মাংকি ফরেস্ট

মাংকি ফরেস্ট বানরদের একটি প্রাকৃতিক অভায়রণ্য। এখানে বানরদের নিয়ে গবেষণা করা হয়। ভেতরে বেশ কিছু প্রাচীন মন্দির রয়েছে। সেগুলোর স্থাপনাশৈলি চমৎকার। মূলত বালির সব মন্দিরের স্থাপনাশৈলীই চমৎকার বলা যায়।

যাই হোক, ভেতরে ঢোকার জন্য দুজন মহিলা গাইড লাঠি হাতে নিয়ে আমাদের সঙ্গী হলো। এখানে সব দোকানে নারী গাইড।বানর তাড়ানোর জন্য তাদের সঙ্গে করে নিতেই হবে। এরা যতটা না ফরেস্ট ঘুরিয়ে দেখাতে আন্তরিক, তার চেয়ে বেশি আন্তরিক, তাদের দোকানে নিয়ে যেতে। এটা ওটা দেখিয়ে কতক্ষণে পণ্য বিক্রি করবে সে চেষ্টায় তৎপর থাকে। ট্যুরিস্টদের ইমোশনালি ব্ল্যাকমেইল করে। ‘আজ সারাদিন বিক্রি হয়নি! বিক্রি না হলে না খেয়ে থাকবো! বানরদের অভিশাপ লাগবে আমাদের উপর! ব্লা ব্লা…’

এটি ছিল চরম বিরক্তিকর। তারচেয়ে বেশি বিরক্তিকর ছিল বানরের যন্ত্রণা। একটু পর পর চারপাশ থেকে বানর এসে ঘিরে ধরতে চায়। এটা-ওটা ছিনিয়ে নিতে চায়। সঙ্গে থাকা মহিলা দু’জন লাঠি নিয়ে হুড় হুড় করে তাড়িয়ে দেয় । বুঝতে পারছিলাম না, আমরা আসলে এখানে কি দেখতে এসেছি! মাংকি? না ফরেস্ট? ফরেস্টের সৌন্দর্যের কথা ভুলে সারাক্ষন বানর আতঙ্কে তটস্থ হয়ে আছি!

বালির খুব পরিচিত একটি ফুল ফ্রাঞ্জিপানি (frangipani)। এই ফুলটি বলতে গেলে বালির জাতীয় ফুলের পর্যায়ে পড়ে। বালির রাস্তাঘাটে, যেখানে সেখানে থোকায় থোকায় ফুটে থাকা এই ফুলের গাছ চোখে পড়বে। গাছটা যেমন সুন্দর ফুলগুলোও তাই। সাদা ফুলের মাঝখানে হলদেটে শেড। চমৎকার ফুলটির ঘ্রাণও প্রাণ জুড়ানো।

এই মাংকি ফরেস্টে এসে এই ফুলের আরেকটি রং দেখলাম। ম্যাজেন্ডা টাইপের। গাইড জানালেন, ম্যাজেন্ডা কালারের ফ্রাংজিপানি কেবল এখানেই আছে। কিন্তু কথাটি সত্য নয়, আমি আরেক জায়গায়ও এই ফুল দেখেছি।

আমাদের দেশেও এই ফুল দেখেছি। তবে নাম জানি না। বনানী ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে বারিধারা ঢোকার রাস্তায় দুটো সাদা ফ্রাংজিপানি গাছ আছে। গাছে ফুলও ধরে আছে। যদি বালিতে যেয়ে এ ফুলের প্রেমে না পড়তাম তাহলে হয়তো বারিধারার রাস্তার পাশে এই ফুল আমার চোখেই পড়তো না!

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: