1. b_f_haque70@yahoo.com : admin2021 :
  2. editor@cholojaai.net : cholo jaai : cholo jaai
অভিবাসীদের প্রতি মানবিক হতে বাইডেনের নির্দেশ
বুধবার, ০৪ অগাস্ট ২০২১, ০৭:৩৬ অপরাহ্ন

অভিবাসীদের প্রতি মানবিক হতে বাইডেনের নির্দেশ

চলযাই ডেস্ক :
  • আপডেট সময় সোমবার, ২১ জুন, ২০২১

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন পদ্ধতিতে সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিবাসন কর্মকর্তাদের অধিকতর ক্ষমতা প্রদান করে নির্দেশ জারি করা হয়েছে। অভিবাসীদের পক্ষে সহনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বর্ধিত এ ক্ষমতা কাজে লাগানোর জন্য বলা হয়েছে।

মার্কিন অভিবাসনে গ্রিন কার্ডধারী বয়স্ক লোকজন, গর্ভবতী নারী, যারা অল্প ব্যয় থেকে কোনো নথিপত্রহীন অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছে এবং চরম স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়া লোকজনের নামে ঝুলে থাকা অভিবাসন মামলা প্রত্যাহার কথাও বলা হয়েছে নতুন নির্দেশনায়।

গত সপ্তাহে জারি করা নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, উল্লেখিত কারণ ছাড়াও অন্য অবধারিত মানবিক বিষয়গুলো অভিবাসন বিভাগের প্রসিকিউটররা যেন বিবেচনা করেন। অন্যান্য মানবিক বিবেচনার মধ্যে রয়েছে কোনো অপরাধমূলক সহিংসতার শিকার বা কারও সেবায় নিয়োজিত লোকজনের কথাও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মার্কিন অভিবাসন নিয়ে গত চার বছরের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান থেকে বর্তমান প্রশাসনের বেরিয়ে আসার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে নতুন নির্দেশনাটিকে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণ করে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনকে কঠিন করে তোলার প্রয়াস নেন। প্রথমেই মুসলিম প্রধান দেশগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। আইন করে অভিবাসনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে কঠিন করে তোলার সব উদ্যোগ তিনি গ্রহণ করেন। কংগ্রেসের সহযোগিতা না পাওয়ার কারণে মার্কিন অভিবাসন নিয়ে কোনো আইন প্রণয়নে অবশ্য তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।

একের পর এক প্রশাসনিক নির্দেশের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে অভিবাসীদের জন্য একটি বদ্ধ দেশে পরিণত করার চেষ্টা করেছেন। আশ্রয় আবেদন থেকে শুরু করে পারিবারিক অভিবাসন কঠিন করার প্রয়াস চালিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীলদের সন্তুষ্ট করার লক্ষ্যে ট্রাম্পের এ প্রয়াসের বিরুদ্ধে অভিবাসী গ্রুপগুলো সব সময় সোচ্চার ছিল।

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গত ২০ জানুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণ করেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলের প্রশাসনিক নির্দেশগুলো একের পর এক বাতিল করতে শুরু করেন। এতে রক্ষণশীলদের হই চই শুরু হয়। দক্ষিণের সীমান্ত দিয়ে অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় এ নিয়ে শুরু হয় রক্ষণশীলদের সমালোচনা।

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন অভিবাসন নিয়ে দক্ষিণের সীমান্ত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে দায়িত্ব দেন। পৃথক নির্দেশনায় প্রেসিডেন্ট বাইডেন ডিপোর্টেশনে থাকা অভিবাসীদের বহিষ্কার স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন। পারিবারিক অভিবাসনে ট্রাম্পের আরোপ করা পাবলিক চার্জ নীতি বাস্তবায়নের আগে এ বিষয়টি মূল্যায়ন করে দেখার নির্দেশ জারি করেন।

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন

সর্বোপরি প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে একটি মানবিক অভিবাসনব্যবস্থা গড়ে তুলবেন। এ নিয়ে তিনি সমন্বিত অভিবাসন আইন প্রণয়নে আইনপ্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্ষমতা গ্রহণ করেই যুক্তরাষ্ট্রে ভেঙে পড়া অভিবাসনব্যবস্থাকে সংস্কার করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এ বিষয়টি তাঁর অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে এবং ডেমোক্রেটিক দলের আইনপ্রণেতারা অভিবাসন সংস্কারে প্রস্তাবিত আইনের খসড়া নিয়ে এখন ব্যস্ত রয়েছেন।

রিপাবলিকান দল ও রক্ষণশীলদের বাধার মুখেও প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তাঁর অভিবাসন সংস্কারের উদ্যোগ এবং বিদ্যমান অভিবাসন আইনে অভিবাসীদের জন্য ইতিবাচক সব নির্দেশনা জারি করায় অভিবাসী গ্রুপগুলোর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস ডিপার্টমেন্টের প্রধান আইনজীবী জন ট্রাসভিনা বলেন, যেকোনো মামলায় প্রসিকিউটরের গৃহীত পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একটি মামলার ফলাফল অনেকটাই প্রসিকিউটরের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। তিনি বলেন, মার্কিন অভিবাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য প্রশাসনের নতুন নির্দেশনা জনগণের আস্থা অর্জনে ভূমিকা রাখবে।

মার্কিন অভিবাসন বিভাগের প্রসিকিউটরদের অধিকতর ক্ষমতা প্রদানের নতুন নির্দেশনায় অভিবাসন আদালতে জমে থাকা মামলার সংখ্যা দ্রুত কমে আসার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। বিভাগটির তথ্য অনুযায়ী, অভিবাসন বিভাগে ১৩ লাখের বেশি মামলা দীর্ঘদিন থেকে ঝুলে আছে। সঠিক নির্দেশনা এবং লোকবলের অভাবকে দায়ী করা হচ্ছিল এসব জমে থাকা মামলার জন্য।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অভিবাসন মামলায় পড়া কোনো অভিবাসী ভয়ংকর অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত নয়, এমন লোকজনকে বিতাড়নের জন্য যেন কোনো বাড়তি উদ্যোগ গ্রহণ না করা হয়।আমেরিকান ইমিগ্রেশন ল’ ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র গ্রেগ চেন বলেছেন, নতুন নির্দেশনার ফলে দ্রুততার সঙ্গে জমে থাকা অভিবাসন আদালতের মামলার সুরাহা হবে বলে তিনি মনে করেন।

অভিবাসন মামলায় ঝুলে থাকা লোকজন মামলার বাইরে অন্য কোনো উপায়ে অভিবাসন প্রাপ্তির সুযোগ আছে কিনা তা বিবেচনা করে দেখার জন্য নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বহু লোকজন একাধিক উপায়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনের জন্য আবেদন করে থাকেন। আগে এসব একাধিক আবেদনকে সন্দেহের চোখে দেখা হতো এবং অভিবাসন মামলায় পড়া লোকজনের বিপক্ষে ব্যবহার করার হয়েছিল। নতুন নির্দেশনার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনের প্রতি জনগণের আস্থা বাড়বে এবং এ ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত বলে ইমিগ্রেশন বিভাগ থেকে বলা হয়েছে।

রোকেয়া দীপা

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 cholojaai.net
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com