রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০২:০৮ পূর্বাহ্ন
Uncategorized

অপেক্ষার প্রহর গুনছেন বৈধ অভিবাসন প্রত্যাশীরা

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২১

যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসী হতে চান ও স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্ট করতে চাইছেন এমন মানুষেরা অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। কবে আসছে তাদের জন্য সুখবর। করোনার কারণে অভিবাসী প্রত্যাশী ও তাদের জন্য যারা আবেদন করেছেন, তারা অনেকেই অনেক কাজ নির্ধারিত সময়ে করতে পারেননি। প্রয়োজনীয় নথিপত্রও সময়মতো জমা দিতে পারেননি। এখন অবশ্য তারা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। কেউ কেউ অপেক্ষা করছেন ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ইন্টারভিউ দিতে। যারা আগেই আবেদন করেছিলেন, তারা অপেক্ষা করছিলেন ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়ার কিংবা ইন্টারভিউর জন্য। ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রদান করার নোটিশ পাচ্ছেন আবেদনকারীরা। ইন্টারভিউয়ের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষ এখন আশার আলো দেখছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে দেশে থেকে যারা এ দেশে আসার অপেক্ষা করছিলেন কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে থেকেই স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্ট করার আবেদন করেছিলেন, তারা মনে করছেন এখন অন্তত তাদের জন্য সুখবর আসবে। তবে বাংলাদেশে পুনরায় লকডাউন শুরু হওয়ায় কাজ কিছুটা ধীর গতিতে হতে পারে।

ইতিমধ্যে যারা সাক্ষাৎকারের জন্য অপেক্ষা করছিলেন, তারা সাক্ষাৎকারের নোটিশ পাচ্ছেন। করোনার সময়েও ইন্টারভিউ হয়েছে। তবে এই সংখ্যা দিন দিন আরো বাড়বে। সব মিলিয়ে করোনার কারণে ইমিগ্রেশনে যে ধীর গতি তৈরি হয়েছিল, তা আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয়ে আসছে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন। কারো কারো মতে, এক বছরের বেশি সময় করোনার মধ্যে কেটেছে। এই সময়ে বিভিন্ন অফিসে ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত সরাসরি সার্ভিস বন্ধ থাকায় গত বছর কয়েক মাস কাজ সীমিত ছিল। এ ছাড়া গত প্রশাসনের সময়ে করোনার কারণে ভিসা বন্ধ থাকায় ৩১ মার্চ পর্যন্ত তা সীমিত হবে- এমনটাই ধারণা করেছিলেন সবাই। কিন্তু বাইডেন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর ৩১ মার্চ পর্যন্ত যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তা তুলে নেওয়ায় আবার সবকিছু চলতে শুরু করে। তবে ভিসার ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে অনেক কাজ স্বাভাবিক সময়ের মতো তখন না হওয়ায় কিছুটা ব্যাকলগ তৈরি হয়েছে। সেটা কেটে যাবে বলে মনে করছেন অ্যাটর্নিরা। ড্রিমার ও ফারমার্সদের জন্য হাউসে বিল পাস হওয়ায় তা সিনেটে পাস হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন ওই সব ক্যাটাগরিতে যারা আবেদন করবেন তারা।

এ বিষয়ে অ্যাটর্নি মীর এম মিজানুর রহমান বলেন, ইমিগ্র্রেশনে আবার কাজকর্মের গতি বাড়ছে। যারা প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে, তাদের কাজ চলছে। যারা দেশে অনেক দিন ধরে অপেক্ষা করছিলেন আসার জন্য, তারাও আসতে পারবেন। এদিকে নতুন নতুন আইন পাস হওয়ার কথা বলা হচ্ছে। হাউসে ড্রিমার্স অ্যান্ড প্রমিজ অ্যাক্ট, ফারমার্স ওয়ার্কারদের এ দেশে বৈধ অভিবাসী হওয়ার সুযোগ তৈরি করার জন্য বিল হাউসে পাস হয়েছে। যখন সিনেটে এটি পাস হবে, প্রেসিডেন্ট স্বাক্ষর করার পর আইন হবে। সিনেটে এসব আইন পাস না হওয়ার আগ পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। তাই এ দেশে থাকা নথিপত্রহীন মানুষেরা বৈধ হওয়ার জন্য আশা করলেও আইন পাস না হওয়ার আগে কিছু বলা যাবে না।

অ্যাটর্নি সোমা সায়ীদ বলেন, করোনার সময় সীমিত পরিসরে হলেও কাজ হয়েছে। এখন আশা করা যাচ্ছে, আবার কাজ পুরোদমে চলবে। এতে করে যারা এ দেশে আসার জন্য অপেক্ষা করছিলেন, তাদের জন্য সুবিধা হবে। অনেকেই ইন্টারভিউর সিডিউল পাচ্ছেন। ফিঙ্গারপ্রিন্টের সিডিউল পাচ্ছেন। পারিবারিক ক্যাটাগরিতে যারা আছেন, তারা অনেকেই নোটিশ পাচ্ছেন। তবে ড্রিমার, ফারমার্স ক্যাটাগরিতে যারা আবেদন করবেন, তাদের জন্য আইন পুরোপুপি পাস না হওয়া পর্যন্ত কিছুই বলা যাচ্ছে না।

ব্যারিস্টার ও অ্যাটর্নি ইশরাত সামি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় ভিসা ইস্যু করা বন্ধ করার কারণে বাংলাদেশ থেকে অনেকেইে সময়মতো আসতে পারেননি। অর্থাৎ করোনা না থাকলে যে সময়ে ভিসা ইস্যু হয়ে যেত, সেই সময়ে হয়নি। পরে যখন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলো, তখন থেকে ইতিবাচকভাবে কাজ এগোচ্ছে। যারা অপেক্ষা করছেন তাদের একটু ধৈর্য ধরতে হবে। যারা ফিঙ্গারপ্রিন্টের জন্য অপেক্ষা করছেন তারা ফ্রিঙ্গারপ্রিন্টের নোটিশ পাবেন। আর যারা ইন্টারভিউর জন্য অপেক্ষা করছেন সেগুলোরও সিডিউল করা হচ্ছে। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে অনেকে আগেই পরিবারের কাছে এখানে আসতে পারবেন আশা করলেও এবং পরিকল্পনা থাকলেও সেটা পারেননি। আস্তে আস্তে সব কাজ স্বাভাবিক হয়ে এলে তখন তারা প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আসতে পারবেন। এ ছাড়া আরো একটি সুখবর হলো মানুষ যে ইমিগ্রেশনে তাদের নথিপত্র জমা দেওয়ার পর নোটিশ পিরিয়ডের পরেও ৬০ দিন সময় পাচ্ছেন। এটা ইতিবাচক দিক। এতে অনেকেই উপকৃত হবেন।

অ্যাটর্নি খায়রুল বাশার বলেন, অনেকেই অনেক ধরনের জটিল কেস নিয়ে আসছেন। আমরা বলব, যারা বাংলাদেশ থেকে পারিবারিকভাবে ইমিগ্র্যান্ট হয়ে আসতে চাইছেন, তারা অপেক্ষা করলে সুফল পাবেন। কাজকর্মের গতি বাড়ছে। আশা করা যাচ্ছে, যারা দেশে অপেক্ষা করছিলেন তারা সব নথিপত্র, যা যা চাওয়া হয়েছিল সেগুলো সময়মতো দিয়ে থাকলে ও প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ইন্টারভিউ ভালোভাবে দিতে পারলে, ভিসা পেলে তারা আসতে পারবেন। তিনি বলেন, গ্রিনকার্ডধারী অনেকে দেশে গিয়ে করোনার কারণে আটকা পড়েছেন। গ্রিনকার্ড থাকা সত্ত্বেও ছয় মাস কিংবা এক বছর অথবা এর বেশি সময় সময় পার হওয়ার পরও আসতে পারেননি। তারা এখানে আসার জন্য কী করতে হবে সেটা জানতে হলে অবশ্যই একজন আইনজীবীর পরামর্শ নিতে হবে। করোনার কারণে আসতে পারেননি এবং যুক্তিসংগত কারণ ছিল, সেটা প্রমাণ সাপেক্ষে তাদের আসার সুযোগ রয়েছে। আমি বলব, যাদের ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত বিষয়ে সহায়তা প্রয়োজন, তারা আইনজীবীর পরামর্শ নিন।

অ্যাটর্নি এম নরেশ গেহী বলেন, আমরা সব ধরনের আইনি সহায়তা দিয়ে থাকি। তাই বলব, যাদের ইমিগ্রেশন বিষয়ে সহায়তা প্রয়োজন তারা অন্তত একবার হলেও আমাদের কাছে আসুন। প্রয়োজনীয় নথিপত্র যা আছে সব নিয়ে এসে একবার পরামর্শ করলে উপকৃত হবেন। আইনজীবীর কাছে এলে পরামর্শ করলেই কাজ করাতে হবে এমন নয়, পরামর্শ নিয়ে যেকোনো অভিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে কাজ করাতে পারেন। কিন্তু আমি বলব, আপনারা অন্তত ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত কোনো আবেদন করার আগে অ্যাটর্নির সহায়তা নিন। আমরা সব ধরনের জটিল কেস সমাধানের চেষ্টা করি ও সফল হই।

নাশরাত আর্শিয়ানা চৌধুরী 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

ভ্রমন সম্পর্কিত সকল নিউজ এবং সব ধরনের তথ্য সবার আগে পেতে, আমাদের সাথে থাকুন এবং আমাদেরকে ফলো করে রাখুন।

© All rights reserved © 2020 cholojaai.net
Theme Customized By ThemesBazar.Com