বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন
Uncategorized

আফগানিস্তান

  • আপডেট সময় রবিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২১

আফগানিস্তান দক্ষিন এবং মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত সম্পূর্ণভাবে স্থলবেষ্টিত একটি দেশ। প্রায় ৩ কোটি ৩০ লক্ষ জনসংখ্যা নিয়ে দেশটি বিশ্বের ৪২তম দেশ। এটি ২ লক্ষ ৫২ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তন জুড়ে বিসৃত এবং আয়তনের দিক দিয়ে বিশ্বে দেশটির অবস্থান ৪১তম। এই অঞ্চলে প্রধান ধর্ম হচ্ছে ইসলাম।

দেশটিতে রয়েছে রাষ্ট্রপতি ভিত্তিক ইসলামি প্রজাতন্ত্র। আফগানিস্তানের রাজধানী হচ্ছে কাবুল যেটি একইসাথে দেশটির সর্ববৃহৎ শহরও বটে। দেশটির রাষ্ট্রীয় মুদ্রা হচ্ছে আফগানী। দেশটির পতাকা যথাক্রমে কালো, লাল এবং সবুজ রঙের সমন্বয়ে তৈরি এবং পতাকার মাঝখানে রয়েছে দেশটির কোট অফ আর্মস এর প্রতীক।

১। আফগানিস্তানে প্রথম মনুষ্য বসতি গড়ে উঠেছিল প্রায় ৯০০০ বছর আগে।

২। তবে আধুনিক আফগানিস্তানের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ১৭৪৭ সালে আহমদ শাহ দুররানীর হাত ধরে। এবং ১৯২১ সালের ১৯ আগস্ট তৃতীয় অ্যাংলো-আফ্রিকান যুদ্ধের পর আফগানিস্তান যুক্তরাজ্য থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।

৩। হামিদ কারজাই দেশটির প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ছিলেন। ২০০৪ সালে তিনি এই পদে নির্বাচিত হন।

৪। সম্পূর্ণভাবে স্থলবেষ্টিত আফগানিস্তানের মোট ৬টি দেশের সাথে সীমানা রয়েছে।

৫। আফগানিস্তানের সরকার একটি রাষ্ট্রপতিভিত্তিক ইসলামিক প্রজাতন্ত্র, যার অর্থ দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলামী আইন দ্বারা শাসিত হয়।

৬। প্রায় আড়ায় লাখ বর্গকিলোমিটারের আফগানিস্তান, আয়তনের দিক দিয়ে আমেরিকার টেক্সাস রাজ্যের সমান।

৭। আফগানিস্তানের মোট জিডিপি প্রায় ২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেখানে মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৯০০ মার্কিন ডলার। দেশটির মোট জিডিপির ৫৬ শতাংশ আসে সেবামূলক খাত থেকে এবং ২২ শতাংশ আসে যৌথভাবে কৃষি এবং শিল্পখাত থেকে।

৮। আফগানিস্তানের প্রধান কৃষি পণ্যগুলির মধ্যে রয়েছে আফিম, গম, বিভিন্ন ধরনের ফল, বাদাম, উল, ভেড়ার মাংস, ভেড়ার চামড়া এবং পপিফুল।

৯। আফগানিস্তানে জীবনযাত্রার মান অত্যন্ত নিচুমানের এবং দেশটি অতিমাত্রায় বিদেশী সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল।

১০। আফগানিস্তান এর মোট জিডিপির মাত্র ০.৮৯ শতাংশ সামরিক খাতে ব্যয় করে।

১১। দেশটির মোট জনসংখ্যার মাত্র ১০ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে।

১২। ইউনিসেফ এর তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রায় ১৫ শতাংশ মানুষের বিয়ে ১৫ বছর বয়সেই হয়ে যায়। অর্থাৎ, দেশটিতে ব্যপকমাত্রায় বাল্যবিবাহ প্রচলিত।

১৩। এবং প্রায় ৩৩ শতাংশের বিয়ে ১৮ বছরের আগেই সম্পন্ন হয়।

১৪। আফগানিস্তানের জনসংখ্যার শতকরা ৩৬ ভাগ যুক্তরাষ্ট্রীয় দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে।

১৫। কখনো কখনো ভুলকরে আফগানিস্তানের নাগরিকদের আফগানী নামে ডাকা হয়। এটা আসলে দেশটির মুদ্রার নাম। আর আফগানিস্তানের মানুষ মূলত আফগান হিসাবে পরিচিত।

১৬। বুজকাশি আফগানিস্তানের জাতীয় খেলা। এই প্রতিযোগিতা মূলক খেলাটিতে একজনকে ঘোড়ায় চড়া অবস্থায় ছাগল ধরতে হয়।

১৭। আফগানিস্তানে অবস্থিত বামিয়ানের গুহা পৃথিবীর সর্বপ্রথম তৈলচিত্রের জন্য বিখ্যাত।

১৮। দারি এবং পশতু আফগানিস্তানের সরকারী ভাষা, কিন্তু কিছু কিছু অঞ্চলে তুর্কি ভাষাও প্রচলিত।

১৯। দেশটিতে প্রচলিত সবচেয়ে সাধারণ বিদেশী ভাষা ইংরেজি।

২০। আফগানিস্তানে কমপক্ষে ১৪টি উপজাতির বসবাস।

২১। আফগানিস্তানের অফিশিয়াল ধর্ম হচ্ছে ইসলাম। দেশটির শতকরা ৯৯ শতাংশ মানুষ ইসলাম ধর্ম অনুসরন করে।

২২। সংখ্যাগরিষ্ঠ আফগান জনগণ মুসলিম হওয়ার কারনে তারা শূকর এর মাংস কিংবা মদ খায় না।

২৩। আফগানিস্তানে বছরের শুরুর দিনটি ২১শে মার্চ উদযাপন করা হয়, যা বসন্তের প্রথম দিন।

২৪। বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে আফগানদের শতকরা হার বিশ্বের সর্বনিম্ন দেশগুলির মধ্যে অন্যতম।

২৫। বিদ্যুৎ মোটামুটিভাবে দুষ্প্রাপ্য হওয়া সত্ত্বেও, প্রায় ১৮ লক্ষ আফগান মোবাইল ফোন ব্যবহার করে।

২৬। কবিতা আফগানিস্তানের সংস্কৃতির একটি বড় অংশ এবং এটি ১০০০ বছরের বেশি সময় ধরে দেশটির ইতিহাসের অংশ।

২৭। আফগানিস্তানেও আমাদের দেশের মতই শুক্রবারে বেশিরভাগ দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে, যদিও দিনটি সাপ্তাহিক ছুটির দিন নয়।

২৮। দেশটিতে রমজান মাসে রোযা রাখা ও প্রার্থনা করা অর্থাৎ নামাজ পড়া বাধ্যতামূলক। শুধুমাত্র কিছুটা ব্যতিক্রম হয় বিদেশী, অসুস্থ মানুষ এবং যারা ভ্রমণ করছেন তাদের ক্ষেত্রে।

২৯। তবে যদিও বিদেশীদের রোজা রাখা বাধ্যতামূলক নয়, তবুও তাদের জনসম্মুখে খাবার খাওয়া কিংবা ধূমপান করা নিষিদ্ধ।

৩০। রমজান মাসে, দেশটিতে প্রতি দিনের কর্মঘন্টা কমে ৬ ঘণ্টাতে নেমে আসে।

৩১। পরিবার আফগানদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিবাহের পর, আমাদের উপমাহাদেশিয়দের মতই তারাও যুক্ত পরিবারেই বাস করে।

৩২। আফগান নারীরাও সাধারণত অন্যান্য ইসলামিক দেশের মতো নম্র কাপড় পরে থাকেন।

৩৩। আফগানিস্তানে পুরুষ এবং মহিলারা যতটা সম্ভব চোখাচোখি এড়িয়ে চলেন।

৩৪। আফগানিস্তানের কান্দাহার বিমানবন্দরের রানওয়েটিকে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত রানওয়ে হিসাবে গণ্য করা হয়।

৩৫। আফগানিস্তানের মাত্র ১২ শতাংশ জমি চাষাবাদ উপযোগী।

৩৬। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ২টি বুদ্ধমূর্তি আফগানিস্তানেই ছিল। যদিও ২০০১ সালে তালেবানরা মূর্তি দুইটি ধ্বংস করে দেয়।

৩৭। আফগানিস্তানের কম্বল বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। এবং সারা বিশ্বের অনেক ঘরেই পাওয়া যাবে এই কম্বল।

৩৯। আফগানিস্তান বিশ্বের বৃহত্তম আফিম সরবরাহকারী দেশ।

৪০। দেশটির কমপক্ষে ১ কোটি মানুষ পড়তে ও লিখতে অক্ষম, যা আফগানিস্তানকে বিশ্বের সবচেয়ে নিরক্ষর দেশগুলির মধ্যে একটি করে তুলেছে।

৪১। তালিবান শাসন অনুযায়ী, আফগানিস্তানে মেয়েশিশুদের স্কুলে যাওয়া নিষিদ্ধ।

৪২। হিন্দু কুশ দেশটির সবচেয়ে উঁচু পর্বত এবং এটির উচ্চতা ১৮ হাজার ফুট এরও বেশি।

৪৩। আফগানরা রাস্তার ডান পাশে দিয়ে গাড়ি চালাই।

৪৪। এবং দেশটির ডায়ালিং কোড হচ্ছে +৯৩।

আফগানিস্তান এমন একটি দেশ যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অনেক ভিন্ন সংস্কৃতির অধিকারী। যাহোক, আফগানদের একটি সমৃদ্ধ সংস্কৃতি আছে যা তাদের গভীর ধর্ম বিশ্বাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এবং অবশ্যই তাদের আছে পরিবারের প্রতি গভীর আনুগত্য।

খালিদ হাসান

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

ভ্রমন সম্পর্কিত সকল নিউজ এবং সব ধরনের তথ্য সবার আগে পেতে, আমাদের সাথে থাকুন এবং আমাদেরকে ফলো করে রাখুন।

© All rights reserved © 2020 cholojaai.net
Theme Customized By ThemesBazar.Com