মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ০৪:১৬ অপরাহ্ন
Uncategorized

তাজিকিস্তান ভ্রমণে যা করণীয় ও বর্জনীয়

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১৮ মার্চ, ২০২১

তাজিকিস্তান দক্ষিণ পূর্ব মধ্য এশিয়ার পবর্তবেষ্টিত একটি রাষ্ট্র। দেশটির উত্তরে কিরগিজস্তান, উত্তরে ও পশ্চিমে উজবেকিস্তান, পূর্বে চীন ও দক্ষিণে আফগানিস্তান। দেশটির বৃহত্তম শহর ও রাজধানী দুশানবে।

যারা প্রকৃতিকে ভালোবাসেন, প্রকৃতির মাঝে বুঁদ হয়ে থাকতে চান, তাদের জন্য আদর্শ স্থান তাজিকিস্তান। দেশটির ৯৩ শতাংশই পর্বতঘেরা। সাথে আছে পাহাড়ের উপরে আলপাইন হ্রদ। আবার যারা ইতিহাসপ্রেমি, তাদের জন্যও দেশটি বেশ শিক্ষণীয়। কারণ যুদ্ধ-বিগ্রহ দেশটিতে লেগেই ছিল। তাছাড়া বারে বারে আক্রান্ত হয়েছে বহি:শত্রু আক্রমণে। আক্রমণকারীদের দলে আলেকজেন্ডার দ্য গ্রেট থেকে শুরু করে চেঙ্গিস খানও রয়েছেন। আবার বিশ্বের বৃহত্তম বৌদ্ধ মূর্তিও রয়েছে এখানে। দেশটিতে ঘুরতে যেয়ে দেখতে পারেন প্রাচীন জরোস্ট্রিয়ান মন্দির, কথা বলতে পারেন ইমাম আল-বুখারির মাতৃভাষায়। প্রবাস মেলা’র নিয়মিত ভ্রমণ টিপসের এবারের পর্বে তাজিকিস্তান ভ্রমণে করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো তুলে ধরা হল।

পোশাক-পরিচ্ছেদ

তাজিকিস্তান একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। কিছু মুসলিম রাষ্ট্রের মত এখানে ইসলামী পোশাক পড়া বাধ্যতামূলক নয়। কনুই এবং হাঁটু পর্যন্ত পোশাক থাকলেই বুঝা যাবে যে আপনি স্থানীয় সংবেদনশীলতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে গ্রামাঞ্চলে এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ে পোশাকে কিছুটা কঠোরতা অর্থাৎ রক্ষণশীল পোশাক পড়তে হয়।

জুতা পড়া

তাজিকিস্তানে স্থানীয়দের বাড়িতে অথবা মসজিদে প্রবেশের সময়  কেউ না বললেও জুতা খুলে প্রবেশ করতে হবে। মধ্য এশিয়ার সব রাষ্ট্রগুলোর রাস্তা এবং লোকজনের বাড়ির আশপাশের গালিচা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখেন। তাই আপনাকে এ বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে যে, আপনার কারণে যেনো কোন পরিবেশ নষ্ট না হয়।

ব্যক্তিগত প্রশ্ন

তাজিকিস্তানে অন্যান্য দেশের তুলনায় একজন ভ্রমণকারীকে কিছু ব্যক্তিগত বিষয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। যেমন ধরুন, আপনার বেতন, বয়স, পারিবারিক অবস্থা, রাজনৈতিক আদর্শ অথবা এ জাতীয় আরও নানান প্রশ্নের মুখোমুখী হলে অবাক হবেন না। মধ্য এশিয়াতে এগুলো একপ্রকার কমন প্রশ্ন বলেই ধরে নেয়া হয়।

হাসি

তাজিকিস্তানের সংস্কৃতিতে সে দেশের লোকেরা ভিনদেশীদের সাথে খুব ভালো আচরণ এবং হাসিখুশিতে কথা বলে থাকেন। সেখানে একটা কথা প্রচলন আছে যে, ‘অতিথিরা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি উপহার স্বরূপ’  (“A guest is a gift from God”) যে কারণে তারা সবসময় সবার সাথে হাস্যরস থাকার চেষ্টা করেন। দেশটিতে ভ্রমণকারী হিসেবে বিষয়গুলো আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে।

তাজিকিস্তান ভ্রমণে খরচ

তাজিকিস্তান ভ্রমণে আপনার কেমন বাজেট লাগতে পারে তা নির্ভর করে আপনার ভ্রমণের ধরনের উপর। সেখানে হোমেস্টে প্রতি রাতে ১০ ডলার খরচ হতে পারে। হোটেলগুলোতে প্রতি রুম এক রাতে ৫০ ডলারের বেশি খরচ পড়তে পারে। হোমেস্টেতে তিনটি খাবারে ১৫ ডলারের বেশি খরচ হওয়ার কথা নয়। তাছাড়া একটি আন্তর্জাতিক মানের হোটেলে লাঞ্চ এবং ডিনারে আপনার ৩০ ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে।

পানীয় খাবার

চা তাজিকিস্তানে সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়। দেশটির কোথাও গেলে চায়ের কাপ হাতে না দেখাটা আপনার জন্য কঠিনই বটে। সেখানে গ্রীন এবং কালো চা দুটোই সমান জনপ্রিয়, তবে চায়ের সাথে চিনি কখনো ব্যবহার করা হয়না। এছাড়াও দেশটিতে অন্যান্য পানীয়ের মধ্যে জুস, সফ্ট ড্রিঙ্কস কপি খেতে পারবেন। যদিও কোনটিই চায়ের মত জনপ্রিয় নয়!

তাছাড়া তাজিকিস্তান মুসলিম দেশ হওয়ায় মদ পান খুব একটা হয় না। তবে দেশটি আগে সোভিয়েত ইউনিয়নের দীর্ঘ শাসনামলের কারণে এ্যালকোহল জাতীয় জিনিস পান করা খুব একটা নিষেধ নেই। এমনকি স্থানীয় কেউ এগুলো না পান করলেও আপনার খেতে খুব একটা অসুবিধা হবে না। দেশটিতে এ্যালকোহলের মধ্যে বিয়ার এবং ভদকা খুবই জনপ্রিয়। রেস্টুরেন্ট, বার এবং শপিংমলগুলোতে এগুলো যথেষ্ট পরিমাণে পাওয়া যায়।

খাবারের নিয়মাবলী

তাজিকিস্তানের জনগণ খুবই বন্ধুভাবাপন্ন। বিশেষ করে পর্বত এলাকার জনগণ একজন ভিনদেশী হিসেবে আপনাকে নিমন্ত্রণ জানালে অবাক হওয়ার কিছু নেই। আর আপনি কারো বাড়িতে আমন্ত্রিত হলে কিছু উপহার নিতে ভুলবেন না যেনো। উপহার হিসেবে মিষ্টি, আপনার হোস্ট যদি এ্যালকোহল পছন্দ করে সেক্ষেত্রে (a bottle of vodka) ভদকা এর বোতল খুবই দারুণ উপহার হতে পারে।

খাবারের সময় আপনাকে টেবিলের একটি আসনে বসে অতিথি হিসেবে খাবার আপনাকে দিয়েই শুরু হবে। প্রথমে আপনাকে এক কাপ চা অথবা স্যুপ দিবে। কিছু কিছু পরিবারে ভদকার একগ্লাস দিয়ে খাবার শুরু হতে পারে এবং তারা যদি মদ্যপান শুরু করে তবে স্থানীয়দের সাথে অপনাকেও তাতে যোগ দিতে হতে পারে।

তাজিকিস্তানে খাবারের নিয়মগুলো এজন্য মানা উচিত যে, আপনার কোন ভুলের কারণে স্থানীয়রা বিরক্ত হতে পারেন।

টেবিলে একাধিক খাবার থাকলে বিরক্ত হওয়া যাবে না, এমন হতে পারে যে হোস্ট অন্য কাউকে সেখান থেকে খাবার পরিবেশন করছে। আবার কোন কোন সময় বিশেষ ব্যক্তিদের জন্য খাবার সংরক্ষিত থাকে। স্থানীয়দের সাথে কোন রেস্তোরায় খেতে গেলে অবশ্যই মনে রাখবেন যে, আপনার হোস্ট মুসলমান হলে শুকরের গোস্তের অর্ডার করবেন না। কারণ তাজিকিস্তানের রেস্তোরায় শুকরের গোস্ত প্রায়শই পাওয়া যায়।

তাজিকিস্তানের কয়েকটি দর্শনীয় স্থান

দুশানবে (Dushanbe), ক্যারাকুল লেক (Karakul Lake), পামির হাইওয়ে এবং পর্বতমালা (Pamir Highway), ফ্যান পর্বতমালা (Fann Mountains), ইসকান্দারকুল লেক (Iskanderkul Lake), ইয়ামসুন পোর্টরেস (Yamchun Fortress) প্রভৃতি।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

ভ্রমন সম্পর্কিত সকল নিউজ এবং সব ধরনের তথ্য সবার আগে পেতে, আমাদের সাথে থাকুন এবং আমাদেরকে ফলো করে রাখুন।

© All rights reserved © 2020 cholojaai.net
Theme Customized By ThemesBazar.Com