1. [email protected] : admin2021 :
  2. [email protected] : cholo jaai : cholo jaai
এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলার হিসেবে ক্যারিয়ার
রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ১২:৩১ পূর্বাহ্ন

এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলার হিসেবে ক্যারিয়ার

চলযাই ডেস্ক :
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২১

আপনি কি বিমান চালনায় ক্যারিয়ার গড়ার কথা ভাবছেন? কিন্তু চাইছেন অন্যরকম কিছু করতে? যদি আপনি বৈমানিক হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য পড়াশোনা করে থাকেন, তাহলে বিমান চালনায় একজন এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন। চলুন দেখে আসি, কীভাবে একজন এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব।

এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলার পদটি আপনার জন্যে উপযুক্ত কি?

একজন এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলারকে এক বা একাধিক বিমানের চলাচলের কোর্ডিনেশন দেয়ার কাজ করতে হয়। একজন এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলার

সাপোর্ট কন্ট্রোলার হিসেবেও আখ্যায়িত করা যায়। তিনি বিভিন্ন ফ্লাইট ইন্সট্রাকশনের মাধ্যমে যেকোনো ব্যক্তির বা কোম্পানিরর বিমানের চলাচলের জন্য রুট ও দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন। একজন এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলারের বাৎসরিক বেতন ৩০ লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৯০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

কিন্তু এর বিপরীতে আপনাকে অনেক কষ্ট করতে হবে। সঠিক নেটওয়ার্কের মধ্যে দিকনির্দেশনা প্রদান করা, যেকোনো স্থানের বিভিন্ন ধরণের রুট সম্পর্কে জানা, যেকোনো সময় যেকোনো তথ্য আদানপ্রদানসহ আরো অনেক ধরণের কাজ রয়েছে একজন এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলারের। সুতরাং ভেবে দেখুন এই পদে আপনি ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন কিনা। এই পদটি আপনার প্যাশন ও দক্ষতার সাথে কতটুকু উপযুক্ত, তা নিয়েও ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিন।

একজন এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলারের ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে?

একজন এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার পূর্বে আপনি, অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার, কার্গো পাইলট, ম্যানুফ্যাকচারার, অ্যাভিয়েশন ইনস্পেক্টর, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার অথবা ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের চাকরি দ্বারা ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন। উপরোক্ত পদগুলো থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করে এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলার অথবা এয়ারক্র্যাফট হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন।

একজন এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে, আপনাকে যে সকল বিষয়ে পারদর্শী হতে হবে তা হচ্ছে,

১. টেকনিক্যাল ও নন-টেকনিক্যাল বিষয় সম্পর্কে অভিজ্ঞ হতে হবে।

২. অ্যানালিটিক্যাল দক্ষতা থাকতে হবে।

৩. বিমানের মেকানিক্যাল অবস্থার উপর বেশ ভালো দক্ষতা থাকতে হবে।

৪. বিভিন্ন ধরণের হার্ডওয়্যার ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যারের উপর দক্ষ হতে হবে।

৫. কম্পিউটার ও এর ইথিকসের উপর পারদর্শী হতে হবে।

৬. ক্রিয়েটিভ থিংকিং করার দক্ষতা থাকতে থাকবে।

৭. নিত্যনতুন টেকনোলজির সাথে আপডেটেড থাকতে হবে।

৮. অসাধারণ স্ট্র্যাটেজিক ও প্ল্যানিং করার দক্ষতা থাকতে হবে।

৯. একসাথে বিভিন্ন অপশন সামলানোর দক্ষতা থাকতে হবে।

১০. ফ্লায়িং রুট সম্পর্কে জানতে হবে।

১১. বিভিন্ন ডিভাইসের জন্য তৎক্ষণাৎ ইক্যুইপমেন্ট তৈরি করার দক্ষতা থাকতে হবে।

১২. কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের এম্বেডেড সিস্টেমস সম্পর্কে অভিজ্ঞ হতে হবে।

উপরের দক্ষতাগুলো ছাড়াও, একজন এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলারের কিছু সাধারণ দক্ষতা থাকা উচিৎ। সেগুলো হচ্ছে,

১. জটিল বিষয় নিয়ে চিন্তাভাবনা করার দক্ষতা থাকতে হবে।

২. বিভিন্ন সমস্যায় দ্রুত সমাধান বের করার ক্ষমতা থাকতে হবে।

৩. যেকোনো বিষয়ে আস্থা রাখার মতো মন মানসিকতা থাকতে হবে।

৪. বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক অবস্থায় খাপ খাওয়ানোর দক্ষতা থাকতে হবে।

৫. অসাধারণ যোগাযোগ দক্ষতা থাকতে হবে।

৬. যেকোনো বিষয়ে বিচক্ষণতার সাথে নেগোসিয়েশন করার দক্ষতা থাকতে হবে।

৭. অসাধারণ ইন্টারপার্সোনাল দক্ষতার অধিকারী হতে হবে।

শুরুতে ছোটোখাটো কোম্পানিতে এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলার হিসেবে কাজ করুন

যদি আপনি এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলার হিসেবে কোনো কোম্পানি থেকে ইন্টার্নি করে থাকেন, তাহলে ছোটোখাটো কোম্পানিতে কাজ করার প্রয়োজন পড়বে না। আর যদি আগে কোথাও ইন্টার্নশিপ না করে থাকেন, তাহলে বড় কোম্পানিতে পাইলট বা কন্ট্রোলার হিসেবে কাজ করার পূর্বে ছোটোখাটো কোম্পানিতে কাজ করুন। এতে অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষা দুইই লাভ করতে পারবেন।

এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলার হিসেবে বড় কোম্পানিতে চাকরি খুঁজুন

ছোটোখাটো কোম্পানিতে চাকরি করার পর, বড় বড় কোম্পানির দিকে চলে আসুন। তবে খেয়াল রাখবেন, যেন কাজের দক্ষতা ও যোগ্যতা দুইই বজায় থাকে। অনেক সময়েই দেখা যায়, ছোটোখাটো কোম্পানিতে কাজ করার জন্যে যেসকল দক্ষতার প্রয়োজন পড়ে, বড় কোম্পানির ক্ষেত্রে তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দক্ষতার প্রয়োজন পড়ে। কারণ, বড় কোম্পানিগুলোতে কাজের ক্ষেত্রও বড় হয়।

বড় বড় কোম্পানিগুলোতে কাজ পাওয়ার জন্যে  লিংকডিন, মনস্টার, গ্লাসডোরের মতো ওয়েবসাইটগুলোতে চাকরী খুঁজতে পারেন। এগুলোতে প্রফেশনালি চাকরি খোঁজা যায়। তবে মনে রাখবেন, বড় কোম্পানিগুলোতে চাকরি পেতে হলে আপনাকে আরো বেশি জানতে হবে। কার্যপদ্ধতি ও কৌশলে আরো পারদর্শী হতে হবে।
বিভিন্ন পেশাদার প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটিতে যোগ দিন

এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলারদের জন্য অনলাইনে অনেক ধরণের প্রফেশনাল অরগানাইজেশন, কমিউনিটি ও ফোরাম রয়েছে। সেগুলোতে যোগদান করতে পারেন। যদি কখনো রুট, হার্ডওয়্যার ম্যানেজমেন্টের নিয়মকানুন, ফ্লায়িং সিস্টেম, পেমেন্ট মেথড কিংবা অন্য যেকোনো কিছু নিয়ে সমস্যায় পড়েন, তাহলে সেসব ফোরাম থেকে সাহায্য পেতে পারবেন। তাছাড়া অনলাইন ফোরাম এবং কমিউনিটির মিটআপে যোগদান করলেও অনেক শিক্ষা এবং দক্ষতা অর্জন করা যায়।

একজন এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলারের কী ধরণের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে?

একজন এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলার হিসেবে ক্যারিয়ার আপনাকে কম্পিউটার সায়েন্স, সাইকোলজি, হার্ডওয়্যার ডেভেলপমেন্ট এন্ড ডিজাইন, গণিত এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংসহ বিভিন্ন খাতের ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ের উপর কমপক্ষে ২ থেকে ৪ বছরের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে।

যে কারণে এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়বেন

প্রযুক্তির এই যুগে এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলারদের উপর অনেক কোম্পানিই নির্ভর করছে। আর তাই, প্রতিনিয়তই কোম্পানিগুলোতে বৈমানিক খাতে বিভিন্ন ধরণের ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে, যার মধ্যে কমার্শিয়াল পাইলট, কার্গো পাইলট, সাপোর্ট কন্ট্রোলার, ট্র্যাফিক কন্ট্রোলার, ব্যাক কান্ট্রি পাইলট, অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার ইত্যাদি অন্যতম। এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলারর হিসেবে ক্যারিয়ার গড়বেন যেসব কারণে,

১. এই খাতে কাজের শেষ নেই।

২. এই কাজে প্রতিনিয়তই নতুন নতুন জিনিস শিখতে পারবেন ও নতুন নতুন মানুষের সাথে যোগাযোগ রাখতে পারবেন।

৩. নিজের ইচ্ছেমতো নিজের কাজকে সাজিয়ে তুলতে পারবেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 cholojaai.net
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com