1. [email protected] : admin2021 :
  2. [email protected] : cholo jaai : cholo jaai
আমেরিকায় বুয়েট প্রকৌশলীর স্টার্টআপ পেল ৩৪ কোটি টাকার বিনিয়োগ
শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৬:৫৫ অপরাহ্ন

আমেরিকায় বুয়েট প্রকৌশলীর স্টার্টআপ পেল ৩৪ কোটি টাকার বিনিয়োগ

চলযাই ডেস্ক :
  • আপডেট সময় সোমবার, ৪ অক্টোবর, ২০২১
গত শুক্রবার প্রথম আলোকে আরিয়ান কবীর জানান, নতুন বিনিয়োগের অর্থে কর্মীর সংখ্যা বাড়িয়ে পরবর্তী প্রজন্মের উপযোগী সেবা বা পণ্য উন্নয়নের পাশাপাশি আরও গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে তাঁদের প্রতিষ্ঠান। আরিয়ান কবীর জানান, তাঁদের স্টার্টআপ গ্রেম্যাটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কয়েকটি অ্যালগরিদম উদ্ভাবন করেছে, একত্রে শিল্প-রোবটকে খুব সহজে কার্যোপযোগী (কনফিগার) করতে পারে। বাজারে প্রচলিত রোবট, সেন্সর ও বিভিন্ন হাতিয়ারের সঙ্গে প্যাকেজ করে তাঁরা তাঁদের এই সফটওয়্যার বাজারজাত করছেন। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ক্লান্তিকর ও বিপজ্জনক কাজ থেকে মানুষকে অব্যাহতি দেওয়াই তাঁদের লক্ষ্য। তবে তাঁদের রোবটগুলোকে পরিচালনা করার জন্য মানুষের প্রয়োজন আছে। রোবটগুলো কারখানার যেসব স্থানে সারফেস ফিনিশিংয়ের কাজ করা হয়, সেখানে কাজ করে। এগুলো ‘বুদ্ধিমান’ ও প্রোডাকশন লাইনের অনুরূপ জায়গায়, যেখানে আগে ব্যবহৃত হয়নি, সেখানেও ‘নিজেদের খাপ খাইয়ে’ নিতে পারে।

গ্রেম্যাটার উৎপাদকদের সক্ষমতা বাড়ানো, সার্বক্ষণিকভাবে মান নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উৎপাদন প্রক্রিয়ায় মানোন্নয়নের জন্য ডিজিটাল নজরদারির ব্যবস্থা তৈরিতে সহায়তা করে।

এটা খুবই দুঃখজনক যে এখনো লাখ লাখ মানুষ ক্লান্তিকর ও স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ কাজের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু তরুণ প্রজন্ম আর এ ধরনের কাজ করতে চায় না। আরিয়ান ও তাঁর দল উৎপাদনকর্মীদের জীবনমানের উন্নয়ন, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং অধিকতর মূল্য সংযোজনে নিয়োজিত করার জন্য কাজ করতে চায়।

         আরিয়ান কবীর

প্রথম আলোর ই-মেইলের জবাবে আরিয়ান কবীর আরও বলেন, এটা খুবই দুঃখজনক যে এখনো লাখ লাখ মানুষ ক্লান্তিকর ও স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ কাজের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু তরুণ প্রজন্ম আর এ ধরনের কাজ করতে চায় না। আরিয়ান ও তাঁর দল উৎপাদনকর্মীদের জীবনমানের উন্নয়ন, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং অধিকতর মূল্য সংযোজনে নিয়োজিত করার জন্য কাজ করতে চায়। আরিয়ানের ধারণা, তরুণদের অনাগ্রহের কারণে ‘সারফেস ফিনিশিং ও ট্রিটমেন্ট’ যদি স্বয়ংক্রিয় না হয়, তাহলে বিশ্ব যান্ত্রিক উৎপাদনব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারে। সারফেস ফিনিশিং ও ট্রিটমেন্ট কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে সিরিশ কাগজ দিয়ে সারফেসকে ঘষা, মসৃণ করা ও স্প্রে করা। শুধু আমেরিকার বিভিন্ন কারখানায় প্রায় ১৫ লাখ লোক এই ক্লান্তিকর কাজের সঙ্গে যুক্ত। বেশির ভাগ সময় এই কাজগুলো হাতেই করতে হয়। এই কাজের পুরোনো ও দক্ষ লোকদের এক বিরাট অংশ এখন অবসরে চলে যাচ্ছেন। নতুনদের এই কাজে আগ্রহ কম থাকাতে কারখানাগুলো কর্মী সংকটে ভুগতে শুরু করেছে। গ্রেম্যাটারের উদ্ভাবিত মসৃণকারক রোবটগুলো সাধারণ যেকোনো কর্মী চালাতে পারেন, রোবটিকসে বিশেষ প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয় না।

গ্রেম্যাটারের রোবট ব্যবহৃত হচ্ছে পারফরম্যান্স কম্পোজিট নামে একটি প্রতিষ্ঠানে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ফ্রান্সিস হুর মতে, যে সময়ে এই সারফেস ক্লিনিংয়ের কর্মী খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে উঠেছে, তখন গ্রেম্যাটারের ‘স্ক্যান অ্যান্ড স্যান্ড’ একটা আশীর্বাদ। থ্রিএম (3M) অ্যাবরাসিভ সিস্টেম ডিভিশনের প্রধান দেবারতি সেনের মতে, উৎপাদনকারীদের মধ্যে কর্মীদের নিরাপত্তা, মান ধরে রাখা এবং খরচ কমানোর ব্যাপারে আগ্রহ কয়েক গুণ বেড়েছে। রোবটিক প্রসেস অটোমেশনের কারণেই এমনটি হচ্ছে। থ্রিএম গ্রেম্যাটারের এই বিনিয়োগের অন্যতম অংশীদার।

আরিয়ান আরও বলেন, ‘গ্রেম্যাটারে আমরা মানুষকে সাহায্য করে, এমন রোবট বানাচ্ছি। আমাদের যে এআই-ব্রেন আছে, সেটাকে আমরা সেন্সর, টুলস, রোবটের সঙ্গে যুক্ত করছি।’ গ্রেম্যাটার তাদের রোবটগুলোকে সেবা হিসেবে দেওয়ার কারণে কারখানাগুলো রোবট না কিনেও ব্যবহার করতে সক্ষম হচ্ছে। গ্রেম্যাটারের ব্যবসায়িক মডেল হলো—রোবট এজ এ সার্ভিস (RaaS)। অর্থাৎ গ্রাহক তাঁদের রোবট মাসিক ভিত্তিতে ভাড়া নিতে পারে। বর্তমানে এই আরএএএস পদ্ধতি জনপ্রিয় হচ্ছে। আগে রোবটিক প্রসেসের জন্য কোম্পানিগুলোকে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করে রোবট কিনতে হতো।

নতুন যাঁরা রোবটিকসে আগ্রহী, তাঁদের উদ্দেশে আরিয়ানের পরামর্শ হলো, রোবটিকস বহু বিষয়ের সমন্বয়। গণিত ও প্রকৌশলে দৃঢ় ভিত্তি থাকলেই কেবল রোবটিকসে ভালো করা যাবে। আরিয়ান মনে করেন, আগামী দিনে রোবটিকসের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য আগ্রহী ব্যক্তিদের এই দিকে ক্যারিয়ার গড়ায় নজর দেওয়া উচিত।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 cholojaai.net
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com