বিনিয়োগের বদলে নাগরিকত্ব: বাংলাদেশ থেকে কোন দেশে যেতে আগ্রহ বেশি?

যুক্তরাজ্য ভিত্তিক অভিবাসন প্রতিষ্ঠান হেনলি এন্ড পার্টনারস জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের মধ্যে ‘বিনিয়োগের মাধ্যমে নাগরিকত্বের’ব্যাপারে মানুষের আগ্রহ গত বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে।

আগে উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে এই ব্যাপারে বেশি আগ্রহ দেখানো হলেও এখন উন্নত দেশগুলোর বাসিন্দারাও নতুন দেশে অভিবাসনের ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠছে।

অভিবাসনের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী দেশের তালিকায় গত বছর ছিল ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও নাইজেরিয়া। তবে ২০২০ সালে সেই তালিকার শীর্ষ পাঁচটি দেশের মধ্যে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রও। এখন যেসব দেশের মানুষ অভিবাসনের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি খোঁজখবর করেছে, সেগুলো হলো, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

হেনলি এন্ড পার্টনার্সের তথ্য অনুযায়ী, বিনিয়োগের মাধ্যমে নাগরিকত্বের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দারা, যদিও এর কোন ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া যায়নি।

বিনিয়োগের বদলে কোন দেশে কী ভিসা পাওয়া যায়?

বর্তমানে ইউরোপের দেশ মাল্টা, সাইপ্রাস, মন্টিনেগ্রো, মলদোভা, লাটভিয়া, গ্রিস, পর্তুগাল, লিথুনিয়ার মতো দেশে বিনিয়োগের বিনিময়ে নাগরিকত্ব প্রদান করছে। ক্যারিবিয়ান দেশ অ্যান্টিগুয়া এন্ড বারমুডা, গ্রানাডা, সেন্ট লুসিয়াতেও এই সুবিধা পাওয়া যায়।

এছাড়া কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র, নিউজিল্যান্ড ও ইউরোপিয়ানের অনেকগুলো বিনিয়োগের বিনিময়ে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়া যায়। পর্যায়ক্রমে নাগরিকত্বের সুযোগ রয়েছে।

এসব ক্ষেত্রে পাঁচ কোটি টাকা থেকে শুরু করে ১৫ কোটি পর্যন্ত টাকা খরচ হয়।

অনেক বাংলাদেশি কানাডায় বাড়ি কিনেছেন।

ছবির উৎস,GETTY IMAGES

ছবির ক্যাপশান,অনেক বাংলাদেশি কানাডায় বাড়ি কিনেছেন।

বাংলাদেশ থেকে কোন দেশে যেতে আগ্রহ বেশি?

বাংলাদেশে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান বিদেশে বিনিয়োগকারী ভিসায় যাওয়ার ব্যাপারে পরামর্শক হিসাবে কাজ করে। কিন্তু টেলিফোনে এই ব্যাপারে তাদের কেউই নাম প্রকাশ করে কথা বলতে রাজি হননি।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে ঢাকার একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ”বাংলাদেশ থেকে কানাডা, যুক্তরাজ্যে যাওয়ার প্রবণতা অনেক বেশি। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া বা অস্ট্রেলিয়ার দিকেও অনেকের আগ্রহ রয়েছে তবে এখন মাল্টা, সাইপ্রাস, লাটভিয়ার মতো ইউরোপের দেশগুলোয় সরাসরি নাগরিকত্ব নিয়ে চলে যাওয়ার একটা প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।”

গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ থেকে অনেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগের বদলে নাগরিকত্ব, স্থায়ী বসবাসের সুবিধা নিয়েছেন।

তবে অভিবাসন নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে গত এক বছরে বাংলাদেশ থেকে ততোটা বেশি অভিবাসনের আবেদন জমা পড়েনি বলে তিনি জানান। তবে নভেম্বর মাস থেকে আবার অনেকে অভিবাসনের ব্যাপারে খোঁজখবর নিতে শুরু করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: