতিষ্ঠান। এইসব কোম্পানিতে যারা কাজ করেন তাদের বেতনও ৬ ডিজিটের ঘরে। এইসব কোম্পানিতে যোগ দেয়ার পর বেশির ভাগেরই জীবনযাপন পরিবর্তন হয়ে যায়। আকস্মিক কাজ হারানোয় তাদের পরিবারে নেমে এসেছে চরম দুর্যোগ। অবশ্য কাজ ছোট হোক আর বড় হোক, কাজ হারানো কারো প্রত্যাশিত নয়। ফলে চাকরি হারিয়ে বা হারানোর আশংকায় এইসব মানুষের সংসারে এখন হাহাকার আর দীর্ঘশ্বাস।

বøুমবার্গ নিউজ বলছে, মাইক্রোসফট কর্পোরেশন, আমাজন ও গুগলএর জবকাটের খবরটি কর্মীদের মধ্যে হতাশা নিয়ে এসেছে। কিন্তু ক্রমাগত সেল কমে যাওয়ায় এবং অর্থনৈতিক মন্দার আশংকা এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে বলে উক্ত তিন কোম্পানির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ব্লুমবার্গ বলছে, প্যানডেমিকের সময় বিশ্বজুড়েই টেক কোম্পানিগুলো বিপুলভাবে লাভবান হয়েছে। কারণ সেসময় ইন-পারসন কাজকর্ম প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ডিজিটাল পদ্ধতি সেই স্থান দখল করায় কম্প্যুটার, স্মার্ট ফোন, আইপ্যাড, ল্যাপটপসহ সফটওয়্যারের চাহিদা বেড়ে যায় বিপুলাংশে। ফলে এইসব টেক কোম্পানিতে বিপুল সংখ্যক কর্মী নিয়োগ দেয়া হয়। তাদের অধিকাংশই রিমোটে অনলাইনে কাজ করেন। কিন্তু প্যানডেমিক কেটে যাওয়ায় সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়ে যায়। সেই সাথে ইনফ্লেশন, অর্থনৈতিক মন্দার আশংকার কথা ভেবে টেক কোম্পানিগুলো অর্থ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে বিপুল কর্মী ছাঁটাই করছে।

কর্মী ছাঁটাইএর ঘোষণার পাশাপাশি মাইক্রোসফট কর্পোরেশন ঘোষণা করেছে তারা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সসহ স্ট্রাটেজিক ডিপার্টমেন্টে নতুন কর্মী নিয়োগ করবে।

টেক ফিল্ডের অভূতপূর্ব বিকাশে আমেরিকার জব মার্কেট তছনছ হয়ে যাবে বলে অনেকে আশংকা করছেন। এই অল্প দিনে একের পর এক লেঅফ ও ছাঁটাইএর সংবাদ তারই পূর্বাভাস দিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: