1. [email protected] : admin2021 :
  2. [email protected] : cholo jaai : cholo jaai
কাদায় তলিয়ে যাচ্ছে যে গ্রাম
শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৬:০৩ অপরাহ্ন

কাদায় তলিয়ে যাচ্ছে যে গ্রাম

চলযাই ডেস্ক :
  • আপডেট সময় রবিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২১
নদীটির উৎপত্তি পাশের দেশ কলম্বিয়ায়। কাতাতুম্বা ভেনেজুয়েলায় এসে লাতিন আমেরিকার অন্যতম বড় হ্রদ মারাকাইবোতে মিলেছে। বিগত বছরগুলোতে নদীটির গতিপথ কয়েকবার বিভিন্ন দিকে প্রবাহিত হয়েছে। নদীর স্রোতের সঙ্গে এসেছে কাদামাটি, উদ্ভিজ্জ জীব ও গাছের শিকড়। গ্রামের ধারের হ্রদেও এসে জমা হয়েছে কাদামাটি ও আবর্জনার স্তূপ।

কঙ্গো মিরাডরের বাসিন্দা ল্যামেন্টস ইউক্লিডস ভিলাসমিল। তিনি বলেন, এক সময় যে হ্রদ ছিল মাছে ভরপুর, তা এখন আগাছায় ভরা।

কঙ্গো মিরাডরে এখন মাত্র ১০টি পরিবার বাস করে। গ্রামটির যে ক্লিনিকে এক সময় ৭০০ বাসিন্দাকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হতো, কয়েকটি খুঁটি ছাড়া এখন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। অনেক বাড়ি লুট হয়েছে। মূল্যবান কিছুই নেই সেসব বাড়িতে। দরজা, জানালা এমনকি পানির কল, পাইপ পর্যন্ত নিয়ে গেছে।

অনেকের ধারণা, কঙ্গো মিরাডর গ্রামের ধ্বংসের শুরুটা ২০১৩ সালে। সে সময় গ্রামের হ্রদে ছোট ছোট কাদামাটিতে ভরা দ্বীপ জেগে ওঠে। ড্রোন ক্যামেরায় তোলা ছবিতে কঙ্গো মিরাডরকে সবুজ দেখালেও গ্রামটি তেমন নেই। গ্রামটি এখন কাদা আর আবর্জনায় ভরা। রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির সাপ, ব্যাঙ, অন্যান্য জীবজন্তুর বিচরণ। জনশূন্য গ্রামটি ‘ভুতুড়ে’ হয়ে উঠেছে।

কঙ্গো মিরাডর যাঁরা ছেড়েছেন, তাঁদের একজন ৫৯ বছর বয়সী জেনেথ দিয়াজ। এখন তিনি পুয়ের্তো কোঞ্চার বাসিন্দা। কঙ্গো মিরাডর থেকে সেখানে নৌকায় যেতে সময় লাগে তিন ঘণ্টা। জেনেথ দিয়াজ বলেন, ‘আমার জীবনের সবচেয়ে কষ্টের দিনগুলোর মধ্যে একটি ২০১৬ সালের ১ জুন।’ জেনেথ দিয়াজ বলেন, কঙ্গো মিরাডর তাঁর কাছে ছিল ‘ছোট ভেনিস’। সেখানে সবাই মিলে বড় পরিবার হিসেবে বসবাস করতেন। কিন্তু বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় পরিবার নিয়ে গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে জেনেথ দিয়াজকে। গ্রাম ছাড়ার কিছুদিন পর তাঁর মায়ের মৃত্যু হয়েছে।

তবে এত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাস্তুভিটা ছাড়েনি ৬২ বছর বয়সী ডগলাস ক্যামারিলো। কঠোর পরিশ্রম করে দুই সপ্তাহ ধরে কাদামাটি সরিয়ে মাত্র ১৩০ মিটারের যাতায়াতের একটি পথ তৈরি করেছেন। এই পথ দিয়েই নৌকায় যাতায়াত করতে পারেন তিনি ও তাঁর প্রতিবেশীরা। তিনি বলেন, ‘মৃত্যুর আগপর্যন্ত আমি আমার এই গ্রাম ছেড়ে কোথাও যাব না। আর যত দিন আমি বেঁচে থাকব, আমার গ্রামকে শেষ হতে দেব না।’

মানুষ দলে দলে কঙ্গো মিরাডর ছেড়ে চলে যাওয়ার কারণে সেখানে জীবন কঠিন হয়ে উঠেছে। যে বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পুরো গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ হতো, সেটি কয়েক বছর ধরেই অচল। এ ছাড়া টেলিফোন অ্যানটেনাও কাজ করে না। তেলসমৃদ্ধ ভেনেজুয়েলায় প্রায় বিনা মূল্যে মানুষ জ্বালানি তেল ব্যবহার করলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কঙ্গো মিরাডরের বাসিন্দারা অতিরিক্ত দাম দিয়েও জ্বালানি তেল পাচ্ছেন না।

কঙ্গো মিরাডরে জন্ম ৩৩ বছর বয়সী আরউইন গোতেরার। তিনি জানালেন, কোনো জ্বালানি না থাকায় খাবার রান্না করা কঠিন হয়ে পড়েছে। মাছ শিকার করে যা উপার্জন করেন, তার অর্ধেকটা জ্বালানি কিনতে চলে যায়। এমনকি জ্বালানি–সংকটের কারণে তিনি মায়ের শেষকৃত্যও করতে পারেননি।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 cholojaai.net
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com