চলো যাই কাশ্মীর ঘুরে আসি

কাশ্মীর পৃথিবীর ভূস্বর্গ। প্রকৃতি যেন তার সব ঐশ^র্য উজাড় করে দিয়েছে এখানে। তাই কাশ্মীর ভ্রমন পিপাসুদের জন্য একটি পারফেক্ট ডেস্টিনেশন হানিমুনের জন্যও যেতে পারেন কাশ্মীর। এখান থেকে হিমালয়কে উপভোগ করতে হাজার হাজার পর্যটক নানা প্রতিকুলতার মধ্যেও বেড়াতে আসেন
এখানে।

জম্বু ও কাশ্মীরের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শ্রীনগরের প্রধান আকর্ষন ডাল লেক। এই ডাল লেকের জন্য কাশ্মীরকে বলা হয় প্রচ্যের ভেনিস।কাশ্মীরে বেড়াতে গেলে ডাল লেকে ভাসমান হাউজ বোটে অন্ত:ত একটা দিন কাটান। হাউজ বোটের ব্যবস্থাপনা কোন পাচতারা হোটেলের চেয়ে কম নয়। স্বয়ং সম্পূর্ণএই হাউজ বোটে রয়েছে কার্পেট মোড়া বেডরুম। বেডরুমের সাথে এটাচড্ বাথরুম। বোটের ভিতর চেয়ার পাতা। এখানে বসে উপভোগ করতে পারেন লেকের পানিতে সূর্যোদ্বয় এবং সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য।

বোটে রাত্রিযাপন করলে ভূসর্গের রাতের সৌন্দর্যউপভোগ করতে পারবেন। শুধু তাই নয়, হাউজ বোটে বসেই সেরে ফেলতে পারেন কেনাকাটাও। শিবালয় (এক ধরনের নৌকা) করে দোকানিরা বিক্রি করে বিভিন্ন রঙিন ফুল তাজা ফল এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় নানান পন্য।শ্রীনগরে রয়েছে অনেকগুলো রাজকীয় উদ্যান। ঘুরে দেখতে পারেন পাহাড়ের কোলে গড়ে ওঠা উদ্যান চাশমাশাহি। এটি স¤্রাট সাজাহানের আমলে তৈরি। নানা প্রজাতির ফুলে ভরা উদ্যানটিতে ঘুরতে আপনার ভাল লাগবে। উদ্যানের একদিকে ঝরনা। স্থানীয়দের বিশ^াস এই পানি নাকি খুবই উপকারী।

চাশমাশাহি থেকে কিছুটা দূরে প্রমোদ উদ্যান।ফোয়ারায় ঘেরা বাগানটি দরূন সুন্দর। তারপর যেতে পারেন বিখ্যাত মুঘল উদ্যান নিশাত বাগ।
সেখান থেকে বরফে করে ঢাকা পাহাড়ে এবং পাদদেশে ডাল লেকের দৃশ্য আপনাকে মুগ্ধ করবে।ঘুরে দেখতে পারেন সলেমান পাহাড়ের মাথায় মন্দির। এখান থেকে ডাল লেক ও তুষারাচ্ছাদিত পীর পাঞ্চল চুড়োর চমৎকার ভিউ পাওয়া যায়।

কাশ্মীর বিমানে যেতে ঢাকা থেকে ভায়া কোলকাতা দিল্লি যেতে হবে। তারপর এয়ার ইন্ডিয়া বা ন্ডিগোতে শ্রীনগরে যেতে হবে। কোলকাতা থেকে ট্রেনে গেলে হিমগিরি এক্সপ্রেস বা জাম্বু এক্সপ্রেসে প্রথমে জম্বু তারপর গাড়িতে করে শ্রীনগর যেতে পারেন।

শ্রীনগর বেড়াতে গেলে হাউজ বোটে থাকার কোন বিকল্প নেই। অবস্থান আর মানের দিক থেকে ১০০০ টাকা থেকে ৬০০০ টাকার মধ্যে রুম পাবেন। এছাড়াও বিভিন্ন মানের হোটেল রয়েছে শ্রীনগরে। যার মধ্যে হোটেল শাহ আলম, হোটেল মেরিডিয়ান অন্যতম।

অবশ্য যাওয়ার আগেই হোটেল বুকিং করে যাওয়া ভাল। পর্যটন মওসুমে পর্যটকের প্রচুর ভিড়
থাকে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: