শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন

জার্মানির এক আশ্রয়শিবিরে উদ্বাস্তুদের দুঃসহ জীবন

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৫ মে, ২০২৩

জার্মানির কোলন শহরের কাছের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে নোংরা পরিবেশে তীব্র দুর্গন্ধের সঙ্গে জীবনযাপন করতে হচ্ছে শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের৷ এমনকি ইঁদুরের উৎপাতও সইতে হচ্ছে তাদের৷ আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে বসবাসরত শরণার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে৷

মাস ছয়েক ধরে পশ্চিম জার্মানির পুলহাইম শহরের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাস করছেন মোহাম্মদ এ.৷ সিরিয়া থেকে আসা এই শরণার্থী আশ্রয়কেন্দ্রটিতে তার দুঃসহ জীবনযাত্রার কথা বলেছেন জার্মানির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ডাব্লিউডিআর-কে৷

তিনি বলেন, ‘‘আমরা যেখানে থাকছি, সেখানে গোসল করারও সুযোগ নেই৷ শুধু একটি গোসলাখানা আছে, যেটি পরিষ্কার৷’’

পুরো আশ্রয়কেন্দ্র জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে দুর্গন্ধ৷ এমন বাজে অবস্থা যে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারেন না আশ্রয়প্রার্থীরা৷ মোহাম্মদ এ. বলেন, ‘‘দুর্গন্ধের যন্ত্রণা যাদের সইতে হচ্ছে আমি তাদের একজন৷’’

আশ্রয়প্রার্থীদের মাধ্যমে পাওয়া বেশকয়েকটি ছবিতেও নোংরা পরিবেশের প্রমাণ মিলেছে৷ পুরো কেন্দ্রজুড়ে বেড়েছে ইঁদুরের উৎপাত৷ ইঁদুরের সমস্যাটি শুধু আশ্রয়কেন্দ্রের বাসিন্দাদের নয়, শহরবাসীর কাছেও একটি বড় সমস্যা৷ নগর কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে ডব্লিউডিআর জানিয়েছে, সমস্যাটি সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছেন তারা৷

এমনকি, আবর্জনা এবং খাবার উচ্ছিষ্ট ব্যবস্থাপনা নিয়েও শরণার্থীদের সঙ্গে তারা নিয়মিত আলোচনা করেন বলেও দাবি করেছেন নগর কর্তৃপক্ষ৷

একটি কক্ষে চার জন

ডব্লিউডিআর-এর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, পুলহাইম শহরের আশ্রয়কেন্দ্রটিতে আরো তিনজন শরণার্থীর সঙ্গে একটি কক্ষে থাকেন মোহাম্মদ এ.৷ ৫০ হাজার মানুষের শহর পুলহাইম৷ আর শহর কর্তৃপক্ষ পরিচালিত আশ্রয়কেন্দ্রটিতে এই মুহূর্তে বাস করছেন ৭৪০ জন আশ্রয়প্রার্থী৷

প্রায় প্রতিদিনই আশ্রয়কেন্দ্রটির খোঁজখবর রাখছেন শরণার্থী সহায়তা উদ্যোগ ‘পুলহাইম হেল্পস’-এর একজন কর্মী৷ তিনি জানিয়েছেন, বছরের পর বছর ধরে আশ্রয়কেন্দ্রটি পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা এবং অন্য এনজিওগুলো৷ অন্তত আর কিছু না হোক, কিছু পুরনো ভবন পুননির্মাণ বা সংস্কারেরও দাবি জানিয়ে আসছেন তারা৷

নগর কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ডাব্লিউডিআর জানিয়েছে, নতুন ভবন নির্মাণ নিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকলেও তা নির্মাণে কাজ শুরু করা এবং সংস্কারে আরো সময় প্রয়োজন৷

ওই কেন্দ্রটিতে অবস্থানরত আশ্রয়প্রার্থী বা শরণার্থীদের মানসিক অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পুলহাইম হেল্পস৷

সংস্থাটির একজন অধিকারকর্মী বলেন, ‘‘এমন অনেক উদ্বাস্তু আছেন যারা নানা যন্ত্রণা সয়ে এই কেন্দ্রটিতে এসে পৌঁছান৷ সেখানে এসে এমন মানবেতর জীবন দেখে আরো হতাশ হয়ে পড়েন তারা৷ ফলে তারা ভাবতে থাকেন, এই জীবনে তাদের আর মুক্তি নেই৷’’

জার্মানিজুড়ে অনেক ছোট এবং বড় পৌরসভাগুলো ইউক্রেন এবং অন্যান্য দেশ থেকে আসা বিপুল সংখ্যক শরণার্থী এবং আশ্রয়প্রার্থীকে আশ্রয় দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে৷ এমন বাস্তবতায় গেল সপ্তাহে দেশটির চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জার্মানির ১৬টি রাজ্যের শীর্ষ নেতারা৷ ওই বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতে ক্রমবর্ধমান শরণার্থীদের সমর্থনে আরও বেশি অর্থ বরাদ্দ দিতে রাজ্যগুলোর দাবি মেনে নিয়েছে ফেডারেল সরকার৷

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

ভ্রমন সম্পর্কিত সকল নিউজ এবং সব ধরনের তথ্য সবার আগে পেতে, আমাদের সাথে থাকুন এবং আমাদেরকে ফলো করে রাখুন।

© All rights reserved © 2020 cholojaai.net
Theme Customized By ThemesBazar.Com