কুয়াশায় ঢাকা ফাগুর ডাকে ঘুরে আসুন

কলকাতার ব্যস্ত জীবনে রোজ ধুলোবালি মেখে মন খারাপ হলে মনে হয় যদি একটু কোনও শান্ত ধুলোবালিহীন পরিবেশ থেকে ঘুরে আসা যেত। কোনও নির্জন পাহাড়ে সময় কাটানো যেত। এমন নির্জন পাহাড়ি জায়গায় সময় কাটাতে চাইলে আপনার জন্য রইল এই আদর্শ জায়গাটি।

ডুয়ার্স অঞ্চলের একটি নির্জন সুন্দর জায়গা হল ফাগু। গোরুবাথানের পথে লাভা থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই নির্জন ফাগু। ২০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এটি একটি সুন্দর, নির্মল ও শান্তিপূর্ণ জায়গা। মহানন্দা নদীর উপত্যকার দৃশ্যমান আর কাঞ্চনজঙ্ঘার অপূর্ব দৃশ্যের জন্য বিখ্যাত এই জায়গা। আর সাল, পাইনের চিরসবুজ বিস্তৃত অরণ্য আপনার মনকে আনন্দে ভরিয়ে তুলবে নিশ্চই।

কী দেখবেন?

ফাগুতে দেখার মতন তেমন কিছুই নেই। তবে একান্তে পাখির ডাকে ঘুম থেকে উঠতে চাইলে ফাগু আপনার পছন্দের জায়গা হবে।

ফাগুর নিকটবর্তী অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হ’ল গোরুমারা জাতীয় উদ্যান। আশেপাশের অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রগুলির মধ্যে রয়েছে লাভা, রিশপ এবং কালিম্পং। ফাগুর আশেপাশে রয়েছে বেশ কিছু পাহাড়ি গ্রাম। চলে যেতে পারেন সেখানেও। দেখতে পারেন কই সুন্দর ভাবে পরিষ্কার ভাবে রেখেছে তাঁরা গ্রামগুলিকে। এছাড়া সেভোক করোনেশন ব্রিজ এবং তিস্তা নদীর প্রবাহ দেখতে বেশ ভালই লাগবে। আর পাহাড়ি পাখির ডাক, শীতল হাওয়ায় সকালের কাঞ্চণজঙ্ঘা আপনার মন ভরিয়ে দেবে।

নদীর ধারে সূর্যিডুবির দেখতে দেখতে সন্ধ্যে বেলা ক্যাম্প ফায়ার করে একটা ছোট পিকনিক যেমন করতে পারবেন তেমনই আবার পাইনের অধ্যুষিত অরণ্যে ট্রেকিং করার সুযোগও রয়েছে।

আর বিশাল এলাকা জুড়ে চা বাগান ফাগুর মূল আকর্ষণ। চা বাগানের মধ্যেই রয়েছে ব্রিটিশ আমলের বাংলোও। পাশেই রয়েছে একটি বৌদ্ধস্তুপ। দেখে আসতে পারেন সেই জায়গাটিও।

কী ভাবে যাবেন?

বিমানে যেতে চাইলে ফাগু-এর নিকটতম বিমানবন্দরটি হল বাগডোগরা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। যা ফাগু থেকে প্রায় ৯৯ কিলোমিটার দূরে এবং পৌঁছতে প্রায় ৩ ঘণ্টা সময় লাগে।

ট্রেনে যেতে চাইলে নিকটতম রেলওয়ে স্টেশনটি হল নতুন মাল জংশন, যা ফাগু থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার পথ। ফাগু পৌছতে সময় লাগে প্রায় ৩০ মিনিট থেকে ৪৫ মিনিট।

সড়ক পথে কলকাতা থেকে ফাগুর দুরুত্ব প্রায় ৭৪৪ কিলোমিটার। যেতে একদিন সময় লেগে যায়। সেক্ষেত্রে রাত হলে মালদাতে হল্ট করে পরের দিন ফাগুর উদ্দ্যেশে রওনা দিন।

কোথায় থাকবেন?

এখানে কোনও হোটেল নেই। কয়েকটি হোমস্টে রয়েছে। ওখানে গিয়েই বুক করে নিতে পারেন।থাকার পাশাপাশি খাবারের ব্যবস্থাও রয়েছে।

বর্ষাকাল বাদে যেকোনো সময় ঘুরে আসতে পারেন ফাগু থেকে।

তাহলে দেরি করবেন না। কুয়াশায় ঘেরা ফাগু অপেক্ষায় রয়েছে আপনার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: