রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন
Uncategorized

চলুন বেড়িয়ে আসি মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর থেকে

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২১
Petronas Towers, also known as Menara Petronas is the tallest buildings in the world from 1998 to 2004.

কভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা দিতে ঢাকায় এসে পৌঁছেছে ১০ সদস্যের চীনা মেডিকেল টিম।

আজ সোমবার সকাল ১১.৪০ মিনিটে তাদের বহনকারী হাইনান এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ চার্টার্ড উড়োজাহাজ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামে। টিমটি সঙ্গে করে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন মেডিকেল উপকরণ নিয়ে এসেছে। বিমানবন্দরে চীনা মেডিকেল টিমকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এবং বাংলাদেশে চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং। বাংলাদেশে এই মেডিকেল টিম দুই সপ্তাহ অবস্থান করবে। টিমের সদস্যরা করোনার জন্য মনোনীত হাসপাতাল, কোয়ারেন্টিন সেন্টার এবং নমুনা পরীক্ষা কেন্দ্র ঘুরে দেখবেন।

বাংলাদেশের চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে করোনা মহামারি নিয়ে আলোচনা করবেন এবং এই রোগ নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসার বিষয়ে তাদের পরামর্শ দেবেন।  হাইনান প্রভিনশিয়াল হেল্থ কমিশনের নির্বাচিত ১০ জন অভিজ্ঞ চিকিৎসক নিয়ে টিমটি গঠন করেছে দেশটির ন্যাশনাল হেল্থ কমিশন। গত ২০ মে শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপ করেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দেন জিনপিং।

সম্প্রতি চীনের করোনাভাইরাস প্রতিরোধবিষয়ক শ্বেতপত্র প্রকাশিত হয়েছে। শ্বেতপত্রে স্পষ্ট এবং বিস্তারিত সময়সূচির মাধ্যমে চীনের পুরো দেশের যৌথভাবে করোনাভাইরাস প্রতিরোধের প্রক্রিয়া রেকর্ড করেছে।

ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য চীন ৩৪৬টি রাষ্ট্রীয় চিকিত্সাদল, ৪২.৬ হাজার চিকিত্সক এবং ৯ শতাধিক গণ-স্বাস্থ্যকর্মীকে হুপেই প্রদেশে সহায়তা করার জন্য পাঠিয়েছে। দশ দিনের মধ্যে ১ হাজার শয্যার হুও শেন শান হাসপাতাল নির্মাণ করেছে, ১২ দিনের মধ্যে ১.৬ হাজার শয্যার লেই শেন শান হাসপাতাল নির্মাণ করেছে। ১০ দিনের মধ্যে ১৪ হাজার শয্যার ১৬টি অস্থায়ী হাসপাতাল নির্মাণ করেছে। ১৪০ কোটি চীনা জনগণ, পুরুষ হোক, নারী হোক, বৃদ্ধ হোক, শিশু হোক, যে পেশার মানুষ হোক-না-কেন, যৌথভাবে ভাইরাস প্রতিরোধে যোগ দিয়েছে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শ্বেতপত্রে চীন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যৌথভাবে ভাইরাস প্রতিরোধের ক্ষেত্রে বড় দেশের দায়িত্বশীল মনোভাব তুলে ধরেছে।

ভাইরাসের দেশীয় সীমানা নেই। চীন সবসময় মানবজাতির অভিন্ন ভাগ্যের কমিউনিটি গড়ে তোলার চিন্তাধারায় বিভিন্ন দেশের করোনাভাইরাস প্রতিরোধের কাজে সাহায্য দিয়েছে। ৩১ মে পর্যন্ত, চীন ১৫০টিরও বেশি দেশ ও ৪টি আন্তর্জাতিক সংস্থাকে সহায়তা সামগ্রী দিয়েছে। ২৭টি দেশে করোনা ভাইরাস বিষয়ক চিকিত্সক দল পাঠিয়েছে। ১৭০টিরও বেশি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার জন্য ১৮০টিরও বেশি চিকিত্সা বিশেষজ্ঞের ভিডিও আলোচনা সভা আয়োজন করেছে।

চীন শিল্পায়নের সুবিধা কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন দেশকে চীন থেকে প্রতিরোধমূলক সামগ্রী ক্রয়ের জন্য সুবিধা দিয়েছে। চীন ২ শতাধিক দেশ ও অঞ্চলে প্রতিরোধমূলক সামগ্রী রপ্তানি করেছে, চীন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে ৫ কোটি মার্কিন ডলারের সাহায্য দিয়েছে। চীন ৭৭টি উন্নয়নশীল দেশ ও অঞ্চলের ঋণ ফেরত দেওয়া স্থগিত রেখেছে।

কুয়ালালামপুরের পরিচয়:

দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার মধ্যে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর (Kuala Lumpur) হল এমন এক শহর যেখানে বিভিন্ন জাতি ও সংস্কৃতির মানুষ ঘুরতে যেতে পছন্দ করে। এখানে পুরাতন ঐতিহ্যের সাথে সাথে আধুনিকতার ছোঁয়াও খুঁজে পাওয়া যায়। আর শহরটাকে দেখলে মনে হয় সবসময়ই উৎসবের আমেজে থাকা রঙ্গিন এক শহর কুয়ালালামপুর। সংক্ষেপে এই শহরকে কে এল (kl) বলা হয়।

কুয়ালালামপুরের দর্শনীয় স্থান

কুয়ালালামপুরের পুরো শহর জুড়ে অসংখ্যা ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ, সুদৃশ্য পার্ক, মিনার, মুঘল ধাঁচের গম্বুজ ও স্কাই স্ক্যাপার। এছাড়াও রাস্তার ধারে দেখা মিলবে সারি সারি রঙ্গিন খাবারের দোকান। পর্যটকদের জন্য দেখার মতো আছে অনেক কিছু। সময় আর সুযোগ থাকলে ঘুরে ঘুরে দেখতে পারবেন শহরের বিভিন্ন জায়গা।

পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার : কুয়ালালামপুরের প্রধান আকর্ষণ এই টাওয়ার। ৪৫ মিনিটে টুরিস্ট গাইডের মাধ্যমে এখানে ঘুরে দেখা যায়। তবে টিকিটের সংখ্যা সীমিত থাকার কারনে আগে থেকেই অনলাইনে বা টাওয়ারের অফিসে গিয়ে টিকেট কাটতে হয়। এখানে ঘুরে দেখার জন্য স্কাই ব্রিজ, অবজারভেশন ডেক ও একটি গিফট শপ আছে। বিস্তারিত পড়ুন এইখানে, পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার ভ্রমণ গাইড।

ইসলামিক আর্ট মিউজিয়াম : পুরো বিশ্বের ইসলামিক বিভিন্ন শিল্প যেমন বিশ্বের সেরা ইসলামিক ভবন, চমৎকার স্থাপত্যের নমুনা মডেল,মুসলিমদের ব্যবহৃত কার্পেট, গহনা ও ক্যালিওগ্রাফি প্রদর্শিত আছে এখানে যা পর্যটকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ। এই বিল্ডিং এর গম্বুজের সূক্ষ্ম কারুকার্যের কাজ দর্শকদের নজরে পরার মতো।

চায়না টাউন : পুরাতন কুয়ালালামপুর শহর খুঁজে পাওয়ার জন্য যেতে পারেন এই জায়গায়। পুরনো শহরের জন্ম এখানে হলেও সময়ের সাথে সাথে চায়না টাউন এখন বেশ উন্নত হয়েছে। চায়না টাউনে দেখার মতো বেশ কিছু জায়গা আছে। যেমন- মিনারা টাওয়ার, মারদেকা স্কোয়ার, জংসান বিল্ডিং, সেন্ট্রাল মার্কেট ও পেতালিং স্ট্রীট মার্কেট।

লেক গার্ডেনস : ১৭৩ হেক্টরের বিশাল এই জায়গা কুয়ালালামপুরের সবচেয়ে বড় সবুজ জায়গা। এখানে ইচ্ছে হলে পুরো একটি দিন আপনি কাটাতে পারেন, এমনই সুন্দর সবুজের সমাহার চারদিকে। এখানকার লেক ও বোটানিক্যাল গার্ডেন প্রকৃতিপ্রেমীদের নিঃসন্দেহে ভালো লাগার মতো।  পারডোনা বোটানিক্যাল গার্ডেন ও লেক ছাড়াও এখানকার কে এল বার্ড পার্ক পর্যটকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ।

ন্যাশনাল মিউজিয়াম : এই চমৎকার আধুনিক জাদুঘর মালয়েশিয়ার অতীত থেকে বর্তমানের ইতিহাস ধারন করে। এখানে বিভিন্ন গ্যালারি আছে তার মধ্যে একটিতে দেশের ভূতাত্ত্বিক বিভিন্নবৈশিষ্ট্য ও প্রাগৈতিহাসিক সময়ের ইতিহাসতুলে ধরা হয়েছে।

মানেরা কুয়ালা লামপুর : বুকেট নানাসের তীর থেকে গড়ে উঠা  ৪২১ মিটার লম্বা এই টাওয়ার থেকে কুয়ালালাপুর   শহরের সুন্দর দৃশ্য চোখে পরার মতো। টাওয়ারের শীর্ষে একটি ঘূর্ণায়মান রেস্তোরা আছে, ২৭৬ মিটার উঁচুতে আছে একটি অভ্যন্তরীণ অবজারভেশন ডেক আর ৩০০ মিটার উপরের স্কাই ডেক পর্যটকদের বেশ পছন্দের ও রোমাঞ্চকর একটি জায়গা।

মার্দেকা স্কোয়ার : মার্দেকা স্কোয়ার হলবর্গাকৃতি খোলামেলা বিশাল এক জায়গা যেখানে ১৯৫৭ সালে মালয়েশিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণা দেওয়াহয়েছিল, বর্তমানে এই বর্গাকৃতি জায়গাটি ৯৫ মিটার ফ্ল্যাগ পোল দিয়ে ঘেরা।

কে এল বার্ড পার্ক : প্রায় ৩০০০ এর ও বেশী পাখি আছে এই ২১ হেক্টর বিস্তৃত পাখিশালায়। ফ্লামিংগো থেকে টিয়া পাখি, এইরকম প্রায়  ২০০ প্রজাতির এশিয়ান পাখি কে এখানে রাখা আছে। পার্কটি চারটি ভাগে বিভক্ত, প্রথম দুই ভাগে পাখিরা ছায়ার নিচ দিয়ে অবাধে চলাচল করে, আর তৃতীয় ভাগের পাখিরা হলো  হর্নবিল ( তাদের বিশাল বড় ঠোঁট থাকে) আর চতুর্থ ভাগে খাঁচায় সংরক্ষন করা পাখি থাকে।

কে এল ফরেস্ট ইকো পার্ক : ৯.৩৭ হেক্টর বিশিষ্ট এই পার্ক শহরের মধ্যে সবচেয়ে সংরক্ষিত জঙ্গল যা কুয়ায়ালালামপুর শহরের মাঝে অবস্থিত। বুকিত নানাস বা আনারসের পাহাড় হিসেবে এই পার্ক পরিচিত।নানা ধরনের পোকা মাকড় ও পাখির দেখা মিলবে এখানে।এখানের উঁচু ক্যানোপির পাশ দিয়ে হাঁটার রাস্তাটা বেশ সুন্দর।

এ ছাড়া আরও বেশ কিছু জায়গা আছে কুয়ালালামপুর শহরে। যেমনঃ ডিয়ার পার্ক, অর্কিড গার্ডেন, বাটারফ্লাই পার্ক ও সিন সযে সি ইয়া টেম্পল। আর সময় থাকলে ঘুরে আসতে পারেন কুয়ালালামপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী গ্রাম কাম্পুং ভারু থেকে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

ভ্রমন সম্পর্কিত সকল নিউজ এবং সব ধরনের তথ্য সবার আগে পেতে, আমাদের সাথে থাকুন এবং আমাদেরকে ফলো করে রাখুন।

© All rights reserved © 2020 cholojaai.net
Theme Customized By ThemesBazar.Com