1. b_f_haque70@yahoo.com : admin2021 :
  2. editor@cholojaai.net : cholo jaai : cholo jaai
প্রাইমারি নির্বাচনে বাংলাদেশি শাহানা-সোমার জয়
শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১, ০২:৫৩ অপরাহ্ন

প্রাইমারি নির্বাচনে বাংলাদেশি শাহানা-সোমার জয়

চলযাই ডেস্ক :
  • আপডেট সময় শনিবার, ১০ জুলাই, ২০২১

নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের প্রাইমারিতে দুই আমেরিকান-বাংলাদেশি জয়ী হয়েছেন। তাঁরা হলেন ব্রুকলিনের কাউন্সিল ডিস্ট্রিক্ট-৩৯-এর কাউন্সিলওমেন প্রার্থী শাহানা হানিফ ও কুইন্স থেকে সিভিল বিচারক প্রার্থী সোমা সাঈদ।

নগরের আইনসভায় সদস্য হিসেবে এবং আরেকজন বিচারক হিসেবে অভিষিক্ত হওয়াটা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। যদি না কোনো অপ্রত্যাশিত বিপর্যয় ঘটে।

র‍্যাংক চয়েস ভোটে ডেমোক্র্যাট এলাকা ব্রুকলিনের ডিস্ট্রিক্ট-৩৯ থেকে প্রাইমারি নির্বাচনে জয় পাওয়া শাহানা ও বিচারক পদে জয়ী সোমা কথা বলেছেন প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার সঙ্গে। যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিক আন্দোলনের একজন তরুণ সংগঠক হিসেবে জনসমাজে আগে থেকেই পরিচিত হয়ে উঠেছেন শাহানা। নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ঘরে ঘরে শাহানা হানিফ নিজেকে অনুকরণীয় করে তুলতে পেরেছেন এর মধ্যেই। শাহানার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ব্রুকলিনের ক্যানসিংটনে। ভয়ংকর ব্যাধি লুপাসে আক্রান্ত হয়েছেন জীবনের শুরুতেই। মরণব্যাধি লুপাস সারভাইভার শাহানা। শাহানার বাবা-মা যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হয়েছেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থেকে। বাবা মোহাম্মদ হানিফ যুক্তরাষ্ট্রে চট্টগ্রাম সমিতির সাবেক সভাপতি। বর্তমানে শক্তিশালী এ আঞ্চলিক সংগঠনের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান।

রাজনীতি সচেতন পরিবারে তিন কন্যা সন্তানের মধ্যে জ্যেষ্ঠ শাহানা। বার্নি স্যান্ডার্সের একান্ত অনুসারী হিসেবে উদারনৈতিক রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তারকা রাজনীতিক আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্টেজসহ উদারনৈতিকদের সমর্থন পেয়েছেন তিনি নির্বাচনে।

শাহানা হানিফ ব্রুকলিন সরকারি পিএস ২৩০ স্কুল থেকে কিউনি ব্রুকলিন কলেজ পড়াশোনা করেছেন। পড়াশোনা শেষে যোগ দেন সিটি কাউন্সিলের কর্মকর্তা পদে। সংযুক্ত ছিলেন নিজের এলাকা ডিস্ট্রিক্ট ৩৯-এর কাউন্সিল মেম্বার ব্র্যাড লেন্ডারের অফিসে ডিরেক্টর অব অর্গানাইজিং অ্যান্ড কমিউনিটি এনগেজমেন্ট পদে।

শাহানা হানিফ বলেন, তিনি উৎফুল্ল। তিনি টিম মেম্বারদের প্রতি কৃতজ্ঞ। গর্বিত বাংলাদেশি বাবা মায়ের সন্তান এবং নিজেকে একজন মুসলিম নারী হিসেবে পরিচয় দেন শাহানা। তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের সবার স্বজন। আমি আপনাদের মনের কষ্টের কথা জানি। আমি প্রবাসীদের মনের ভাষা বুঝতে পারি। আমি আমার ভোটার ও শুভানুধ্যায়ী সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

সিটি কাউন্সিলে গেলে কোন বিষয়ে প্রথমে নজর দেবেন জানতে চাইলে শাহানা বলেন, দায়িত্ব পাওয়ার পর কাজের প্রথম অগ্রাধিকার হবে একটা নিরাপদ নির্বাচনী এলাকা। আমি চাই, আমার এলাকায় কোনো স্কুলে সমস্যা থাকবে না। মানুষের আবাসন নিয়ে সংকট থাকবে না। রাতারাতি সব হয়তো পাল্টাবে না। কিন্তু, শুরু করতে চাই। এই সিটিতে অভিবাসীদের সমস্যা নিয়ে ভাবার জন্য সময় এবং নেতৃত্ব দুটোই দরকার। আমাদের নিজেদের মধ্যে সম্প্রীতি আর সংহতির সংযোগটা বাড়াতে চাই।’

শাহানা আরও যোগ করে বলেন, বাংলাদেশিরা নিউইয়র্কে ইতিহাসের অংশ হতে যাচ্ছে। আমি সেই ইতিহাসের অংশ হিসেবে এমন কিছু করতে চাই, যেন সাধারণ মানুষ নিজেদের নিরাপত্তা, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা সুবিধা নিয়ে নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন।

শাহানা হবেন প্রথম মুসলিম নারী এবং নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের নির্বাচিত প্রথম দক্ষিণ এশীয় ব্যক্তি। তিনি ৫৭ শতাংশ ভোট পেয়েছেন প্রাইমারিতে (জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৫০ শতাংশ)। শাহানা বলেন, তাঁর সহকর্মীদের অপরিসীম সাধনা ও পরিশ্রমেই আজকের এই ফল।

৩ জুলাই প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা শাহানা বলেন, ভোটাররা তাঁর প্রতি যে আস্থা রেখেছেন, সেটি যেন অব্যাহত রাখা যায়, সে জন্য কাজ করবেন তিনি। ৫৭ শতাংশেরও বেশি ভোট পাওয়া শাহানার সঙ্গে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর ভোটে ব্যবধান অন্তত ১০ শতাংশ। শাহানা বলেন, র‍্যাংক চয়েস পদ্ধতি বেশ জটিল মনে হলেও এটি গণতন্ত্রের জন্য উপকারী।

ডেমোক্র্যাট-বহুল নিউইয়র্ক নগরীর সিটি কাউন্সিলে যাঁরা দলীয় প্রাইমারিতে জয়ী হবেন, তাঁরাই আগামী ২ নভেম্বরের মূল নির্বাচনে বিজয়ী হবেন বলে নিশ্চিতভাবে ধারণা করা যায়।

শাহানা হানিফ আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হলে বাংলাদেশি অভিবাসীবহুল নিউইয়র্কে নতুন ইতিহাসের সূচনা করতে পারেন। নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের তৃতীয় প্রজন্মের অভিবাসন চলমান। কিন্তু এখানে এখনো কোনো বাংলাদেশি জনপ্রতিনিধি হতে পারেননি। গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে চেষ্টা করে কোথাও নিজেদের কোনো ঐক্যবদ্ধ প্রার্থী দাঁড় করাতে পারেননি বাংলাদেশিরা।

এদিকে নগরের কুইন্স থেকে সিভিল বিচারক পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রার্থী সোমা সাঈদ নভেম্বরের চূড়ান্ত ভোটে নির্বাচিত হলে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে নিউইয়র্কের সিভিল বিচারক হিসেবে ১০ বছরের দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবেন।

৪ জুলাই সোমা বলেন, ‘আমাকে যারা ভোট দিয়েছেন, তাঁদের সবার প্রতি আমি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকব।’ তিনি কমিউনিটির সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এভাবেই আগামী নভেম্বরেও সবাইকে একত্র হয়ে ভোট দিতে যেতে হবে।

অ্যাটর্নি সোমা সাঈদের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলায়। স্বামী মিজানুর রহমান চৌধুরী একজন আইটি বিশেষজ্ঞ। স্ত্রীর সাফল্যে তিনিও কমিউনিটির সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

জ্যামাইকা হাইস্কুল পাস করার পর নিউইয়র্ক সিটি কলেজ হয়ে আলবেনি ল’ স্কুল থেকে আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করেন সোমা।
কুইন্স কাউন্টির জজ পদের লড়াইয়ে মোট ভোট পড়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ১৯৫টি। এর মধ্যে প্রায় ৫০ দশমিক ৯৫ শতাংশই পেয়েছেন সোমা।

সোমা বলেন, কমিউনিটিতে ঐক্য থাকলে ভবিষ্যতে বিপুলসংখ্যক প্রার্থী কমিউনিটি থেকে নির্বাচিত হয়ে আসবেন। বাংলাদেশিদের জয়ী হতে হলে প্রার্থীদের অন্য কমিউনিটিতে সম্পৃক্ততা আরও বাড়াতে হবে। পাশাপাশি এখানে রাজনৈতিকভাবে সচেতন হতে হবে।

সোমা সাঈদ নিউইয়র্কে নারী অধিকার ও সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে কাজ করছেন বেশ কয়েক বছর থেকে। তিনি বলেন, বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পেলে তিনি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সচেষ্ট থাকবেন। যে জনসমাজ থেকে তাঁর উঠে আসা, সেই জনসমাজের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতা বজায় রেখে সোমা সাইদ এগিয়ে যেতে চান সম্ভাবনার দেশ যুক্তরাষ্ট্রে। উজ্জ্বল করতে চান স্বদেশিদের মুখ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 cholojaai.net
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com