এমিরেটস এয়ারলাইন্স

বর্তমান পৃথিবীতে চতুর্থ বড় এয়ারলাইন্স হচ্ছে এমিরেটস এয়ারলাইন্স। ১৯৮০ সাল পর্যন্ত ইউনাইটেড আরব এমিরেটস এর কোন নিজস্ব বিমান ছিল না। সেই দেশের এখন তিনটি বড় এয়ারলাইন্স রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম প্রধান এয়ারলাইন্স হচ্ছে এমিরেটস। বিশে^র প্রায় সবটি মহাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে এমিরেটস ফ্লাইট পরিচালনা করে। পৃথিবীর যে কয়টি ব্যস্ততম এয়ারপোর্ট রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম এয়ারপোর্ট হচ্ছে দুবাই এয়ারপোর্ট। আর দুবাই এয়ারপোর্ট হচ্ছে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের হাব।

১৯৮০ সালে গালফ এয়ার দুবাইতে তাদের অপারেশন বন্ধ করে দেয়। ফলে মহা ঝামেলায় পড়ে যার পুরো দুবাই। তখন পর্যন্ত তাদের কোন নিজস্ব এয়ারলাইন ছিল না। ১৯৮৬ সালে দুবাই রাজ পরিবার তাদের নিজস্ব একটা এয়ারলাইন পরিচালনার ঘোষনা দেয়।

তখন সরকারের পাশাপাশি রাজ পরিবার এমিরেটসকে ১০ মিলিয়ন ডলার দেয়।

১৯৮৫ সালে পি আই এ ভাল মানের একটা সাপোর্ট দিয়েছে। শুরুতে পাকিস্তান এয়ারলাইন্স ১টি বোয়িং ৭৩৭ এবং একটি এয়ারবাস লিজ দেয়। পাকিস্তান এয়ারলাইন্স তাদের ট্রেনিং এরও ব্যবস্থা করে। দুবাই এয়ার উইং এর ব্যবহৃত ২টি বোয়িং ও এমিরেটসকে দিয়ে দেয়।

তাদের এয়ারলাইন্স পরিচালনার জন্য ছিল না কোন দক্ষ জনশক্তি। মরিস নামে এক বৃটিশ নাগরিক ফ্লাইট পরিচালনার পূর্ণ দায়িত্ব নেন। তার বৃটিশ এয়ারওয়েজ, গালফ এয়ার সহ বিশে^র কিছু নামকরা এয়ারলাইন পরিচালনার অভিজ্ঞতা ছিল। প্রথম বছরেই এমিরেটস ২ লক্ষ ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন করেছে এবং ১০ হাজার টন মালামাল বিশে^র বিভিন্ন প্রান্তে পরিবহন করেছে। প্রথম বছরেই তারা ব্যবসায়িক সাফল্য পেয়ে যায়।

শুরুতে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, কায়বো, আম্মান, কলোম্বো ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে। ১৯৮৭ সালে প্রথম ১টি এয়ারবাস কেনে। এরপর তারা ফ্লাইট শুরু করে ফ্রাঙ্কফুর্ট ইস্তাম্বুল এবং মালদ্বীপ। ১৯৮৭ সালে ব্যাঙকক, সিঙ্গাপুর, হংকং, ম্যানিলা ফ্লাইট চালু করে।

ব্যবসায়িকভাবে এমিরেটস সারা বিশে^ প্রচুর জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং ৩৫ শতাংশ লাভ করে। ১৯৯০ সালে এমিরেটস বিশ^ব্যাপি হৈচৈ ফেলে দেয়। এই সময় থেকে প্রতি বছরই ১০০ মিলিয়ন ডলার আয় করে। ১৯৯৬ সালে এসে এমিরেটস রীতিমতো চমক দেয় এবং ৫০০ মিলিয়ন ডলার আয় করে। এবছর প্রায় ১.৬ মিলিয়ন যাত্রী পরিবহন করে এবং এবছর প্রায় ৬৮ হাজার টন কার্গো পরিবহন করে। এমিরেটস এয়ারলাইন্সের বিমান বহরে রয়েছে প্রায় ৯২০টি এয়ারক্রাফ্ট।

১৯৯৫ সালে এমিরেটস এয়ারলাইন্স ৩ মিলিয়ন যাত্রী পরিবহন করে। ১৯৯৫ সালে তাদের বিমান বহরে যোগ হয় আরো ১৪টি এয়ারক্রাফট। ৩০টি দেশের ৩৭টি গন্তব্যে তারা ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে। ১৯৯৬ সালে ৭টি বোয়িং- ৭৭৭ বিমান বহরে যুক্ত হয়। ফলে তারা নতুন নতুন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে। ১৯৯৮ সালে এসে এমিরেটস স্কাই কার্গো নামে একটি কার্গো সার্ভিস পরিচালনা শুরু করে।

১৯৯৮ সালে এমিরেটস ৭০ মিলিয়ন ডলারে শ্রিলঙ্কান এয়ারলাইন্সের ৪৩ শতাংশ মালিকানা কিনে নেয়। চুক্তি অনুযায়ী পরবর্তী দশ বছর শ্রিলঙ্কান এয়ারলাইন্সের মালিকানা এবং সব দায়-দায়িত্ব সহ পরিচালনা শুরু করে। ২০১০ সালে তাদের চুক্তি শেষ হলে আবার তারা মালিকানা ফিরিয়ে দেয়।

২০০০ সাল থেকে এ পর্যন্ত তারা শুধু নিজেদের সেরাই প্রমান করেনি, ব্যবসায় তারা তাদের অনেক রেকর্ড ভেঙ্গে দিয়েছে। ২০০০ সালেই বোয়িং এবং এয়ারবাসকে অর্ডার দিয়েছে ৫৭টি এয়ারক্রাফট। যার মধ্যে ছিল ২২টি এয়াবাস ডবল ডেকার। বর্তমানে এমিরেটস এর বিমান বহরে আছে ১০০টি এয়ারবাস এবং বোয়িং- ৭৭৭। সবগুলোই হচ্ছে ওয়াইড বোডি এয়ারক্রাফট এবং সব মিলে তাদের বহরে প্রায় ২৫০টি এয়ারক্রাফট রয়েছে।

যাত্রী সেবার মান উন্নত করার পাশাপশি এমিরেটস নিয়ে আসেছে নিজস্ব ক্যাটারিং সার্ভিস। বর্তমান বিশে^ সবচেয়ে বড় কিচেন এমিরেটস এর। নিজস্ব এই কিচেন থেকে এমিরেটস তাদের সব ধরনের খাবার পরিবেশন করে থাকে। প্রতিবছর এই কিচেন থেকে ১১০ মিলিয়ন মিল পরিবেশন করে। এখানে প্রায় ১৩০০ প্রকারের খাবার প্রস্তুত হয়। প্রতিদিন প্রায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার যাত্রীর জন্য খাবার প্রস্তুত হয়।

বর্তমানে ৮৫টি দেশের ১৫০টি গন্তব্যে এমিরেটস ফ্লাইট পরিচালনা করে। ২০১৮ সালে এমিরেটস ১৩.৩ বিলিয়ন ডলার আয় করে । নেট ইনকাম ৬২ মিলিয়ন ডলার। বর্তমানে এমিরেটস এর কর্মী সংখ্যা ৭০ হাজার।

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: