1. b_f_haque70@yahoo.com : admin2021 :
  2. editor@cholojaai.net : cholo jaai : cholo jaai
করমজল পর্যটন কেন্দ্র,সুন্দরবন
বুধবার, ০৪ অগাস্ট ২০২১, ০৫:২৬ অপরাহ্ন

করমজল পর্যটন কেন্দ্র,সুন্দরবন

চলযাই ডেস্ক :
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১৫ জুলাই, ২০২১
সুন্দরবন ভ্রমণ কাহিনী

বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ জঙ্গল সুন্দরবন ভ্রমণপিপাসুদের টানে, আকর্ষণে। সুন্দরবনে রয়েছে অনেক কয়েকটি সৌন্দর্যমন্ডিত স্থান। তাদের মধ্যে অনন্য একটি স্থান হচ্ছে করমজল পর্যটন কেন্দ্র। যেখানে রয়েছে সবুজ গাছের ফাঁকে ফাঁকে মায়াবী হরিণের প্রাণোচ্ছল চাহনি আর তিড়িং বিড়িং ছুটে চলার সৌন্দর্য। সাথে রয়েছে বানরের বাঁদরামি ও অজানা পাখির কলরব।

সুন্দরবন যদি কেউ একদিনের মধ্যেই ভ্রমণ করতে চান তাহলে করমজল পর্যটন কেন্দ্র হবে আদর্শ জায়গা। করমজল পর্যটন কেন্দ্রটি সুন্দরবনের পশুর নদীর তীরে অবস্থিত। বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের তত্ত্বাবধানে মংলা সমুদ্র বন্দর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে ৩০ হেক্টর জমির উপর পর্যটন কেন্দ্রটি গড়ে তোলা হয়েছে। করমজলে বাংলাদেশের একমাত্র কুমিরের প্রাকৃতিক প্রজনন কেন্দ্র অবস্থিত। মংলা হতে করমজল লঞ্চ বা ট্রলারে মাত্র ৪৫ মিনিটের পথ হওয়ায় দিনে যেয়ে দিনে ফিরে আসার সুবিধা এবং ভ্রমণে তুলনামূলক কম খরচের কারনে অধিকাংশ পর্যটকেরই সুন্দরবন ভ্রমণে প্রথম পছন্দের স্থান করমজল।

পর্যটন কেন্দ্রের প্রবেশপথেই চোখে পড়বে মাটিতে শোয়ানো বিশাল আকৃতির মানচিত্র যা আপনাকে সুন্দরবন সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেবে। মানচিত্রটিকে পেছনে ফেলে বনের মধ্যে দক্ষিণে চলে গেছে আঁকাবাঁকা কাঠের তৈরি হাঁটা পথ। এরই নাম মাঙ্কি ট্রেইল। এই নামের সার্থকতা খুঁজে পাবেন ট্রেইলে পা ফেলার সঙ্গে সঙ্গেই। পুরো ট্রেইল জুড়েই দেখা মিলবে সুন্দরবনের অন্যতম বাসিন্দা রেসাস বানরের। হাতে যদি কলা বা অন্য কোনো খাবার নিয়ে পথ চলেন তবে বানরগুলো আপনাকে ঘিরে ধরতে পারে। পথের দু-ধারে ঘন জঙ্গল। এই বনে বাইন গাছের সংখ্যা বেশি। কাঠের পথ কিছুদূর যাওয়ার পরে হাতের বামের পথ গিয়ে থেমেছে পশুরের তীরে। সেখানে নদীর তীরে রয়েছে বেঞ্চ পাতানো ছাউনি। চাইলে সেখানে বিশ্রাম করে নিতে পারেন নদীর শীতল বাতাসে। মূল পথটি আরো প্রায় আধা কিলোমিটার দক্ষিণে গিয়ে ছোট একটি খালের পাড়ে থেমেছে। এ পথের মাথায় গোলপাতার ছাউনির গোলাকৃতির আরও একটি শেইড রয়েছে। এখানে বেঞ্চে বসে বনের নিস্তব্ধতা উপভোগ করতে পারবেন। সেখান থেকে কাঠের ট্রেইলটি আরো পশ্চিমে আপনাকে নিয়ে যাবে কুমির প্রজনন কেন্দ্রের পাশে। এই ট্রেইলের মাঝামাঝি জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে একটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার (বুরুজ)। এই সুউচ্চ টাওয়ারের চূড়া থেকে সুন্দরবনের উপরিভাগের নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন।

করমজল পর্যটন কেন্দ্রছবি : সংগৃহীত

ওয়াচ টাওয়ারের পাশেই প্রাচীর ঘেরা পুকুর। পাশেই কুমির প্রজনন কেন্দ্র। সেখানে বাচ্চা কুমির থেকে শুরু করে বিভিন্ন আকৃতির কুমির দেখতে পাবেন। এর পাশেই চোখে পড়বে চিড়িয়াখানার মতো খাঁচায় ঘেরা খোলা জায়গা। এখানে রয়েছে চিত্রা হরিণ। বিকেলে হরিণগুলো দল বেঁধে আসে এবং আপনি খাবার দিলেই তারা কাছে এসে খাবার নিয়ে যাবে। এছাড়া পশ্চিম কোণেই দেখতে পাবেন কয়েকটি রেসাস বানর। যেহেতু এটি ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র তাই এখান থেকে সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ ইকোসিস্টেম সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারবেন। করমজল পর্যটন কেন্দ্রটি আপনাকে মিনি সুন্দরবনের স্বাদ দিবে, তাই সুন্দরবন ভ্রমণে গেলে আপনাকে ঘুরে আসতেই হবে এখান থেকে।

টিকেট মূল্য : করমজলে দেশি পর্যটকদের জন্য প্রবেশ মূল্য জনপ্রতি ২০ টাকা, বিদেশি পর্যটক ৩০০ টাকা। দেশি ছাত্র ২০ টাকা, দেশি গবেষক ৪০ টাকা। বিদেশি গবেষক ৫০০ টাকা।

যেভাবে যাবেন : ঢাকার গাবতলি ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে খুলনা, বাগেরহাট গামী বাস বা ট্রেনে করে আপনাকে প্রথমে খুলনা আসতে হবে। ঢাকা থেকে বাগেরহাট গামী বাসগুলোর মধ্যে রয়েছে মেঘনা পরিবহন, পর্যটক পরিবহন, সাকুরা পরিবহন, সোহাগ পরিবহন ইত্যাদি। এরপর মংলা থেকে ইঞ্জিন নৌকায় চড়ে যেতে হবে করমজল। দশ জনের উপযোগী একটি ইঞ্জিন নৌকার যাওয়া আসার ভাড়া ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২’শ টাকা। এই নৌকাগুলো সাধারণত ছাড়ে মংলা ফেরি ঘাট থেকে। করমজল যেতে হয় পশুর নদী পাড়ি । এই নদী সবসময়ই কমবেশি উত্তাল থাকে। তাই ভালো মানের নৌকা নিয়ে রওনা হবেন।

যেখানে থাকবেন : পর্যটকবাহী নৌযান ছাড়াও সুন্দরবনের অভয়ারণ্যে হিরণ পয়েন্টের নীলকমল এবং টাইগার পয়েন্টের কচিখালী ও কটকায় বন বিভাগের রেস্ট হাউজে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া সারাদিন বেড়িয়ে এসে রাতে থাকতে পারেন বন্দর শহর মংলায়। এখানে আছে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের মোটেল পশুর। নন-এসি ডবল রুমের ভাড়া  ১ হাজার ২’শ টাকা এবং এসি ডবল রুমের ভাড়া ২ হাজার টাকা। এছাড়াও মংলা শহরে সাধারণ মানের কিছু হোটেল আছে। চাইলে সেগুলোতেও থাকতে পারেন। খুলনা মহানগরে হোটেল রয়েল, ক্যাসেল সালাম, হোটেল টাইগার গার্ডেন, হোটেল সিটি ইন ইত্যাদি সাধারণ মানের হোটেল রয়েছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 cholojaai.net
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com